প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

ছেলে থেকে তৃতীয় লিঙ্গ, সালিশে পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ

4
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় হরমোনজনিত কারণে ছেলে থেকে তৃতীয় লিঙ্গে রূপান্তরিত হওয়ায় সালিশে মনিরুল ইসলাম নামে (২৭) একজনকে পরিবারসহ গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় মনিরুলের বড় ভাই মজনু বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সালিশের দুই মাতব্বরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) গভীর রাতে পৌর এলাকার চর ঘাটিনা গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন- ওই গ্রামের মঞ্জুর আলম (৫৫) ও মেছের আলী (৫২)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৫ বছর বয়স হওয়ার পর চর ঘাটিনা গ্রামের হাফেজ মিস্ত্রীর ছেলে মনিরুল ইসলামের হরমোনজনিত কারণে শারীরিক গঠন পরিবর্তন হতে থাকে।

কিছুদিনের মধ্যেই তিনি তৃতীয় লিঙ্গে রূপান্তরিত হন। মনিরুলের এ পরিবর্তন প্রথম দিকে কেউ কিছু না বললেও পরে সামাজিকভাবে তার সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু হয়। ফলে তিনি তৃতীয় লিঙ্গের লোকদের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন।

এসব নিয়ে স্থানীয় মাতব্বররা গত ১৩ এপ্রিল হঠাৎ সালিশ বসেন। এতে তৃতীয় লিঙ্গে রূপান্তরিত হওয়ায় মনিরুলের পরিবারকে এক মাসের মধ্যে বাড়িঘর বিক্রি করে গ্রাম থেকে চলে যাওয়ার রায় দেয়া হয়। এরপরই গ্রাম ছাড়তে বারবার চাপ দেয়া হচ্ছিল। এ কারণে বাধ্য হয়ে মনিরুলের ভাই মজনু বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ইচ্ছা করে তৃতীয় লিঙ্গে রূপান্তিরিত হইনি। অন্য স্বাভাবিক মানুষের মতো জীবনযাপন করতে চেয়েছিলাম। ছোটবেলা থেকেই আমাকে অন্য মানুষ থেকে আলাদা করা হয়েছে।

সমাজের কেউ আমাকে মেনে নেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে তৃতীয় লিঙ্গের লোকজনের সঙ্গে চলাচল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আর এ কারণেই আমাকে পরিবারসহ গ্রাম ছাড়ার রায় দিয়েছে।

উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক কুমার দাশ জানান, তৃতীয় লিঙ্গে রূপান্তরিত হওয়ার কারণে মনিরুলকে গ্রাম ছাড়ার রায় দেয়া হয়। এ বিষয়ে মনিরুলের বড় ভাই মজনু বাদী হয়ে ১২ জনকে বিবাদী করে মঙ্গলবার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে দুজন মাতব্বরকে গ্রেফতার করা হয়।