মন্ত্রিপরিষদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা ডা. মুরাদ হাসান এক সময় ছাত্রদলের রাজনীতিতে জ’ড়িত ছিলেন। ছাত্রদলের কমিটিতে পদও ছিল তার। নানা অ’পকর্মের অ’ভিযোগও ছিল তার বি’রুদ্ধে। বিতর্কিত মন্তব্য আর অডিও ফাঁ’সের পর তার অ’তীত ইতিহাস বেরিয়ে আসছে।
সম্প্রতি বিতর্কিত মন্তব্য আর কল রেকর্ড ফাঁ’সের পর ব্যাপক আলোচনায় আসেন মুরাদ হাসান। ময়মনসিংহের বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলছেন, এক সময় ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন মুরাদ হাসান। ছিলেন ময়নমনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক। ৯৬-এ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যোগ দেন ছাত্রলীগে।মুরাদ হাসান ছাত্রদলের যে কমিটিতে ছিলেন, ওই কমিটির সভাপতি ডা. সাইদ মেহবুব উল কাদির বলেন, দলের হয়ে প্রচার-প্রচারণা, অবদান ও যোগ্যতা দেখেই পদ দেয়া হয়েছিল মুরাদ হাসানকে।
সাইদ মেহবুব উল কাদির আরও বলেন, মিছিল-মিটিংয়ে তার সরব উপস্থিতিসহ অন্যান্য সাংগঠনিক কার্যক্রমেও সে যু’ক্ত ছিল। যখন কমিটি হয়, তখন সে কমিটিতে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করলে, তার কার্যক্রম দেখে আম’রা তাকে প্রচার সম্পাদকের পদ দেই।মুরাদ হাসান যে কমিটিতে ছিলেন, সে কমিটির অনুমোদন দিয়েছিলেন তৎকালীন জে’লা ছাত্রদলের সভাপতি মোতাহার হোসেন তালুকদার। তার ভাষ্য, মুরাদ বরাবরই সুবিধাবাদী ছিলেন, দলের দুঃসময়ে পল্টি দেন মুরাদ হাসান।
বর্তমান ময়মনসিংহ জে’লা বিএনপির (উত্তর) জৈষ্ঠ আহবায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার আরও বলেন, মুরাদ একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও পল্টিবাজ নেতা। এজন্যই সে ছাত্রদল থেকে ছাত্রলীগে যোগ দেয়।৯৬ এর আ’ন্দোলনে ছাত্রদলের হয়ে রাজপথ কাঁপানো নেতা মুরাদ হাসান নিজ সংগঠনেই কোনঠাসা হয়ে পরেন মা’দকসহ নানা অ’পকর্মের কারণে। ১৯৯৬ সালে সরকার পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে তাই ভোল পাল্টে নাম লেখান ছাত্রলীগে— এমনটাই অ’ভিযোগ করলেন তৎকালীন ছাত্রদল নেতারা।
ময়মনসিংহ মহানগর জে’লা বিএনপির জৈষ্ঠ আহবায়ক আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, সে বাগমা’রায় একটি হোস্টেলে থাকতো। সেখানে সে ম’দ্যপ হিসেবে খ্যাত ছিল। সে নিয়মিত ফেন্সিডিলও সেবন করতো, একবার ফেন্সিডিলের দাম না দিতে পারায় তাকে গাছের সাথে বেঁধে রেখেছিল মা’দক ব্যবসায়ীরা।ডা. মুরাদের বাবা মতিউর রহমান তালুকদার ছিলেন জামালপুর জে’লা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি বঙ্গবন্ধুরও ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। জনশ্রুতি আছে, ছে’লে ছাত্রদলের কমিটিতে থাকায় আক্ষেপ ছিল তার।কিন্তু ছাত্রলীগে যোগ দিয়ে আর পেছনে ফিরে থাকাতে হয়নি মুরাদ হাসানের। ১৯৯৭ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন। ২০০০ সালে একই শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
২০০৩ সালে আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। একই বছর আওয়ামী লীগের জামালপুর জে’লা শাখার সদস্যও হন। এরপর ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী, মেস্টা ও তিতপল্যা) আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মুরাদ হাসান।২০১৪ সালে জামালপুর জে’লার সরিষাবাড়ী উপজে’লা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং ২০১৫ সালে জামালপুর জে’লা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন মুরাদ। ২০১৭ সালে ঘা’তক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সদস্য নির্বাচিত হন।
২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নৌকা প্রতীকে জামালপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৮ সালে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান মুরাদ হাসান। ২০১৯ সালের ১৯ মে সরকারের মন্ত্রিসভায় রদবদল আনা হলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) আজীবন সদস্য মুরাদ হাসান।













































