অনেক সময় দেখা যায় আমাদের মুখের ত্বক ব্রাইট হলেও আমাদের গলা এবং ঘাড়ের ত্বক কালো! গলা এবং ঘাড়ে অতিরিক্ত কালো দাগ থাকায় অনেক সময় অনেক জায়গায় গিয়ে অস্বস্তিতে ভুগতে হয়। আসলে আমাদের এই এরিয়াতে অনেক বেশি ঘাম হয় তাই এই এরিয়াটি মুখের ত্বকের থেকে বেশি কালো হয়ে যায়।
বেশির ভাগ সময়েই আমাদের গলা ও ঘাড় খোলা থাকে। রোদে পুড়ে কিংবা অযত্ন অবহেলার কারণে ঘাড় ও গলার সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়, বেশীরভাগ ক্ষেত্রে খোলা থাকার কারণে অনেক সময় রোদে পুড়ে কিংবা অযত্ন অবহেলার কারণে ঘাড় ও গলার সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। অনেকের ক্ষেত্রেই মুখ বা হাত–পায়ের যত্ন নিলেও গলার কথা একদম ভুলে যান। যেখানে অযত্নের ছাপ চোখে পড়ে গয়না বা কাঁধখোলা পোশাক পরার পর। কিন্তু আপনি সময় করে একটু যত্ন নিলেই আপনার গলা এবং ঘাড়ের ত্বক হয়ে উঠবে অনেক বেশি সুন্দর। কিভাবে? আসুন তবে আজ জেনে নিই কিভাবে আমরা আমাদের গলা এবং ঘাড়ের ত্বকের যত্ন নিব।
গলা এবং ঘাড়ের ত্বকের যত্নে যা করতে হবেঃ- গোসলের আগেঃ যদি আপনি সুন্দর গলা এবং ঘাড় পেতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে প্রতিদিন গোসলের আগে যত্ন নিতে হবে। কারণ বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের গলা এবং ঘাড়ে কালচে দাগ পরে এবং ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে যেতে শুরু করে। এজন্য প্রতিদিন গোসলের আগে টকদই আর হলুদের প্যাক তৈরি করে নিন। তারপর এই প্যাক দিয়ে গলা ও ঘাড়ের ত্বকে সুন্দরভাবে তা ম্যাসাজ করে কিছুক্ষণ রেখে দিন। তারপর ভালো করে দুয়ে গোসল করে নিন। এভাবে প্রতিদিন যত্ন নিলে গলা এবং ঘাড়ের কালচে ভাব, কালো ছোপ ও অন্যদাগ কমে আসবে।
ঘাড়ে ময়েশ্চারাইজার- গোসলের পরেঃ প্রতিদিন গোসলের পর গলা এবং ঘাড়ে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে একদমই ভুল করা যাবে না। অনেকেই এটি করেন না বা একে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু গলা এবং ঘাড়ের যত্নে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য গোসল শেষে ভালো ব্রান্ডের ময়েশ্চারাইজার লোশন ব্যবহার করতে হবে। গোসলের পর ত্বক একটু ভেজা ভেজা থাকা অবস্থায় ময়েশ্চারাইজার লাগালে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। এজন্য প্রতিদিন গোসলের শেষে গলা এবং ঘাড়ে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে।
নিয়মিত স্ক্রাবিংঃ ত্বকের যত্নে স্ক্রাবিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আমাদের গলা এবং ঘাড়ের যত্নে এটি অনেক উপকারি। আসলে আমাদের ত্বকের কোষ একটি নিদির্ষ্ট সময় পর পর মরে যায়। আর এর ফলে আমাদের ত্বকের উপরে একটি মরা কোষের স্তর জমে যায়। যদি এই মরা কোষের স্তরকে পরিষ্কার করা না হয় তাহলে তা ত্বকের জন্য বেশ খারাপ হয়ে উটে। এজন্য নিয়মিত স্ক্রাবিং করা উচিত। এতে ত্বকের উপরিভাগে জমে থাকা মরা কোষের স্তর সরে যায়। আর আপনি যদি সুন্দর গলা এবং ঘাড় পেতে চান তাহলে প্রতি ১০ দিন ১ বার ত্বক স্ক্রাবিং করতে পারেন। চালের গুঁড়া বা সুজির সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করুন। এই মিশ্রণ ম্যাসাজ করলে ত্বকের মৃতকোষ উঠে আসে, ত্বক মসৃণ হয়ে ওঠে।
রাতে ঘুমানোর আগেঃ রাতে ঘুমানোর আগে শুধু মুখের ত্বকের যত্ন নিলেই হবে না। নিতে হবে গলা এবং ঘাড়ের যত্ন। কারন আপনার মুখের মতই গলা এবং ঘাড় আপনার বাহ্যিক সৌন্দর্যের অন্যতম অংশ। এজন্য আপনি যদি সুন্দর গলা এবং ঘাড় পেতে চান তাহলে অবশয় রাতে ঘুমানর আগে আপনার গলা এবং ঘাড়ের যত্ন নিতে হবে। এজন প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে হাত মুখ ধুতে একটি ভেঁজা টাওয়েল বা কাপড় দিয়ে গলা এবং ঘাড়ের আশের পাশের জায়গা গুলো ভালো ভাবে পরিষ্কার করে নিন।
এরপর খুব ভালো করে ব্রান্ডের ময়েশ্চারাইজার লোশন লাগাতে হবে। এর ফলে এস্থানের সৌন্দর্য ফিরে আসতে একদমই সময় লাগবে না। এছাড়াও বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের গলা এং ঘাড়ের ত্বক ক্যামন যেন কালচে হতে শুরু করে এবং ভাঁজ পড়তে দেখা যায়। যা আমাদের অনেক সময় বেশ ভাবিয়ে তোলে এজন্য ব্যবহার করতে পারেন লেবু। লেবুতে আছে ভিটামিন সি। আর ভিটামিন সি ত্বক ফর্সাকারি উপাদানে সমৃদ্ধ। এটি ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল এবং ফর্সা করে তুলতে সাহায্য করে।
এতে থাকা অ্যান্টি-এজিং প্রপার্টিজ ত্বক বুড়িয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও ত্বকের পিগমেন্টেশন রিমুভের সাথে সাথে ডার্ক স্পট এবং সান বার্ন কমাতেও সাহায্য করে। ত্বক বুড়িয়ে যাওয়া, ডার্ক স্পট এবং পিগমেন্টেশনের মতো স্কিন প্রব্লেমের বিরুদ্ধে কাজ করে। ত্বককে ন্যাচারালি ফর্সা করতে সাহায্য করে লেবু।
ত্বককে ন্যাচারালি ফর্সা করতে সাহায্য করে লেবু: এছাড়াও ঘাম নিয়ন্ত্রণের সাথে সাথে ত্বককে ফ্রেশ রাখতে সাহায্য করে। একই সাথে অ্যালোভেরাও ব্যবহার করতে পারেন। অ্যালোভেরা জেল ত্বককে হাইড্রেড করে এবং এতে থাকা প্রাকৃতিক কুলিং এজেন্ট ত্বকে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
ছাড়াও হলুদও অনেক উপকারি। কারণ হলুদে থাকা অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান ব্রণের সমস্যা কমায় ন্যাচারালি। ত্বকের বয়স ধরে রাখতে এবং স্কিনের ইলাস্টিসিটি ধরে রাখতে সাহায্য করে।













































