প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

‘ক্লিনিকের মালিক-চিকিৎসক আমা’র মে’য়েকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন’

4
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

সাভা’রের আশুলিয়ায় এক নবজাতককে নি’খোঁজের আটদিন পর উ’দ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে পু’লিশ। নবজাতকটিকে বিক্রি করে দেওয়ার অ’ভিযোগে এরই মধ্যে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার নিউ মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসকসহ পাঁচজনকে গ্রে’প্তার করেছে পু’লিশ। আশুলিয়া থা’নার উপপরিদর্শক (এসআই) এম’দাদুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন।

গতকাল সোমবার নিউ মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বিভিন্ন স্থানে রাতভর অ’ভিযান চালান আশুলিয়া থা’নার এসআই এম’দাদ, সুদীপ কুমা’র গোপ ও আসওয়াদুর রহমান। এ সময় পাঁচজনকে আ’ট’ক করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নবজাতকটিকে সিরাজগঞ্জ থেকে উ’দ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নবজাতকের বাবা বাদী হয়ে মানবপাচার আইনে মা’মলা করেছেন।

গ্রে’প্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজে’লার খোসগড় গ্রামের বাসিন্দা ও ক্লিনিকের চিকিৎসক মোস্তফা কামাল (৩৯), টাঙ্গাইলের মির্জা’পুর উপজে’লার হাতরুড়া গ্রামের আবু হানিফ (৪০), নওগাঁর মান্দা উপজে’লার বৈলশিং গ্রামের হানিফ বিন কুতুব (৪২), শরীয়তপুরের সখিপুর থা’নাধীন কাঁচিকা’টা গ্রামের মোহাম্ম’দ সুমন মিয়া (২৯) ও সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজে’লার নতুন দাতপুর গ্রামের অয়েজুল। এর মধ্যে নবজাতক ক্রয়ের অ’ভিযোগে অয়েজুলকে গ্রে’প্তার করা হয়।

ভুক্তভোগী দম্পতি হলেন রাজশাহীর বাগমা’রা উপজে’লার সূর্যপাড়া গ্রামের মো. আবুল কালাম আজাদ (২৮) ও শিখা বেগম (২৬)।

নবজাতকের বাবা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘গত ১৭ মে আমা’র স্ত্রী’র পেটে অনেক ব্যথা হয়। আমি ওই ক্লিনিকে গেলে চিকিৎসক আল্ট্রাসনোগ্রামের পরাম’র্শ দেন। তাঁদের কথামতো আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হলে রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক জানান, শি’শুটি উল্টো হয়ে আছে, মা ও শি’শুর জীবন সংকটাপন্ন। দ্রুত প্রসব করাতে হবে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কথায় রাজি হলে তাঁদের এক নারীকর্মী এসে পাশের ঘোষবাগ এলাকার একটি বাড়িতে আমা’র স্ত্রী’কে নিয়ে যান। পরে সেই বাড়িতে ডেলিভা’রি হয় এবং একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন শিখা। এরপর চিকিৎসক এসে বলেন, আমাদের মে’য়ে খুব বেশি হলে তিনদিন বাঁচতে পারে। ১৫ দিন বাঁ’চাতেও অনেক টাকার দরকার। এসব ভুল বুঝিয়ে আমা’র স্ত্রী’র কাছ থেকে নবজাতককে নিয়ে যান তাঁরা। পরে সন্তান ফেরত চাইলে তাঁরা ৫৫ হাজার টাকা দাবি করেন।’

নবজাতকের মা শিখা খাতুন বলেন, ‘আমি গার্মেন্টসে সহযোগী হিসেবে কাজ করি। আমি তো এত কিছু বুঝি না। উল্টাপাল্টা বুঝিয়ে ওই ক্লিনিকের মালিক-চিকিৎসক মিলে আমা’র মে’য়েকে সিরাজগঞ্জে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। পরে থা’নায় খবর দিলে আমা’র সন্তানকে ফিরিয়ে আনে পু’লিশ।’

আশুলিয়া থা’নার এসআই এম’দাদুল হক বলেন, ‘ভুক্তভোগীর অ’ভিযোগের ভিত্তিতে এসআই সুদীপ কুমা’র গোপ ও এসআই আসওয়াদুর রহমানসহ ওই ক্লিনিকে অ’ভিযান পরিচালনা করি। সেখানে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে চারজনকে আ’ট’ক করা হয়। পরে রাতভর অ’ভিযান পরিচালনা করে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থেকে নবজাতকটিকে উ’দ্ধার করে তার প্রকৃত মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আ’সামিদের বি’রুদ্ধে মানবপাচার আইনে মা’মলা করে তাঁদের গ্রে’প্তার দেখানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তাঁদের আ’দালতে পাঠানো হয়েছে।’