প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

কেন শেখ হাসিনা খালেদার ব্যাপারে মানবিক

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি। সাবেক অর্থমন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ এ এম এস কিবরিয়া সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হলেন হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজার প্রাইমারি স্কুল প্রাঙ্গণে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে অনুরোধ করা হলো একটি হেলিকপ্টার দেওয়ার জন্য যাতে দ্রুত মুমূর্ষু কিবরিয়াকে ঢাকায় নিয়ে এসে বাঁচানোর শেষ চেষ্টাটা করা যায়। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার হেলিকপ্টার দিলো না। একটি এম্বুলেন্সে করে রক্তাক্ত, মুমূর্ষু সাবেক অর্থমন্ত্রী এবং মুক্তিযোদ্ধা কিবরিয়াকে ঢাকায় নিয়ে আসার পথে তিনি মারা গেলেন। ২০২১ এর মে, বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে আছেন। তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার বেগম জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার জন্য একটি আবেদন করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই লকডাউের মধ্যেও সেই আবেদন রাতেই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আইন মন্ত্রণালয় লকডাউন ভেঙে এই আবেদন পর্যালোচনা করেছে এবং বিকেল তিনটার মধ্যে রিপোর্ট দিয়েছে আইনমন্ত্রীর কাছে। বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার যেনো নির্বিগ্ন হয় সে জন্য ছুটির দিনও পাসপোর্ট অফিস খোলা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক সুস্থতা কামনা করে সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ সব নেতা।

এ দুটি ঘটনার পার্থক্য দিলেই শেষ হবে না। বেগম খালেদা জিয়া হলেন সেই ব্যক্তি যিনি প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটনো হয়েছিলো। ২০০৪ এর ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনাটি ছিলো পুরোপুরি ভাবে শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে এবং পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় দেবার জন্য। আর এই ঘটনার দায় বেগম জিয়ার ওপর বর্তায় এ কারণেই যে, এই ঘটনার পর পর তিনি জাতীয় সংসদের এক ভাষণে এই ঘটনাকে আওয়ামী লীগের কোন্দলের ফসল হিসেবে বলার চেষ্টা করেছিলেন। শুধু তাই করেননি এই হামলার সমস্ত আলামত তার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন বাহিনী নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় জজ মিয়া নাটক সাজানো হয়েছিলো এবং সেই নাটকের মাধ্যমে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার মূল হোতাদের আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিলো। আর সেই বেগম খালেদা জিয়াই যখন সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন বিমুখ হয়েছেন, যখন তার মুক্তির কোনো পথ নেই তখন প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে যে, খালেদা জিয়ার ব্যাপারে শেখ হাসিনা কেন এত মানবিক? যে রাজনীতিবিদ তাকে নিঃশেষ করতে চেয়েছিলো, পৃথিবী থেকে চিরবিদায় জানতে চেয়েছিলো, যে রাজনীতিবিদ সুযোগ পেলেই তাকে নিঃশেষ করে দিতে চায় তার ব্যাপারে কেন শেখ হাসিনা মানবিক? যে রাজনীতিবিদ যখন ক্ষমতাবান ছিলেন তখন মানুষকে ন্যূনতম মর্যাদা দিতেন না, মানবিক মূল্যবোধ ছিলো না, তার প্রতি কেন তিনি মানবতা দেখান? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় যে, শেখ হাসিনার চারিত্রিক প্রকাশটিই হলো মানবিক। তিনি মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখতে পারেন না। চরম শত্রুর প্রতিও তিনি মানবতা দেখান। তার এই চারিত্রিক বৈশিষ্টটি অনেকটা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতই। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পর যে সমস্ত রাজাকার-আলবদর দালালদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো তাদের অনেকেই ছিলেন বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের ব্যাপারে আইনের প্রয়োগ করলেও তাদের বিভিন্ন রকম সহযোগিতা করেছেন।

মুসলিম লীগের কয়েকজন নেতা যখন জেলে ছিলেন তখন বঙ্গবন্ধু তাদের পরিবারকে টাকা পাঠাতেন। ঠিক একই গুণ আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে। যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পঁচাত্তরের খুনিদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়েছে, স্বাধীনতা বিরোধীদের লালন পালন করেছে এবং তাকে হত্যার চেষ্টা করেছে সেই রাজনীতিবিদকে তিনি কেবল মুক্তিই দেন নি এখন তার বিদেশে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন। কিন্তু চরম শত্রুর ব্যাপারে অতি মানবিক হলে তার মূল্য দিতে হয়। শেখ হাসিনা কি তেমন মূল্য দিবেন?