প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

ওদের স্বপ্ন মাথায় বন্দি!

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

সামনে ঈদ, সাড়ে ৩শ জনের মতো ৮ থেকে ১৫ বছরের শি’শু। থরে থরে সাজাচ্ছে শাড়ি কাপড়। কিছু শি’শু আবার ট্রাকে ভরছে। আবার কিছু শি’শু শাড়ীর পরিবহন আসবে কখন সেই অ’পেক্ষার প্রহর গুনছে।

কাজ আর কাজ। কাজের জন্য কথা বলা বারণ। একজন আরেকজনের সঙ্গে কথা বললে মজুরি কর্তন। মহাজনের কঠোর নির্দেশ রয়েছে কারও সঙ্গে কথা বলা যাবে না।সিরাজগঞ্জের শাহ’জাদপুর পৌরসভা’র দারিয়াপুর কাপড়ের হাটের চিত্র এটি। এখানে সপ্তাহে ৪ দিন শাড়ী কাপড়ের হাট লাগে। দোকানও রয়েছে প্রায় ৫ শতাধিক।

এসব দোকানের মালামাল সাজানো ও পরিবহন থেকে নামানো ওঠানোর কাজ করানো হয় কোমলমতি শি’শুদের দিয়েই। মহামা’রি করো’নার মধ্যে দোকান মালিকরা এসব শি’শুর লেখাপড়া বাদ দিয়ে শ্রমিক হিসেবে কাজ করাচ্ছে। তবে শি’শুদের দিয়ে কঠোর পরিশ্রম করালেও সংশ্লিষ্ট উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা ও স্থানীয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। এ যেন কোমলমতি শি’শুদের স্বপ্ন পুড়ছে কাপড়ের ঘাট্টিতে।

ওই সব শি’শু শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেউ কেউ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিতে পড়ে। কিন্তু করো’নায় বন্ধ। আবার কেউ কেউ এখন আর বিদ্যালয়ে যায় না। কেউ নিজে থেকেই, আবার কেউ মা-বাবার অভাব অনাটনে মালিকের পরামশ্রে কাজে এসেছে। প্রতিদিন শাড়ী কাপড়ের ঘাট্রি পরিবহন থেকে নামিয়ে মা’থায় নিয়ে দোকানে পৌঁছানো, আবার পরিবহনে তোলাসহ সব কাজেই নিয়োজিত এসব শি’শু। কাজ করা কয়েকজন শি’শুর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা সরাসরি বলেন, দোকান মালিকের বারণ আছে।

মজুরি কত জানতে চাইলে কাজ করা শি’শুরা বলেন, কাজের ওপর কেউ ৪০ টাকা দেয় আবার কেউ ৫০ টাকা দেয়। দিন সব মিলে ১শ থেকে ১শ ৫০ টাকা হয়।দারিয়াপুর কাপড়ের হাটের পাইকারি কাপড় ব্যবসায়ী মো. হাসান বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় ওরা পিতা-মাতার অভাবের কারণে হাটে এসে এসব কাজ করে। আম’রা না করলেও মানেনা।

এদিকে শি’শু শ্রম বন্ধ করতে সরকার কঠোরভাবে নির্দেশ দিলেও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গু’লি দেখাচ্ছে শাড়ী তৈরির কারখানা থেকে শুরু করে দোকান মালিকরা। শুধু তাই নয় জে’লার ইটভাটা, হোটেল রেস্তেরা ছাড়াও বিভিন্ন কর্মে স্বল্প মজুরিতে কাজ করছে শি’শুরা। তবে প্রশাসনের নীরব ভূমিকাও স’ন্দেহের চোখে দেখছে সমাজের সচেতন মহল।

এ প্রসঙ্গে জে’লা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্ম’দ বলেন, শি’শু শ্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তারপরও যদি কোথাও শি’শু শ্রম ব্যবহার হয়। তাহলে খোজ নিয়ে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।