করোনা মহামারিতে অনেকেই হারিয়েছেন কাজ। বন্ধ হয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য, কমেছে আয়। এ অবস্থায় আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সামাজিক সুরক্ষা খাতে। বাড়ানো হয়েছে বরাদ্দ। খাদ্য উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে কৃষি খাতেও।
দেড় বছর ধরে পৃথিবীতে তাণ্ডব চালাচ্ছে করোনাভাইরাস। এতে ছন্দহীন অর্থনীতির চাপে স্থবির ব্যবসা-বাণিজ্য; কাজ হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে লাখ লাখ মানুষ। দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন কয়েক লাখ প্রবাসী। নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে আড়াই কোটির বেশি মানুষ।
এ অবস্থায় আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সামাজিক সুরক্ষা খাতে। আগামী অর্থবছরে জন্য এখাতে এক লাখ ৭ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ১১ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা বেশি।
জিডিপিতে কৃষির সরাসরি অবদান কমে গেলেও দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪২ শতাংশের বেশি নিয়োজিত এই খাতে। তাই তো চলতি অর্থবছরের চেয়ে এক হাজার ৯৩১ কোটি টাকা বাড়িয়ে আগামীর অর্থবছরের জন্য কৃষি খাতে ৩১ হাজার ৯১২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যয় কৌশলের ওপরই নির্ভর করবে অর্থ বরাদ্দের সুফল। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম আবু ইউসুফ বলেন, এখন যেটি করা দরকার সেটা হচ্ছে এদের যে তালিকা সেটার স্বচ্ছতা সবাই যেন দেখতে পারে। অন্তত তার চেয়ে বেশি দরিদ্র লোকজন যাতে পেয়ে থাকে। আশা করি কৃষি গবেষণা খাতেও আরও বেশি বরাদ্দ দেওয়া হবে। কারণ এই গবেষণার ফল কিন্তু আমরা অনেক বেশি পেয়েছি।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবারের বাজেটে কৃষি খাতে ভর্তুকি ও প্রণোদনা রাখা হয়েছে ১০ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১৬.৮৩ শতাংশ এবং জিডিপির ৩.০১ শতাংশ।
২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৮১ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা। কারণ, বর্তমানে ১৩২টি কর্মসূচির আওতায় প্রায় এক কোটি দরিদ্র মানুষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলেও সুবিধাবঞ্চিতদের ৪৬ শতাংশ এখনও রয়েছে এই সুরক্ষার বাইরে।













































