প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

ঋতুপর্ণ ঘোষ কখনই ‘অতীত’ হবেন না!

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

‘আম’রা কী’ভাবে বেঁচে আছি, সেটা জরুরি নয়, আম’রা কী’ভাবে বাঁচতে চাই সেটা জরুরি। চিত্রাঙ্গদায় সেই বাঁচতে চাওয়ার গল্পটাই বলতে চেয়েছিলেন ঋতুপর্ণ।

নারীসুলভ পুরুষ রুদ্রের সাথে ঋতুপর্ণের মিল খুঁজে নিক দর্শক এমনটাও চেয়েছিলেন তিনি। তাহলে কি তিনি নিজের বাঁচতে চাওয়ার গল্পটা বলতে বেছে নিয়েছিলেন চলচ্চিত্রের ভাষা?তার প্রথম ছবি হীরের আংটি মুক্তি পায় ১৯৯২ সালে, যার মাত্র এক সপ্তাহ আগে মা’রা যান সত্যজিৎ রায়।

নিজের প্রথম ছবি সত্যজিৎ রায়কে দেখাতে না পারার আক্ষেপ সারাজীবন পুষে রেখেছিলেন ঋতুপর্ণ। রবীন্দ্রনাথ আর সত্যজিৎ রায়কে মনে প্রা’ণে ধারণ করতেন তিনি। তাদের দর্শন তার সিনেমায় ফুটে উঠতো।

আরও একজন ছিলেন যিনি তার খুব কাছের মানুষ। তিনি হলেন অ’পর্ণা সেন। আপন বোনের মতোই অ’পর্ণাকে ভালোবাসতেন ঋতু। অ’পরিচিত এক ঝাকড়া চুলের ছে’লে সিনেমা’র গল্প নিয়ে অ’পর্ণাকে বলেছিলেন ‘আপনি কি আমা’র গল্পটা একটু শুনবেন’, সেই থেকে কবে যে আপনিটা ‘তুই’ তে বদলে গেছে কেউ বুঝতে পারেনি।

কথা ছিল শেষ বয়সে দুজন একসাথে থাকবেন, নিজেদের সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করে নেবেন। কিন্তু তা আর হলো কই। বড় তাড়াতাড়ি চলে গেলেন ঋতুপর্ণ, যেই আক্ষেপ আজও পুষে রেখেছেন অ’পর্ণা। ‘রিঙ্কুর চলে যাওয়া টা ঠিক হয়নি, ইটস আনফেয়ার’ চোখ ভরা জল নিয়ে ভা’রী গলায় বলেছিলেন অ’পর্ণা।

ক্ষণজন্মা এই নক্ষত্র এক জীবনে কত মানুষকে মুগ্ধ করে গেছেন তার হিসাব নেই। দুই দশকের কর্মজীবনে তিনি বারোটি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। সৌমিত্র, মুনমুন, রিয়া, রায়মা, ঐশ্বরিয়া, অমিতাভ, প্রসেনজিৎ কার সাথে কাজ করেননি তিনি!

বাণিজ্যিক ঘরানার এসব অ’ভিনয়শিল্পীকে তিনি দিয়েছিলেন অন্য পরিচয়, যেন মুক্তির স্বাদ খুঁজে দিয়েছিলেন তিনি। নিজেও মুক্তির স্বাদই খুঁজেছিলেন। ভা’রতের অনাধুনিক সমাজে তিনি রূপান্তরকামী হয়ে সগৌরবে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। নিজের সমকামিতার কথাও স্বীকার করছেন অকপটে। ভা’রতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসে এমন সাহসী ব্যক্তিত্ব কমই খুঁজে পাওয়া যায়।

২০১৩ সালের ৩০ মে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মা’রা যান ঋতুপর্ণ। তার মৃ’ত্যুতে গভীর শোক নেমে আসে। এক নিদারুণ শূন্যতায় ভেসে যায় চলচ্চিত্র অঙ্গন। যার অস্তিত্ব আজও আছে মানুষের হৃদয়ে। তাইতো অ’তীত নয় ঋতু, আজও তিনি বর্তমান।