
বাংলা ম্যাগাজিন রিপোর্ট:- ইসরাইলি হামলায় প্রাণ গেছে পরিবারের ৫ সদস্যের। ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে আছেন আলা আবু হাতাব ও তার চার বছর বয়সী শিশুকন্যা মারিয়া। একই সময় বোমা
আরও চারজনকে চোখের সামনে মরতে দেখেছে তারা। প্রিয়জনদের হারিয়ে প্রচণ্ড যন্ত্রণা বুকে চেপে দিন কাটছে আবু হাতাবের। ১৫ মে ঈদের তৃতীয় দিনে আবু হাতাবের
বাড়িতে বোমা হামলা চালিয়েছিল ইসরাইলি বাহিনী। গাজার উত্তর অংশে বসবাস করতো আবু হাতাবের পরিবার। ইসরাইলি বোমা হামলায় হাতাবের স্ত্রী ইয়াসমীন হাসান, ছেলে ইউসুফ, বিলাল, ইয়ামিন ও মেয়ে মরিয়ম নিহত হন। একই হামলায় হাদিদি পরিবারের মাহা এবং তার সন্তান সোয়াইব, ইয়াহিয়া, আবদুর রহমান ও ওসমান নিহত হন। যারা ঈদ উদযাপনে আবু হাতাবের বাড়িতে এসেছিল। হাদিদি পরিবারের পাঁচ মাস বয়সী ওমর এবং আবু হাতাবের চার বছর বয়সী মেয়ে মারিয়াকে বোমা হামলায় ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা হয়। এটা শুধু হাদিদি পরিবার বা আবু হাতাব পরিবারের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটেছে তা নয়। গাজায় ইসরাইলি বর্বরতায় এমন ঘটনা
ঘটেছে অহরহ। এখন আবু হাতাব এবং তার চার বছর বয়সী মারিয়া একে অপরকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার স্বপ্ন বুনছে। মারিয়া বা আবু হাতাবকে বাকি জীবন ইসরাইলি বর্বরতার দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াতে হবে। সুখের সময়গুলো চাপা পড়ে গেছে ভবনের ধ্বংসাবশেষের নিচে। আবু হাতাব আনাদুলু অ্যাজেন্সিকে বলেন, আমি এবং আমার দুই বোন শৈশব থেকেই অনাথ হিসেবে বড় হয়েছি। আমার বোন মাহা তার পাঁচ সন্তান নিয়ে ঈদ উদযাপন করতে আমার বাড়িতে আসে। বোমা হামলা এমন সময় হয় যখন আমি রুটি কেনার জন্য যাচ্ছিলাম। ‘বোমা বিস্ফোরণের শব্দ কানে আসল নিকটবর্তী কোনো জায়গা থেকে। কুণ্ডলী পাকিয়ে আকাশের দিকে উঠছে ধোঁয়া। আমরা দ্রুতই ঘটনাস্থলের দিকে ছুটতে লাগলাম কোথায় বিস্ফোরণ হয়েছে তা দেখার জন্য। দেখলাম আমার ঘরেই হামলা হয়েছে। আমার ভবনটি ধ্বংস হয়ে গেছে, যেখানে আমার এবং আমার বোনের সন্তানরা ছিল। আমি সেখানে দাঁড়ানোর মতো শক্তি পাচ্ছিলাম না। আমি হুঁশ হারিয়ে ফেলি। যখন চোখ খুললাম তখন দেখি আমি হাসপাতালে’, বললেন আলা আবু হাতাব। কোনো ধরনের সতর্কতা ছাড়াই এ হামলা হয়েছে জানিয়ে আবু হাতাব বলেন, তারা আমার বাড়ি লক্ষ্য করে ৬টি রকেট নিক্ষেপ করে তা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। হাতাব এখনও বুঝতে পারছেন না কেন এমন বর্বর হামলা চালানো হয়েছে। যে হামলায় প্রাণ গেছে ১০ জনের। যার মধ্যে রয়েছে ৮ শিশু এবং ২ নারী। ‘আমি কোনোভাবেই এ নৃশংসতা মেনে নিতে পারছি না। কোনো মানুষ এমনটা করতে পারে না। যারা এ বর্বর হামলা চালিয়েছে তারা মানুষ নয়। কেন তারা বাড়িগুলো ধ্বংস করে দিল। বাড়ির মধ্যে ছিল নারী ও শিশুরা। তারা ইহুদীদের কি ক্ষতি করেছে? তারা কি ইহুদিদের লক্ষ্য করে রকেট নিক্ষেপ করেছে বা তাদের গুলি করেছে। তারা হয়তো নিরপরাধ শিশুদের হত্যার অভিলাষ থেকেই এ হামলা চালিয়েছে’, যোগ করেন আবু হাতাব। হামলার সময় হাতাবের মেয়ে মারিয়া তার কক্ষে ঘুমাচ্ছিল। হামলা হলে তাকে ঘর থেকে জানালা দিয়ে বাইরে ছুড়ে ফেলা হয়। ‘আমার মেয়েকে পাওয়া গেছে সিঁড়িতে। তখন সে কান্না করছিল। রক্ত ঝরছিল তারা মাথা থেকে এবং সে মাকে ডাকছিল চিৎকার করে। চোখের সামনেই মারিয়া ঘর ধ্বংস হতে দেখেছে। হারিয়েছে মা-ভাইদের। এখন তাকে বিস্ফোরণ, ধ্বংসাবশেষ, ভয়, ধোঁয়ার দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াতে হবে আমৃত্যু’-যোগ করেন হাতাব। ওই হামলার পর থেকে মারিয়ে খুব বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলেনি। তার এখন মানসিক সহায়তা দরকার বলে মনে করেন আবু হাতাব। ‘মারিয়া মাঝেমধ্যে জিজ্ঞাসা করে আমার মা কোথায়? জবাবে আমি তাকে বলি, তোমার মা বেহেশতে।’ মেয়ে মারিয়াকে দাদির বাড়িতে রেখে এসেছেন হাতাব। গৃহহীন হওয়ার পর থেকেই বন্ধু বা প্রতিবেশীদের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে তাকে। আবু হাতাব বলেন, আশকেলন থেকে তারা গাজায় এসে বসতি স্থাপন করেছিলাম। আমি এবং আমার সন্তানরা স্বপ্ন দেখতাম নিরাপদ এবং শান্তিতে বসবাসের। বাচ্চারা ফের আশকেলনে ফিরে যেতে চাইতো। কিন্তু তাদের আর সে সৌভাগ্য হলো না। প্রসঙ্গত, গাজায় ১১ দিনের ইসরাইলি বর্বর হামলায় প্রাণ গেছে ২৫৪ ফিলিস্তিনির। এরমধ্যে ৬৬ জন শিশু এবং ৩৯ জন নারী। আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৯শ ফিলিস্তিনি।













































