প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট এখন…

12
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

যুব;লীগের বহিষ্কৃ;ত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট ক্যাসি;নোকা;ণ্ডে গ্রে;প্তারের পর বেশির ভাগ সময়ই হাসপাতালে থাকছেন। গ্রে;প্তারের পর একটানা ১১ মাস হাসপাতালে কাটিয়ে কা;রাগারে ফিরেছিলেন। তবে সেখানে বেশিদিন থাকা হয়নি। অসুস্থ হয়ে পড়ায় আবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে আছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএসএমএমইউর প্রিজন সেলে সম্রাটের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে। সেখানেই সারাদিন বিছানায় শুয়ে-বসে দিন কাটছে একসময়ের প্রভাবশালী এই নেতার। অসুস্থ থাকায় মামলার শুনানিতেও হাজির হতে পারছেন না। এতে বিলম্বিত হচ্ছে তার বিরু;দ্ধে দা;য়ের করা মা;মলাগুলোর বিচারকাজ।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কা;রাগারের একটি সূত্র জানায়, নানা ধরনের রো;গে ভুগ;ছেন সম্রাট। ১৯৯৮ সালে তার শরীরে একটি পেশমেকার লাগানো হয়। সেটার মেয়াদ ছিল ১৫ বছর। ২০১৩ সালে ওই পেশমেকারের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এছাড়াও কি;ডনি, হা;র্ট, উ;চ্চ র;ক্তচা;পসহ নানা ধরনের অসু;খ নিয়ে বিএসএমএমইউর প্রিজন সেলে ব;ন্দী রয়েছেন তিনি।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কা;রাগারের জেলার মো. মাহবুবুল ইসলাম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘সম্রাট বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের প্রিজন সেলে রয়েছেন। তিনি নানা ধরনের সমস্যায় ভুগছেন।’ পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া সম্রাট হাসপাতালেই থাকবেন বলে জানান তিনি।

ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি। ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যা;বের অভি;যানে অ;বৈধ ক্যা;সিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে তিনি আ;ত্মগো;পনে চলে যান। এরপর ৭ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দ;গ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আর;মানকে গ্রে;প্তার করে র‌্যাব। সেদিন বিকালে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাক;রাইলের ভূইয়া ট্রেড সেন্টারে তার কার্যালয়ে অ;ভিযান চালানো হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অ;ভিযান শেষে ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ার কারণে সম্রাটকে তাৎক্ষণিকভাবে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইনে ছয় মাসের কা;রা;দ;ণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। ঢাকার রমনা থানায় মা;দক নি;য়ন্ত্রণ ও অ;স্ত্র আইনে আরও দুটি মা;মলা করা হয় তার বি;রু;দ্ধে। পরে তার বি;রু;দ্ধে মা;নিল;ন্ডা;রিং ও দু;র্নী;তির মা;ম;লাও হয়।

কোন মা;মলা;র কী অবস্থা

সম্রা;টের বিরু;দ্ধে দা;য়ের করা পাঁ;চটি মাম;লার মধ্যে তিনটিতে অভি;যোগপত্র দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে অ;স্ত্র ও মা;দক মা;মলায় আদা;লতে অভি;যোগ;পত্র দিয়েছে র‌্যাব। দুদ;কের করা অবৈ;ধ সম্পদ অর্জ;ন মাম;লায়ও চা;র্জশিট দেয়া হয়। সিআ;ইডির করা অ;র্থ পা;চারের মা;মলাটি এখনো তদন্তাধীন। এছাড়াও বন্য প্রাণীর চামড়া রাখার অপ;রা;ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত স;ম্রাটকে ছ;য় মা;সের কা;রাদ;ণ্ড দেন।

অ;স্ত্র ও মা;দক মা;মলায় সম্রাট ও তার সহযোগী যুবলীগের ব;হিষ্কৃত নেতা এনামুল হক ওরফে আরমা;নের বিরু;দ্ধে অভি;যোগ গঠনর শু;নানি পিছিয়েছে। সম্রাট অ;সুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকা;র কারণে শুনানি পেছানো হয়।

মা;দক মা;মলায় ২০১৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর আদালতে অভি;যোগপ;ত্র জমা দেয় র‌্যা;পিড অ্যাক;শন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। অভি;যোগপত্রে বলা হয়, যুবলীগ নেতা সম্রাট জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তার সহযোগী আরমানের সহযোগিতায় তিনি মা;দক;দ্রব্য সং;গ্রহ ও সংর;ক্ষণ করেন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা মা;দকদ্র;ব্যের কো;নো বৈ;ধ কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।

ঢাকার দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি হিসেবে ক্ষমতার অ;পব্য;বহার করে রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাব পরি;চালনা করতে;ন সম্রাট। তার নিয়;ন্ত্রণেই এসব ক্লা;বে ক্যাসি;নোস;হ জু;য়ার আ;সর বসত। এভাবে বিপুল অ;র্থসম্প;দের মালি;ক হন এই প্রভাবশালী নেতা। প্রতি মা;সে ক্যা;সিনো খে;লার জন্য সি;ঙ্গাপু;রেও; যেতেন তিনি। সরকারি ও বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাঁ;দা;বা;জি ও টে;ন্ডার;বা;জি করতেন। তার সহযোগী ছিলেন কাউন্সিলর মমিনুল হক ওরফে সাঈদ এবং যুবলীগের বহি;ষ্কৃ;ত নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া।

অভি;যোগপ;ত্রে আরও বলা হয়, আ;সা;মি;দের কাছ থেকে পাওয়া ম;দ ও ই;য়াবা;র রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের কাছে মোট ১৯ বোতল বিদেশি ম;দ পাওয়া গেছে, যার দাম ৯৫ হাজার টাকা। আর জ;ব্দ করা ই;য়া;বার দাম তিন লাখ ৪৮ হাজার টাকা।

২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর সম্রাটের বি;রু;দ্ধে অ;স্ত্র মা;মলা;য় আ;দালতে অভি;যোগ;পত্র জমা দেয় র‌্যাব। অ;ভিযা;নে সম্রাটের কাক;রাইলের কা;র্যালয়ে ক্যাঙা;রুর দু;টি চা;মড়া, মাদ;ক ও অ;স্ত্র পাওয়া যায়। এছাড়া এক হাজার ১৬০টি ই;য়া;বা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ;র‌্যাব বাদী হয়ে সম্রা;টের বিরু;দ্ধে; মা;দ;ক ও অ;স্ত্র আইনে পৃথক দুটি মা;ম;লা করে।

এ ব্যাপারে ঢাকার সপ্তম মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মাহবুবুর রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আসা;মি স;ম্রাট অসুস্থ থাকায় এখন পর্যন্ত তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। ফলে এই দুই মা;মলার অ;ভিযোগ (চার্জ) গঠন করা যাচ্ছে না। তিনি ( সম্রাট) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় আদালত অভিযোগ গঠনের শুনানির নতুন দিন ঠিক করেছেন।’

এদিকে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আর;মানের মা;নিল;ন্ডা;রিং মা;মলা;য় তদন্ত এখনো শেষ করতে পারেনি পুলিশের অ;পরা;ধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এই মা;মলা;য় প্রতিবেদন দেয়ার জন্য আ;গামী; ৯ মে পরবর্তী দিন ধার্য করেছে আদালত।

২০১৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর রমনা থানায় মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে ১৯৫ কোটি টাকা পা;চা;রের অভি;যো;গে মাম;লা;টি করেন সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের উপ-পরিদর্শক রাশেদুর রহমান।

মা;মলা;র এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ইসমাইল চৌধুরী রাজধানীর মতিঝিল, ফকিরাপুল, পল্টন, কাকরাইল এলাকায় অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন অবৈধ ক;র্মকা;ণ্ডে;র মাধ্যমে বিপুল পরি;মাণ অ;বৈধ অর্থ উ;পার্জ;ন করে আ;নুমানিক ১৯৫ কোটি টাকা এনামুল হক আরমানের সহায়তায় সিঙ্গাপুর ও মাল;য়েশি;য়ায় পা;চার করেছেন। আ;সামি;দের বিদেশ গমনের তথ্য প;র্যালো;চনা করে জানা যায়, সম্রাট ২০১১-১৯ সাল পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে ৩৫ বার, মাল;য়েশি;য়ায় তিন বার, দুবাইয়ে দু;ইবার এবং এক;বার হংকং ভ্রমণ করেছেন। একই সময়ে আরমান ২৩ বার সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করেছেন।

এ ব্যাপারে সিআইডির অর্গা;নাই;জড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. হুমায়ুন কবির ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘তার বি;রু;দ্ধে অর্থ পা;চা;রের মা;ম;লাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।’২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর ইসমাইল হোসেন চৌধুরী স;ম্রা;ট্রের বি;রু;দ্ধে মাম;লা করেছে দু;র্নী;তি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। সম্রাটের বি;রু;দ্ধে দুই কোটি ৯৪ লাখ টাকার অ;বৈধ সম্পদ অ;র্জনের অভি;যো;গ আনেন। মা;মলা;টির তদন্তের দায়িত্বও পান ওই কর্মকর্তা। দুদ;কের করা এই মা;মলা;য়ও তার বি;রু;দ্ধে অভি;যো;গপত্র (চার্জশিট) দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে মা;মলা;র বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এই মাম;লায় অনেক আগেই তার বিরু;দ্ধে চা;র্জ;শিট দিয়েছি।’

এ ব্যাপারে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল ঢা;কা টাইমস;কে বলেন, ‘এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না। আদালত খুললে ফোন করবেন, জেনে বিস্তারিত বলতে পারব।’