প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

ইউএনও আর এসিল্যান্ড কি খায় আমি দেখব!

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

বরগুনার বেতা’গী পৌর শহরের অস্থায়ী বাজারে অতিরিক্ত মূল্যে ও কেজি প্রতি তরমুজ বিক্রির অভি’যোগে মোবাইল কোর্ট চলাকালীন সময়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এসিল্যান্ড) ও এক আওয়ামী লীগ নেতার ত’র্ক-বিত’র্ক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে নিষে’ধ করেন এবং কড়া হুঁ’শিয়ারি দিয়ে বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতে যদি জ’রিমানা করা হয়, তবে বে’তাগী বাজার বন্ধ থাকবে ‘দেখব ইউএনও আর এসিল্যান্ড কি খায়।’

ওই আওয়ামী লীগ নেতা বেতাগী সদর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম। তবে বিগত দিনে তিনি মা’দক মা’মলার কারণে চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত হন এবং আসন্ন ইউপি নির্বাচনে তাকে দলীয় মনোনয়নও দেওয়া হয়নি।

জানা যায়, সারা দেশের ন্যায় বেতাগীর তরমুজের বাজারো সিন্ডি’কেটের দখ’লে। বেশ কয়েকটি হাত ঘু’রে বৃদ্ধি করা হয় প্রতিটি তরমুজের মূল্য, বিক্রি হয় কেজি দরে। এতে সিন্ডিকেট চ’ক্র লা’ভবান হলেও সাধারণ কৃষকদের কোনো সুফল দিচ্ছে না। বেশ কিছুদিন ধরে সারা দেশে এই সি’ন্ডিকে’টদের বি’রু’দ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা হচ্ছে। তারই ধারা’বাহিকতায় বেতাগীতেও নানা অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার থেকে মোবা’ইল কোর্ট নিয়ে মাঠে নামেন বেতাগী উপজেলা প্রশাসন নির্বাহী ম্যাজি’স্ট্রেট ছিলেন মোসা. ফারহানা ইয়াসমীন।

শনিবার দুপুরে বেতাগী পৌর শহরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার সময় আ. লীগ নেতা নজরুলের তো’পের মুখে পড়েন তিনি। যা একটি ২ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে স্পষ্ট। ভিডিওতে ওই নেতা ম্যাজিস্ট্রটকে বলেন, কি কারণে জরি;মানা করবেন, কেন করবেন, পেয়েছেন কি? আপ;নারা সরকারি চাকরি করেন জরি;মানা আপানারা দিয়ে দেন। যদি জরি;মানা করা হয় তবে বেতাগীর মাছ বাজার, তরকারি বাজার, সব বন্ধ করে দেওয়া হবে দেখব ইউএনও আর এসিল্যা;ন্ড কি খায়। করেন আপনি কত টাকা জ;রিমা;না করবেন? করেন। এই বলে ম্যাজি;স্ট্রেটকে কড়া হুঁ;শিয়ারি দেন আ. লীগ নেতা নজরুল।

পৌর শহরের তরমুজ বিক্রেতা সুজন ও হেলাল বলেন, প্রতি শ’ তরমুজ ১৫ হাজার টাকা দামে ক্রয় করতে হয়। এরপর যদি এমন বাধা দেওয়া হয় তবে লাভ করব কেমন করে। তাছাড়া সারা দেশেই তো কেজি দরে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এসিল্যান্ড) মোসা. ফারহানা ইয়াসমীন বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতে বাধা দেওয়া এটিও বড় ধরনের অ;পরা;ধ। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে এ ধরনের আচর;ণ সত্যিই অ;শোভ;নীয়। আমরা অভি;যোগ পেয়ে বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছি। ক্রয় মূল্য তালিকা ও বিক্রয় মূল্য তালিকা দেখতে চেয়েছি তাতেই ওই আ. লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আমার সঙ্গে বি;তর্ক শুরু করে দেয়। এমন হলে রাষ্ট্রীয় কাজ পরিচালনায় বিরম্ব;না পোহাতে হবে। বিষয়টি ইউএনও স্যা;রের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবিহিত করেছি তার ব্যবস্থা নেবেন।

এমন সব অভি;যোগ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও সম্পর্কে ওই আ. লীগ নেতা নজরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি এরিয়ে যাওয়া যায় না? আমি যা বলার বলে দিয়েছি এ নিয়ে আমি আর কিছু বলব না। বোঝেন কী নিউজ করলে জেল ফাঁ;স হবে।

এ ব্যাপারে বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুহৃদ সালেহীন বলেন, একজন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার সঙ্গে জনপ্রতিনিধি হয়ে এমন আচরণ তার ঠিক হয়নি। আমি জানতে চাইলে তিনি মোখিকভাবে ক্ষ;মা চেয়েছেন। তবে তার বিরু;দ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষর সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।