গেল বছরের শেষের দিকে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসেছিলেন কলকাতার টিভি সিরিয়ালের জনপ্রিয় অ’ভিনেতা ঋষি কৌশিক। ‘এখানে আকাশ নীল’, ‘ইষ্টিকুটুম’ ধারাবাহিক দিয়ে জনপ্রিয়তা পাওয়া এ শিল্পী দ্বিতীয়বারের মত বাংলাদেশের নাট’কে অ’ভিনয় করছেন।
এবার ঈদে তার ‘ফিজিক্স কেমিস্ট্রি ম্যাথ’ ও ‘এই মন তোমা’রই’ দুটো নাট’ক প্রচার হয়েছে। এরইমধ্যে নাট’ক দুটি মিলিয়ন ভিউ ছাড়িয়েছে, সেইসাথে হচ্ছে প্রশংসিত।কাজগুলো নিয়ে কলকাতা থেকে মুঠোফোনে ঋষি কৌশিক বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, কাজের সূত্রে এ নিয়ে আমা’র দ্বিতীয়বার বাংলাদেশে আসা। এর আগেও (গত বছর) এসেছিলাম। এখানকার মানুষজন ভীষণ আন্তরিক। আপ্যায়নে জুড়ি নেই বাংলাদেশের মানুষদের।
বাংলাদেশে কাজ করার অ’ভিজ্ঞতা এক কথায় দারুণ। আমা’র বেশ ভালো লেগেছে। আফরিন জামান লীনার সঙ্গে কাজের বিষয়ে কথা হয়, এরপর তার মাধ্যমে আমি প্রথমবার বাংলাদেশে যাই, এরপর এবছর আবার আসি। তিনটা কাজ করা হয় একসাথে। সেখানে অনেকের সাথেই ভালো বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সেখানকার টেলিভিশনের সুপারস্টার অ’পূর্ব; তার সঙ্গে বেশ ভালো বন্ধুত্ব হয়; একসাথে কাজও হয়।
বেসিক্যালি আমাদের এখানে টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি মানেই হচ্ছে মেগা সিরিয়াল অর্থাৎ ধারাবাহিক। কারণ একটা সিরিয়াল শুরু হওয়া মানেই হচ্ছে এক বছর, দুই বছর কিংবা তারও বেশি সময় লেগে যায়। সেসব সিরিয়ালে একটা চরিত্রে নিজেকে সেট করে ফেলা মানে নিজেকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করাটা খুব কঠিন। বলতে গেলে নিজেকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করা-ই যায় না। একটা চরিত্রে ঢুকে গেলে, সেই সিরিয়ালটা যতদিন চলবে ততদিন সেটা করে যেতে হবে।
যার কারণে এক্সপেরিমেন্টের সুযোগটা থাকে না। সেই তুলনায় বাংলাদেশে যে নাট’কগুলো হয় সেগুলো দুই দিন, তিনদিন কিংবা ম্যাক্সিমাম চারদিন সময় লাগে। সেদিক থেকে এখানে চরিত্রে ভেরিয়েশন আনা যায় খুব সহ’জেই। এক্সপেরিমেন্টের অনেক জায়গা থাকে। এদিক থেকে দুই বাংলার কাজের মধ্যে বিশাল একটা পার্থক্য রয়েছে, আমা’র কাছে মনে হয়।
বাঙালিদের কাজের পরিবেশ বেশ ঘরোয়া, সেটা দুই বাংলাতেই। এছাড়া টেকনিক্যাল দিক তো কিছু আছেই। কলকাতার কাজগুলো হয় বেশ বড় বহরে আর সেখানটা টেকনিক্যালি ওয়েল ইক্যুইপড। এছাড়া সবকিছু প্রায় একইরকম।
প্রচার হওয়া দুটি নাট’ক প্রসঙ্গে এ অ’ভিনেতা বলেন, কাজগুলো নিয়ে আমি বেশ এক্সাইটেড ছিলাম। দেখলাম দর্শকরাও বেশ ভালো রেসপন্স করছেন। ফেসবুকের মাধ্যমে দেখেছি অনেকেই ভালো ভালো মন্তব্য করছেন কাজগুলো নিয়ে। কাছের যারা তারা দেখেও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। আমা’র কলকাতার বন্ধুরাও প্রশংসা করেছেন বেশ। দুটো কাজ থেকেই ভালো সাড়া পাচ্ছি।
আমি যদিও কখনো কমেডি চরিত্র করিনি, এখানে কমেডি চরিত্র করে বেশ ভালোই লেগেছে। চরিত্রগুলোকে ভাঙ্গার সুযোগ পেয়েছি। সবকিছু মিলিয়ে আমি বেশ উপভোগ করছি কাজগুলো, সেইসাথে দর্শকদের ভালোবাসা।তিনি আরও বলেন, আমাদের এখানের মেগা সিরিয়ালগুলো বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। সেই সুবাদে অনেকেই আমাকে মোটামুটি চেনেন। আর সেখানে কাজ করার সুবাদে এখন হয়তো অনেকেই দেখছেন।
ভিউয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভিউ মানেই কিন্তু কাজটা দর্শকরা দেখছেন। কাজ ভালো হলেই সেটা দর্শকরা দেখে এবং সেটার ভিউ হয়। সো, এটা খুবই পজেটিভ দিক। কাজ ভালো হলে সেটার ভিউ হবেই।এখনকার ব্যস্ততা নিয়ে ঋষি বলেন, আমাদের এখানে এখনো লকডাউন চলছে। লকডাউনে শুটিং চলছে না। তবে বাসায় থেকে মোবাইলের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজের শুটিং করতে হচ্ছে। এভাবে কাজ করাটা একটু কঠিনই। সবকিছু কবে ঠিক হয়, এখনো বলতে পারছি না।













































