করোনাভাইরাস মহামারি হয়ে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর ক্রীড়াঙ্গন থেমেছে, আবারও খুলেছেও—খুব সাবধানে। ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক সিরিজ যেমন স্থগিত বা বাতিল হয়েছে, তেমনি জৈব সুরক্ষাবলয়ের ভেতর খেলাও চলেছে। ক্রিকেটের বাণিজ্যিক দিক ভেবে আইপিএলের গুরুত্ব আরও বেশি।
করোনা মহামারি হয়ে ছোবল মারতে থাকলেও আইপিএল তো আর বন্ধ করা যায় না। হাজার হোক খেলোয়াড় থেকে সংশ্লিষ্ট সবার রুটি–রুজি ও টাকা–কড়ি আমদানির সবচেয়ে বড় উৎস তো এ ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) তাই করোনার মধ্যেও জৈব সুরক্ষাবলয় বানিয়ে এবার আইপিএল চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু করোনা হানা দেওয়ায় আইপিএল স্থগিত হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক ইয়ান চ্যাপেল মনে করিয়ে দিলেন, এই মহামারির সামনে ক্রিকেট সত্যিই অসহায়, আইপিএল তার বড় প্রমাণ।
আইপিএল কেন বড় প্রমাণ—আগে ব্যাখ্যা করা ভালো। সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ধনী ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ চলার সময় পারতপক্ষে আন্তর্জাতিক সূচি মাঠে গড়ায় না। মানে, সে সময় আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করা হয় না, যেন বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়েরা আইপিএলে সুযোগ পান। সংগত কিছু কারণেই বিশ্বে আর কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগকে বোধ হয় এতটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। নানা পদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার পরও সেই আইপিএলকে থামিয়ে দিল করোনা—সেখানে ক্রিকেট খেলাটা যে অসহায় নয়, এর পক্ষে যুক্তি খুঁজে পাওয়া ভার।
কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের খেলোয়াড় ও স্টাফরা কোভিড–১৯ পজিটিভ হওয়ার পর স্থগিত হয় আইপিএল। এর মধ্যে ভারতের অবস্থাও ভয়াবহ। দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আজও ভারতে গড় সংক্রমণসংখ্যা সাড়ে ৩ লাখের বেশি।বেশ কিছুদিন ধরেই এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি পার করছে ভারত। এর মধ্যেই জৈব সুরক্ষাবলয় নিয়ে আইপিএলের মাঠে গড়ানো যেন বুঝিয়ে দিচ্ছিল, বাইরে যে পরিস্থিতিই থাক, ক্রিকেটের সবচেয়ে ধনী এবং কিছু ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে করোনার আঁচ লাগবে না।
কিন্তু আইপিএলের জৈব সুরক্ষাবলয়ের ফাঁক গলে ঠিকই সংক্রমণের কামড় দিয়ে গেছে করোনা। ক্রিকেট ছাড়ার পর ধারাভাষ্য এবং বিশ্লেষণেও সুনাম কামানো চ্যাপেল, এই পরিস্থিতিটুকু ক্রিকইনফোয় লেখা কলামে বুঝিয়েছেন এভাবে, ‘ভারতে করোনার সংক্রমণ বাড়ায় জনসাধারণের মধ্যে মৃত্যুর হার বৃদ্ধি ও অংশগ্রহণ করা খেলোয়াড়দের আক্রান্ত হওয়ায় আইপিএল স্থগিত হওয়া ক্রিকেটের অসহায়ত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।’ আইপিএল স্থগিত হওয়ায় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়েও শঙ্কার মেঘ জমেছে।
অক্টোবর–নভেম্বরে ভারতে আইপিএল গড়ানোর কথা। চ্যাপেল মনে করেন, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্থগিত কিংবা ভারত থেকে স্থানান্তর করা হতে পারে, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আইপিএল স্থগিত হওয়া একরকম পূর্বাভাসও। ভারতে বছরের শেষ যে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হওয়ার কথা, তা স্থগিত কিংবা সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।













































