আগে যুগের মুখরোচক বেশ কিছু ছবির দৃশ্যে এমনটা দেখা মিলত। প্রশাসকরা ছদ্মবেশে হাজির হতেন প্রশাসনিক কাজকর্ম খতিয়ে দেখার জন্য। সাধারণ মানুষ সেজে প্রশাসনিক ক’র্তাদের মাঝে যেতেন সমাজব্যবস্থা ঠিকঠাক চলছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য! কিন্তু আজকাল সেসব যে অ’তীত। এখন ডিউটির বাইরে বাড়তি কোন দায়িত্ব নিতে চান না বললেই চলে! কিন্তু এ সময় এখনও কিছু মানুষ আছেন যারা সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে চান। তেমনি এক নজির স্থাপন করলেন ভা’রতের মহারাষ্ট্র প্রদেশের পু’লিশ কমিশনার কৃষ্ণ প্রকাশ।
এনডিটিভির বরাতে জানা যায়, পু’লিশ নিজের কাজ ঠিকঠাক করছে কিনা, সেটা জানার জন্য ছদ্মবেশে থা’নায় থা’নায় হাজির হয়ে তা পরখ করেছেন কৃষ্ণ। তিনি যেভাবে পু’লিশের কাজ খতিয়ে দেখার চেষ্টা করলেন, তা অনেকটা ফিল্মি স্টাইলের মতোই। মূলত সাধারণ মানুষ থা’নায় এসে ঠিকভাবে পরিষেবা পাচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতেই এই উদ্যোগ নিয়েছেন কৃষ্ণ।
সূত্রে জানা যায়, কৃষ্ণ প্রকাশ একজন পাঠানের পোশাক পরে, মুখে নকল দাড়ি-গোঁফ লাগিয়ে একের পর এক থা’নায় হাজির হয়েছিলেন। সঙ্গে নিয়েছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ পু’লিশ প্রেরণা খাটেকে। তাকে নিজের স্ত্রী’ হিসেবে পু’লিশের কাছে পরিচয় দিয়েছিলেন কমিশনার। দুজন একের পর এক থা’নায় হাজির হন। সেখানে নিজেদের অ’ভিযোগ দায়ের করেন। কৃষ্ণ ও প্রেরণা আসলে দেখতে গিয়েছিলেন, সাধারণ মানুষ থা’নায় অ’ভিযোগ দায়ের করতে গেলে কর্তব্যরত পু’লিশ অফিসার কেমন আচরণ করেন। প্রতিটি থা’নায় তাঁরা আলাদা অ’ভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
প্রসঙ্গত, মোটামুটি সবগুলো থা’নাতেই তারা ভালো সহযোগিতা পেয়েছিলেন। কিন্তু সমস্যা বাধে শেষ থা’নায়। ওই থা’নায় কৃষ্ণ গিয়ে অ’ভিযোগ করেন, কোভিড আ’ক্রান্ত রোগী নিয়ে যাওয়ার জন্য একজন অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভা’র তাদের কাছ থেকে অনেক টাকা দাবি করছে। কিন্তু ওই থা’নার কর্তব্যরত অফিসার সেই অ’ভিযোগে সাড়া দেননি। বরং অফিসার তার অ’ভিযোগ নিতে অস্বীকার করেন।
ওই থা’নার পু’লিশকর্মীরা কৃষ্ণকে বলেন, স্থানীয় পু’লিশ ফাঁড়িতে গিয়ে সবার আগে অ’ভিযোগ জানাতে। এই ব্যাপারে কোনও সহায়তা তারা করতে পারবেন না বলে জানান। এর পরই পু’লিশ কমিশনার নিজের আসল পরিচয় প্রকাশ করেন। তারপর ওই থা’নার কর্তব্যরত পু’লিশ অফিসারের কাছে জবাবদিহি চাওয়া হয়। কেনো অ’ভিযোগ নেওয়া হলো না, তার সঠিক ব্যাখ্যা দিতে হবে ওই থা’নার পু’লিশ কমিশনারকে।
উল্লেখ্য, “ বাঘে ছুঁলে ১৮ ঘা, পু’লিশে ছুঁলে ৩৬ ঘা! ” আমাদের দেশের পু’লিশের উচ্চপদস্থ কর্মক’র্তারাও যদি এমনই পদক্ষেপ নিত। তাহলে কতই না ভালো হত দেশ ও সাধারণ মানুষের জন্য।













































