প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

৪ বছরেই বাবা হয়েছেন তিনি!

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

শহর আলী। বয়স ৫৮। স্ত্রী ঝর্ণা বেগম। বয়স ৬৯। এই দম্পতির একমাত্র সন্তান স্বপন। সন্তানের বয়স ৫৪। হিসাব অনুযায়ী, চার বছর বয়সেই বাবা হয়েছেন শহর আলী! আর স্ত্রী তার চেয়ে ১১ বছরের বড়। ভাবেছেন স্বামীর চেয়ে স্ত্রী ১১ বছরের বড় হতেই পারে। এতে দোষের কী! না, তা দোষের নয়। তবে চার বছর বয়সে বাবা হলেন কী করে? এটাও কি সম্ভব? কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি অনুযায়ী এটাই বাস্তব! কোথায় গণ্ডগোল আছে নিশ্চয়ই। তবে এ দায় কার?

মা, বাবা ও ছেলের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যে এমনটিই দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে ওই পরিবারটি আছে বিড়ম্বনায়। ঘটনাটি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নারুয়া গ্রামে।

জাতীয় পরিচয়পত্র সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের নারুয়া গ্রামের মেছের আলী বিশ্বাসের ছেলে মো: শহর আলীর জন্ম ১৯৬৩ সালের ১৮ আগস্ট। আর তার স্ত্রী ঝর্ণা বেগমের জন্ম ১৯৫২ সালের ১৭ মে। এই দম্পতির একমাত্র ছেলে স্বপনের জন্ম হয়েছে নাকি ১৯৬৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি।জন্ম তারিখ অনুযায়ী, বর্তমানে শহর আলীর বয়স ৫৮ বছর, তার স্ত্রী ঝর্ণা বেগমের বয়স ৬৯ বছর আর তাদের ছেলে স্বপনের বয়স ৫৪ বছর।

শহর আলী বলেন, ‘আমার ভোটার আইডি কার্ডে জন্ম তারিখ তারা (তথ্য সংগ্রহকারী) ইচ্ছামতো বসিয়েছে। এ কারণে ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে সরকারি বিভিন্ন সহায়তা পেতে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। আমার চেয়ে যারা ছোট তারাও বয়স্ক ভাতা পাচ্ছে। আর আমি আইডি কার্ড নিয়ে গেলে বলে আপনার বয়স হয়নি। আমার চেয়ে আমার একমাত্র ছেলে চার বছরের ছোট। তাহলে কি আমি চার বছরেই বাবা হয়েছিলাম? আবার আমার স্ত্রীর বয়স আমার চেয়েও ১১ বছর বেশি। এখন কী করবো?’

অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন অফিসে গেলে তারা সংশোধনীর আবেদন করতে বলেন। আমরা গরিব। খেটে খাওয়া মানুষ। কার ভুলে আমরা এখন ভুগছি! আমি বিষয়টি তদন্তপূর্বক জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’

নারুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: আব্দুস সালাম মাস্টার বলেন, ‘আমি তাকে সংশোধনীর জন্য আবেদন করতে বলেছি।’ তবে এ ব্যাপারে নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।