প্রচ্ছদ আবহাওয়া

৩০ বছর পর ঘূর্ণিঝড় ও পূর্ণিমার মিলনের ‘শঙ্কা’

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপ’সাগর এবং তৎসংল’গ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ কার্যত একই এলাকায় স্থির রয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে ঘূর্ণিঝড়টি আরও ঘনীভূ’ত হয়ে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর

‘হতে পারে এবং ২৬ মে ভোর নাগাদ উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূলের নিকট দিয়ে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপ’সাগর এলাকায় পৌঁছতে পারে। আগামী বুধবার স্থলভাগে আছড়ে পড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদ’প্ত র বলছে, পূর্ব-মধ্যবঙ্গোপ’সাগর ও তৎসংল’গ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্প’ষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূ’ত হয়ে একই এলাকায় নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। এটি সোমবার আরও শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত ‘হতে পারে।

১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়টি পূর্ণিমা’র সময় আ’ঘা’ত হানায় ক্ষয়ক্ষ’তি বেশি হয়েছে। ৩০ বছর পর আবারও ভরা পূর্ণিমায় ঘূর্ণিঝড় ‘হতে পারে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আবহাওয়াবিদরা। তারা বলছেন, পূর্ণিমায় এমনিতেই সাগরে জোয়ারের উচ্চতা অন্য সময়ের থেকে বেশি থাকে। ফলে এবারের ঘূর্ণিঝড় শক্তিশালী ‘হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় নিয়ে আত’ঙ্কে আছেন উপকূলের মানুষও। তবে ঝড় মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। প্রস্তুত রয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র। পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহে কন্ট্রোল রুম চালু করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আবহাওয়া অধিদ’প্ত রের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ এ কে এম রুহুল কুদ্দুস বলেন, গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে সুস্প’ষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়।

‘বিকেল ৫টার দিকেও সেটি একই এলাকায় অবস্থান করছিল। নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূ’ত হয়ে সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ‘বিকেল ৫টায় নিম্নচাপটির অবস্থান ছিল চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে; কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে; পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭১০ কিলোমিটার দক্ষিণে।

রুহুল কুদ্দুস বলেন, এটি আরও ঘনীভূ’ত হয়ে গভীর নিম্নচাপে এবং পরে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর ‘হতে পারে। বর্তমান গতিধা’রা অব্যা’হত থাকলে ঘূর্ণিঝড়টি বুধবার নাগাদ ভা’রতের ওডিশা-পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে পৌঁছতে পারে।আবহাওয়া অধিদ’প্ত র জানায়, নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ এখন ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার; যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়া আকারে ৫০ কিলোকিমটার পর্যন্ত বাড়ছে।

নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপ’সাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধ’রার নৌকা ও ‘ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপ’দ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কপবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদ’প্ত র। দেশের কোথাও কোথাও বৃ’ষ্টিরও আভাস দেওয়া হয়েছে।

তবে ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে প্রবেশ করতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদ’প্ত রের বার্তার সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করেন কানাডার সা’সকাচুয়ান ইউনিভা’র্সিটির আবহাওয়া ও জলবায়ুবি’ষয়ক বাংলাদেশি পিএইচডি গবেষক মোস্তফা কামাল।রোববার তিনি বলেন, কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রা’প্ত সর্বশেষ উইন্ড শিয়ারের (উচ্চতার সঙ্গে বায়ুপ্রবাহের দিকের পরিবর্তন) মানচিত্র, সমুদ্রপৃষ্ঠে পানির তাপমাত্রা, সমুদ্রপৃষ্ঠে পানির গড় উচ্চতার বিচ্যুতি ও বঙ্গোপ’সাগরের দীর্ঘ ৪০ বছরের ঘূর্ণিঝড়ের বৈশি’ষ্ট্য বিশ্নেষণ করে দেখা গেছে, ঘূর্ণিঝড়টি নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম উপকূলের ওপর দিয়ে বাংলাদেশের স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে।

তিনি বলেন, এটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও মিয়ানমা’র উপকূলেও আ’ঘা’ত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঝড়টি খুবই শক্তিশালী ঝড়ে পরিণত ‘হতে পারে বলে আশ’ঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, যদি এটি প্রকৃতপক্ষেই চট্টগ্রাম উপকূলে আ’ঘা’ত হানে, তবে ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ‘হতে পারে ঘণ্টায় ১৬৬ থেকে ২২০ কিলোমিটার। সেই সঙ্গে ১৫ থেকে ২০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস ‘হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় শক্তিশালী হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মোস্তফা কামাল বলেন, ২৬ মে ভরা পূর্ণিমা। ফলে চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী একই অক্ষে অবস্থান করবে। চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত অ’ভিকর্ষে ওই দিন উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক নিয়মেই দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হবে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে যার সঙ্গে যু’ক্ত হবে স্বাভা’বিকের চেয়ে বেশি উঁচু জলোচ্ছ্বাস।