প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

১২ বছর আগে মায়ের কানের দুল বিক্রি করে পরীক্ষা দিয়েছিল, প্রথম বেতনেই সে দুল কিনে দিলো

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

আজ থেকে প্রায় ১২ বছর আগের কথা। আমি তখন কলেজে পড়ি। হঠাৎ কলেজের ফরম ফিলাপে বেশ কিছু টাকা দরকার পড়ে। বাবা স্কুলের একজন সাধারণ শিক্ষক ছিলেন। যে টাকা সম্মানী পেতেন তা দিয়ে আমা’র আর আমা’র ভাইয়ের পড়াশোনা চা’লানো বেশ কঠিন হয়ে পরে।

আর যখন কোন বিশেষ পরিমাণ টাকার দরকার পড়তো তখন জমি ‘বিক্রি ছাড়া উপায় ছিলো না। আবার জমিও যে খুব বেশি ছিলো তা নয়।টাকার খুব জরুরি দরকার। খুব ক্রা’ইসিস চলছিলো। বাবা অনেক চে’ষ্টা করেও জমি ‘বিক্রি করতে পারলেন না। কিছুটা নিরাশ লাগলো বাবাকে। তাহলে কি এবার আমা’র ছে’লের ফরম ফিলাপ হবে না? বাবার চোখে মুখে বি’ষ’গ্নতা।

ফরম ফিলাপ এর আর মাত্র এক দিন বাকি। কি করা যায় তা ভেবে নিশ্চুপ আমা’র বাবা।হটাৎ আমা’র মা বাবার কাছে আসলেন আর তার কান থেকে দুটো সোনার গহনা খুলে বাবার হাতে তুলে দিলেন আর বললেন দ্রু’ত ‘বিক্রি করে ফরম ফিলাপ করতে। বাবা ‘বিক্রি করে আমাকে টাকা দিলেন আর তার পরদিনই আমি ফরম ফিলাপ করলাম।

সে দিন মা তার শখের জিনিসগু’লো অবলীলায় দিয়েছিলেন আমা’র ভবি’ষ্যতের জন্য। আমি সে দিন সি’’দ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আমা’র মায়ের স্বপ্নের চাকুরীর প্রথম মাসের বেতন দিয়ে মায়ের জন্য এ রকমই গহনা কিনে দিবো।

তাই গত ০৩.০১.২০১৯ তারিখে ময়মনসিংহ থেকে প্রথম মাসের বেতন দিয়ে মাকে না জানিয়েই গহনা কিনে নিলাম। মাকে বলিনি, কারণ বললে নিশ্চিত না করতো। মা আমা’র হাতে তার সেই চির চেনা সোনার ঝুমকা দুল দেখেই কেঁদে ফেললেন।

চোখ দিয়ে গড়িয়ে পানি পড়ছে। মা একটু আড়াল করেই তার চোখ মুছলেন।আমি নিজ হাতে মাকে সেই দুল পড়িয়ে দেই। সে যে কি আ’নন্দ। এ এক পরম পাওয়া। এই অনুভূ’ত ি ভালোলাগার অনুভূ’ত ি।

আজ আমি আল্লাহর রহমতে জজ হয়েছি। আল্লাহ অনেক বড় দায়িত্ব দিয়েছেন। আজ আল্লাহ আমা’র মায়ের সে স্বপ্ন পূরণ করেছেন। লাখ লাখ শুকরিয়া তার কাছে। আমি জানি এবং বিশ্বা’স করি কোন কিছুর বিনিময়ে মায়ের প্রতিদান দেয়া যায় না। শুধু নিছক কৃতজ্ঞতা জানানো ছাড়া।

এই ধরণের ঘ’টনা প্রায় প্রতি মায়ের ক্ষেত্রেই ঘটে। তাই সব মা-দের প্রতি কৃতজ্ঞতা, শ্র’দ্ধা আর সীমাহীন ভালোবাসা। মায়ের অবদান অম্লান, অ’তুলনীয়, প্রতিদানহীন।মহান সৃ’ষ্টিক’র্তা সকল মা-কে সুস্থ রাখু’ন আর যাদের মা চলে গেছেন সেই মা-দের শান্তিতে রাখু’ন।