বাংলা ম্যাগাজিন রিপোর্ট:- সম্প্রতি ভারতের কেরালা রাজ্যে হি*ন্দু ধর্ম ছেড়ে ইসলাম গ্রহণ করায় ফয়সাল নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হ*ত্যা করেছিল উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)।
এবার সেই ঘটনার প্রতিবাদেই নিহত সেই তরুণের মা ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম । মুসলিম হওয়ার পর তিনি নিজের নাম রেখেছেন জামিলা। ঐ নারীর পুর্বের নাম ছিলো মীণাক্ষী।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, কেরালার মালাপ্পুরাম জেলার কোদিনহিতে গত সোমবার মাউনাতুল ইসলাম সভার একজন আলেমেরে মাধ্যমে জামিলা ইসলাম গ্রহণ করেন ।
নিহত ফাইজুল ওরফে অনিলকুমার কেরালা রাজ্যের তিরুরানগাতি জেলার কুদিনহি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
ধর্মান্তরের পর জামিলা বলেন, ‘আমি আমার নিহত ছেলে এবং তার পরিবারের সঙ্গেই বসবাস করছি। আমি কখনো তাদের ধর্মীয় জীবনে হস্তক্ষেপ করি নাই এবং আমি একজন হিন্দু হিসেবেই তাদের সঙ্গে বসবাস করেছি। যাহোক, গত সোমবার থেকে আমি নামাজ ও মাথায় হিজাব পড়তে শুরু করেছি।
বাকি জীবন নি*হত সন্তানের পরিবারের সঙ্গেই থাকতে চান বলে তিনি জানান।
মিনাক্ষী ওরফে জামিলার ভাইয়ের জামাতা আজিজ জানান, অনেক আগে থেকেই তিনি (জামিলা) ইসলাম গ্রহণ করার পরিকল্পনা করেছিলেন।
আজিজ বলেন, ‘তিনি (জামিলা) আত্মীয়দের কাছ থেকে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তার আত্মীয়দের মধ্যে তার ভাইও রয়েছেন যিনি প্রায় ৩০ বছর আগে ইসলামে ধর্মান্তরিত হন।’
জামিলা ধর্মীয় ক্লাসেও অংশ নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে আজিজ জানান।
*গত ১৯ নভেম্বর ৩০ বছর বয়সী ফাইজুলকে একটি ড্রেনে মৃ*ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার হ*ত্যার পিছনে জড়িত সন্দেহে কট্টর হিন্দু সংগঠন ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের’ (আরএসএস) সদস্যসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ফাইজুল ওরফে অনিলকুমার সৌদি আরবে একজন গাড়ি চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সৌদি থেকে ছুটিতে নিজ দেশ ভারতে ফেরার পরের দিন তাকে হত্যা করা হয়।
ফাইজুল তার পরিবারের আরো সদস্যদের ইসলামে ধর্মান্তরিত করতে পারে- এই আশঙ্কায় তার আত্মীয়দের সহায়তায় কট্টরপন্থী হিন্দুদের একটি গ্যাং তাকে হ*ত্যা করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফাইজুলের বোন জামাই বিনোদকে এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে।
ফাইজুল ছয় মাস আগে রিয়াদে ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন। তার মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগেই তার স্ত্রী ও সন্তানেরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।













































