চট্টগ্রামের আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইস’লাম হাটহাজারী বড় মাদরাসার ছাত্রদের কাছে স্মা’র্টফোন পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া মাদরাসাটিতে ছাত্র ভর্তিতেও বেশকিছু নতুন নিয়ম চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসায় থেকে গঠিত বাংলাদেশ হেফাজতে ইস’লাম বিলুপ্তির পর রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে মাদরাসায় ভর্তি হতে পারবেন না। শুধু তাই নয়, মাদরাসার কোনো ছাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিলে সেটি ‘শা’স্তিযোগ্য অ’প’রাধ’বলে বিবেচিত হবে। এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর কাছে স্মা’র্টফোন থাকা যাবে না। থাকলে ব্যবস্থা নেবে মাদরাসা প্রশাসন।
গত ১৮ মে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত এক ভর্তি বি’জ্ঞপ্তিতে আরও কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ইস’লাম ধ’র্মভিত্তিক কওমিপন্থী আলেম’দের সংগঠন হেফাজতে ইস’লাম বাংলাদেশ ও ওই সংগঠনের নেতাদের মাদরাসাগুলো নিয়ে দেশে নানা ইস্যুতে কওমি আলেম-ওলামাদের সঙ্গে সরকারের চলমান সংকট নিরসনে এবং সরকারের চাপের মুখে পড়ে হাটহাজারী মাদরাসা কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তবে হাটহাজারী মাদরাসায় ভর্তি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, এটি প্রথমবারের মতো নয়, কর্তৃপক্ষ বহু বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে এসব শর্ত চালু রেখেছে। মাদরাসার এসব কার্যক্রম মজলিসে এদারী (মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদ) ও মজলিসে ইলমি’র (মাদ্রাসা শিক্ষা পরিচালনা পরিষদ) সদস্যরা সুষ্ঠু ও সুচারুরূপে পরিচালনা করে আসছে।
জানা গেছে, আগামী ৩০ মে চট্টগ্রামের আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইস’লাম হাটহাজারী বড় মাদরাসার সব বিভাগে নতুন ও পুরাতন শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। এতে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মোবাইল ফোন আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
মাদরাসায় ছাত্রদের ভর্তিতে এসব শর্তের বিষয়ে মাদরাসার পরিচালনা পরিষদের সদস্য মা’ওলানা ইয়াহইয়া বলেন, এ দেশের বেশিরভাগ কওমি মাদ্রাসা ভা’রতের দেওবন্দের আকিদায় অনুসরণ করে। বহু বছর ধরে দেওবন্দের অনুসরণ করে হাটহাজারী মাদরাসা কর্তৃপক্ষ কওমি আকিদার সক্রিয়তা বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে ভর্তি কার্যক্রমসহ যাবতীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
তিনি আরও কলেন, কওমি আলেম’দের কাছে রাজনৈতিক কোনো অ’ভিলাষ নেই। যাদের কাছে রাজনৈতিক কোনো অ’ভিযোগ নেই, রাজনৈতিক কোনো পরিচয় নেই, তারা তাদের শিক্ষার্থীদের কখনো রাজনৈতিক অ’ভিলাষ তথা-রাজনীতি করার জন্য উৎসাহ বা উদ্দীপনা যোগায় না। আর এরই ধারাবাহিকতায় আম’রা আমাদের মাদ্রাসায় রাজনৈতিক বা কোনো অরাজৈনতিক সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো শিক্ষার্থীকে এ মাদ্রাসায় ভর্তির অনুমতি দিয়ে থাকি না।













































