বিনোদন: ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনির সঙ্গে বুধবার রাতে কী ঘটেছিল উত্তরার ঢাকা বোট ক্লাবে। এ নিয়ে আলোচনা সর্বত্র। পুলিশের বি’রুদ্ধে মা’মলা না নেয়ার অ’ভিযোগ করেন তিনি। বনানী থানা পুলিশ অবশ্য এ অ’ভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে গতরাতে রূপনগর থানা থেকে পুলিশের কর্মকর্তারা তার বাসায় যান অ’ভিযোগ রেকর্ড করার জন্য। এ ঘটনায় মা’মলা দা’য়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গতকাল প্রথম ধ”ণ ও হ’’ত্যা চেষ্টার অ’ভিযোগ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন আলোচিত এ অভিনেত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চান তিনি।
পরে রাতে সংবাদ সম্মেলনে ও পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন তিনি। এসময় তিনি বারবার কা’ন্নায় ভে’ঙে পড়েন। সংবাদ সম্মেলনে এক ব্যবসায়ীর বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ করেন পরীমনি। তার অ’ভিযোগ ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য (বিনোদন ও সংস্কৃতি) নাসির ইউ মাহমুদের বি’রুদ্ধে। ঢাকা বোট ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নাসির একজন আবাসন ব্যবসায়ী।
তিনি উত্তরা ক্লাবের সাবেক সভাপতি। অ’ভিযোগের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত নাসির ইউ মাহমুদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরীমনি বলেন, উত্তরার বোট ক্লাবে (ঢাকা বোট ক্লাব) তার সঙ্গে ঘটনাটি ঘটে। নাসির উদ্দিন নামে একজন নে’শাজাতীয় কিছু খাইয়ে তাকে ধ”ণের চেষ্টা করেন। চার ম’দ্যপ ব্যক্তি তাকে শা’রীরিকভাবে নি’র্যাতন করেন। চড়-থা’প্পড় মা’রেন। গায়ে আ’ঘাত করেন।
পরীমনি বলেন, ‘আমি সু’ইসাইড করার মতো মেয়ে না। আমি যদি ম’রে যাই, আপনারা বুঝবেন আমাকে মে’রে ফেলা হয়েছে। আমি সু’ইসাইড করতে পারি না। আমি সু’ইসাইড করব না। আমি আমার বিচার নিয়ে মরব। আমার সাথে অন্যায় করা হয়েছে। আমার সাথে অন্যায় হয়েছে, বিচার চাই। আমি আজকে ম’রে গেলে… আমি সু’ইসাইড করি নাই, সবাই জেনে রাখেন। আর আমাকে যদি কেউ মারে, আমি যদি ম’রে যাই; ভাইয়ারা আপনারা বিচার কইরেন, আল্লাহর কসম।
বিচার না পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, চার দিন ধরে একদম সাধারণ মেয়ের মতো মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। কিন্তু আমাকে কেউ সাহায্য করেনি। পরীমনি হিসেবে যখন স্ট্যাটাসটা দিলাম তখনই সবাই আসলেন। পরীমনি বলেন, এমন ঘটনায় সাধারণ মেয়েরা প্রথমে কোথায় যায়? থানায় যায়। আমিও থানায় গিয়েছি। আমি বারবার বলেছি, ঘটনাটা যদি নিজের সঙ্গে না ঘটে তাহলে কেউ বুঝবে না। পরীমনি আরও বলেন, সাধারণ কোনো মেয়ের হলে সে খবর হয়তো আপনাদের কাছে পৌঁছায় না। সাংবাদিকদের কাছে খবর পৌঁছানো হয় না। আমার মতো যখন কোনো মেয়েকে ভ’য় দেখানো হয় তখন সাধারণ মেয়ের খবর তো পাবেন না!
তিনি বলেন, বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে তার এক বন্ধু (অমি) বাসায় আসেন। বাসা থেকে তাকে উত্তরার বোট ক্লাবে (ঢাকা বোট ক্লাব) নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জিমি (ব্যক্তিগত রূপসজ্জাশিল্পী)। বোট ক্লাবে যাওয়ার পর সেখানে সাত/আটজনের একটা গ্রুপ ছিল। তাদের মুরব্বি ছিলেন নাসির উদ্দিন (নাসির ইউ মাহমুদ)। নাসির উদ্দিনসহ উপস্থিত সাত/আটজন আমাকে বিভিন্নভাবে হে’নস্তা করতে থাকে। আমাকে আ’টকে ফে’লে। জো’র করে নে’শাজাতীয় কিছু খাইয়ে অজ্ঞান করার চেষ্টা করে। জিমিকে মা’রধর করা হয়। অ’শ্লীল নানা কথাবার্তা বলা হয়। মে’রে ফেলারও হু’মকি দেওয়া হয়।
পরীমনি বলেন, আমি চার দিন আমি পা’গল হয়ে গেছি ভাইয়া, আমি সুস্থ নই, আমি না ভাইয়া পা’গল হয়ে গেছি… পা’গল। আমার জায়গায় থাকলে আপনারা কেউ এখানে বসে কথা বলতে পারতেন না। ঘটনার বিবরণ দিয়ে পরীমনি বলেন, নাসির উদ্দিন আহমেদ। সে ঘুরে এসে প্রথমে আমারে দুটা থা’প্পড় মারছে। আমি তো এমনিতে কোনো কথা বলতে পারছিলাম না, জিমিকে দেখে চুপ করে আছি… ওয়েটার যারা ছিল, লাইট অফ করে দিতে বলছে, লাইট অফ করে দিছে। তারপর টিভির মনিটর ছিল…। আর একটা লোক ছিল শার্টটা এভাবে খুলে, বোতাম-টোতাম সরে গেছে… তারপর জিমির গ’লায় এভাবে প্যাঁচায় দিছে শার্টটা। প্যাঁচায় দিয়ে বলে কী মাধুরি দীক্ষিতের গানে এখন নাচবি তুই। আমি এই হরিবল (ভ’য়াবহ) দৃশ্য ভু’লতে পারছি না।
এরম-ওরম করতেছিল, আমার চোখের সামনে ভাসতেছে। আমি পা’গল হয়ে গেছি ভাইয়া, সেভ মি। আমি মরতে চাই না এভাবে। ওই ক্লাব থেকে কখন বের হন জানতে চাইলে পরীমনি বলেন, আমি জানি না। যখন আমাকে এতগুলো… আমার গ’লা এখান থেকে এখান থেকে পুরো জ্ব’লে যাচ্ছিল… আমি তো জানি ভাইয়া আমি ওই সময় ম’রে যাব। আমি সত্যি জানি না, এখন আমি আপনাদের সাথে কথা বলতে পারব। আমি সত্যি জানি না। আমি জানতাম আমি ম’রে গেছি, একটু পর ম’রে যাব। আনুমানিক তখন সময়টা কত হতে পারে… এমন প্রশ্নে পরীমনি বলেন, আমারে দুই ঘণ্টা-আড়াই ঘণ্টা আ’টকে রাখছে…। পরীমনি বলেন, নাসির ইউ মাহমুদ আমাকে লা’থি মে’রে চেয়ার থেকে ফে’লে দেন। মুখের ভেতর জো’র করে ম’দের বোতল ঢুকিয়ে দেন।
এতে দাঁতে আ’ঘাত লাগে এবং কিছু ম’দ গ’লায় যায়। গ’লা ও বুক জ্ব’লতে থাকে। আমি তখনই খানিকটা অ’সুস্থ হয়ে পড়ি। আমার সঙ্গে থাকা জিমি তখন চি’ৎকার ও কা’ন্না শুরু করলে আমাদের ধ”ণের হু’মকি এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন নাসির ইউ মাহমুদ। পরী জানান, সেখানে অনেকক্ষণ ধরে অ’চেতন অবস্থায় ছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে কী ঘটেছিল তাও তিনি জানেন না। কীভাবে তিনি সেখান থেকে এসেছেন তাও তার জানা নেই। একপর্যায়ে নিজেকে তার গাড়িতে দেখতে পান বলেও জানান।













































