সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এবার সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের ঈদের ছুটি ৩ দিনের বেশি দেয়া যাবে না। কিন্তু বিভিন্ন কারখানায় ছুটি বৃদ্ধির দাবিতে আ’ন্দোলন হচ্ছে। আ’ন্দোলনের মুখে বাড়ানো হয়েছে ঈদের ছুটি। সোমবার (১০ মে) সকাল থেকে গাজীপুর সদরের হোতাপাড়া এলাকার ফুয়াং ফুড লিমিটেড কারখানার সামনে শ্রমিকেরা ঈদের ছুটি বাড়ানো ও বোনাসের দাবিতে কয়েক দফা অবরোধ ও বি’ক্ষোভ করে। পরে তাদের দাবি মেনে নেয় কর্তৃপক্ষ।
এদিন গাজীপুরের টঙ্গীর মিলগেট এলাকার একটি পোশাক কারখানাতেও ঈদের ছুটি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকরা বি’ক্ষোভ করেছেন। সোমবার বেলা ১১টায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এ সময় সং’ঘর্ষে পু’লিশসহ ২৭ জন আ’হত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পু’লিশ জানায়, সোমবার ফুয়াং ফুড কারখানার শ্রমিকদের চলতি মে মাসের বেতন পরিশোধে কথা ছিল। এবং ঈদ বোনাস ও আসন্ন ঈদের ছুটি ১০ দিন করার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বি’ক্ষোভ করেছে ফুয়াং ফুডের শ্রমিকেরা।কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষের তালবাহনায় বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস ও ১০দিন ঈদের ছুটি ব্যাপারে আশ্বা’স না থাকায় এ বি’ক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা।
এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের আশ্বা’স না পেয়ে সকাল সাড়ে সাড়ে ১০টার দিকে তারা কর্মবিরতি ও বি’ক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বের হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। সেখানে মহাসড়কের উভ’য়দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।
জয়দেবপুর থা’নার ওসি মামুন আল রশিদ জানান, শ্রমিকদের অবরোধ চলাকালে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বেতন ও ঈদ বোনাসের ও ছুটির আশ্বা’স দিয়ে তাদেরকে সড়ক থেকে সরে যেতে বলা হয়। পরে শ্রমিকেরা আশ্বা’স পেয়ে কাজে যোগ দেন।
তিনি জানান, মহাসড়কে বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বেতন ও বোনাস পরিশোধ করবে এবং ঈদের ছুটির বিষয়ে কর্তৃপক্ষ একমত পোষণ করেন বলে জানায়।
কারখানার ম্যানেজার শুক্কুর মাহবুব বলেন, শ্রমিকদের কোনো বকেয়া পাওনা রাখা হবে না। নির্ধারিত সময়েই তাদের বেতন, বোনাস পরিশোধ করা হবে এবং ঈদের ছুটিও অন্য কারখানার মত ১০দিন পাবে ।
তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ ঈদ বোনাস ও ছুটি বাড়াতে সম্মত হয়েছেন।
এর আগে রোববার হোতাপাড়ার বেগমপুর এলাকায় ঈদের ছুটি বাড়ানোর দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বি’ক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। এতে মহাসড়কের দু’পাশে কয়েক কিলোমিটার যানজট তৈরি হয়। প্রায় ঘণ্টাখানেক অবরোধ থাকার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দাবি মেনে নিলে তারা মহাসড়ক ছেড়ে চলে যান এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রোববার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পলমল গ্রুপের সাফা সোয়েটার লিমিটেডের শ্রমিকরা এ বি’ক্ষোভ করেন। পরে জয়দেবপুর থা’নার ওসি মামুন আল রশিদ সংবাদ পেয়ে ফোর্সসহ সাফা সোয়েটারে এসে শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়।
কারখানার শ্রমিক তানভীর, সোহেল, বুলবুল জানান, পলমল গ্রুপের সাফা সোয়েটার কারখানায় ঈদ উপলক্ষে রোববার সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। একই গ্রুপের অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তিন দিনের ছুটি বাড়ানো নিয়ে আম’রা একাধিকবার কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেও কোনো ফল পাইনি। অবশেষে বাধ্য হয়েই আ’ন্দোলনে নেমেছেন কারখানার শ্রমিকরা। পরে কর্তৃপক্ষ দাবি মানলে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।













































