শ্বেতী রোগ এক ধরনের ‘অটো ইমিউন ডিজিজ’। যেটা আমাদের দেশে ধবল রোগ নামেও পরিচিত। আর ইংরেজিতে যাকে বলা হয় লিউকোডারমা বা ভিটিলিগো। রোগটি মরণ নয়, ঘাতকও নয়। তবে একবার শরীরে দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা না নিলে আস্তে আস্তে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
![]()
শ্বেতী নিয়ে আমাদের সমাজে এখনও নানা কুসংস্কার আছে। যেখানে ইউরোপ-আমেরিকার বাসিন্দারা শ্বেতীকে অসুখের পর্যায়েই ফেলেন না। রোগের শুরুর দিকে সঠিক চিকিৎসা করাতে পারলে শ্বেতী থেকে মুক্তি সম্ভব। বিশ্ব একজিমা কাউন্সিলে ভারতীয় প্রতিনিধি ত্বক বিশেষজ্ঞ সন্দীপন ধর জানিয়েছেন, ত্বক দেখতে অন্য রকম লাগা ছাড়া সেই অর্থে শ্বেতীর অন্য কোনও বিপজ্জনক দিক নেই।
![]()
শে^তীর কারণ: সন্দীপন ধর জানান, ত্বকের ভিতের থাকা মেলানোসাইট কোষ মেলানোজেনেসিস পদ্ধতিতে মেলানিন তৈরি করে। এই মেলানিনই ফর্সা বা কালো রঙের কারণ। মেলানোজেনেসিস প্রক্রিয়াটি ব্যাহত হলে ত্বক হয়ে ওঠে দুধ সাদা। আরেক ভারতীয় ত্বক বিশেষজ্ঞ পিয়ালি চট্টোপাধ্যায় জানান, এই রোগ হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজেরাই মেলানোসাইট কোষকে ধ্বংস করে দেয়। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার গোলযোগ থেকে রক্তে এক ধরনের শ্বেত কণিকা টি-লিম্ফোসাইট বেড়ে যায়। এরাই মেলানোসাইট কোষ ধ্বংস করে। এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০ শতাংশ শে^তী রোগ বংশগত ভাবে হয়ে থাকে।
![]()
লক্ষণ: বিশেষজ্ঞরা বলেন, শে^তীর রোগের কোনও জ্বালা, ব্যথা বা চুলকানি কিছুই থাকে না। এ রোগের প্রধান লক্ষণ হলো শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট সাদা ছোপ তৈরি হয়। ফলে ত্বক আস্তে আস্তে সাদা হতে থাকে। এ ছোপগুলো ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ সাদা দাগগুলো শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
![]()
চিকিৎসা: শ্বেতীর থেকে মুক্তি চাইলে দেরি না করে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় ওষুধের সাহায্যে বা ন্যারো ব্যান্ড আল্ট্রাভায়োলেট (এনবি-ইউভি) ফোটোথেরাপিতে অনেক সময়েই শ্বেতী সেরে যায়। এছাড়া হরমোনজাতীয় ওষুধ খাওয়া, কসমেটিক সার্জারি এরোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে। রোগীর ধরন এবং শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী যার জন্য যেটি প্রযোজ্য, সেটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা দিয়ে থাকেন।
![]()
তবে আমাদের দেশে ফটোথেরাপি বা লেজার পদ্ধতিতেই চিকিৎসা বেশি হয়ে থাকে। তবে অনেকদিন ধরে সারা শরীরে ছড়িয়ে থাকা শ্বেতীর ক্ষেত্রে চিকিৎসা করে খুব ভাল ফল পাওয়া যায় না। এছাড়া শ্বেতী প্রাথমিক পর্যায়ে আগ্রাসী ভাবে দেহে ছড়াতে থাকলেও খুব বেশি কিছু করা যায় না। খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মানে চলতে পারেন। শে^তী হলে প্রচুর পানি পান করুন। পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে যেসব খাবারে প্রচুর ফাইটোকেমিক্যালস ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস রয়েছে। এছাড়া অ্যালকোহল, টকজাতীয় ফল-মূল এড়িয়ে চলতে হবে













































