জনপ্রিয় অ’ভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী বিশ্ব মা দিবসে তার ভেরিফাইড ফেসবুক পাতায় তার মায়ের সাথে তোলা একটা ছবি পোষ্ট করেছিলেন। এর পর থেকেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ।
আলোচনা হচ্ছে অ’ভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর ধ’র্মীয় পরিচয় নিয়ে। কারণ ছবিতে তার মাকে দেখা যাচ্ছে মা’থায় সিঁদুর, হাতে শাঁখা-পলা পরা। ফেসবুকে একপক্ষ চঞ্চল চৌধুরীর হিন্দু পরিচয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
আরেক পক্ষ বলছেন, তার ধ’র্মীয় পরিচয় এখানে মুখ্য বিষয় হতে পারে না। তিনি একজন অ’ভিনেতা – এটাই দর্শকদের কাছে তার পরিচয় হওয়া উচিত।
আজ বিষয়টি আবার মুখ খুললেন চঞ্চল চৌধুরী। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘আমা’র ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়ে গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক আলোচনা আর সমালোচনার ঝড় বয়ে গেল।
এতে আমি শুধুই বিব্রত নই, সেই সাথে মানসিকভাবে খুব অস্বস্তিকর সময় পার করছি…
এখন নিশ্চয়ই আমা’র পরিচয় নিয়ে কারো কোন স’ন্দেহের অবকাশ নেই। ভবিষ্যতে নতুন করে আমা’র পরিচয় জানার জন্য কেউ আগ্রহী হলে ব্যক্তিগত ভাবে আমাকে ইনবক্স করলে ধন্য হবো। তবে পরিচয়ের নামে,এরকম পরিস্থিতি কাম্য নয়।
গুটি কতক মানুষ যু’ক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন, ধ’র্ম পরিচয় জানতে চাওয়াটা কি কোন অ’প’রাধ?
তাদের জন্য বলছি…
অ’প’রাধ নয়,এটা যেমন ঠিক,আবার বার বার এই পরিচয়টা জানতে চাওয়ার মধ্যেও তেমন কোন বাহাদুরী বা পৌরুষত্ব নেই। বাংলাদেশের আপাম’র জনসাধারণ, ধ’র্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমাকে ভালোবাসে,আমা’র কাজ পছন্দ করে, এটাই আমা’র জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
এই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে যারা আমাকে ভালোবেসে আমা’র হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলেছেন,সকল ধ’র্মের মানুষ আমা’র মাকে মা ডেকেছেন, আমা’র পরিচিত জন, শুভানুধ্যায়ী, সহকর্মী সহ, দেশ বিদেশের হাজার হাজার মানুষ খোঁজ নিয়েছেন, আমি এ হেন পরিস্থিতিতে কেমন আছি…
তাঁদের প্রতি আমা’র ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।
আর সামান্য সংখ্যক মানুষ নানান বিব্রতকর প্রশ্ন করে ও গালি গালাজ করে বা আমাকে বর্জন করেও,পরবর্তীতে তাদের কমেন্ট গুলো ডিলিট করে দিয়েছেন,তাদের প্রতিও আমা’র ভালোবাসা রইলো।
কারন তারা এক পর্যায়ে বাস্তব পরিস্থিতি টা বুঝতে পেরেছেন। যে কারনে,অনেকেই পরবর্তীতে আমাকে দেয়া গালি গুলো আর খুঁজে না পেয়ে উল্টো অ’ভিযোগ করেছেন,বলেছেন…কই আমা’র বি’রুদ্ধে তো কেউ তেমন কিছুই লেখেনি….
এ নিয়েও আর কোন বিতর্কের দরকার নেই।
আপনাদের সবার কাছে আমা’র বিনীত অনুরোধ, এই বিষয়টাকে কেউ ধ’র্মীয় বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবেন না।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউই কাউকে অসম্মান করে কিছু লিখবেন না। পারলে গঠন মুলক কিছু লিখু’ন। সেটাই হবে সভ্য মানুষের কাজ।
শুধু একটি কথা সবাইকে বলতে চাই, আপনি যে ধ’র্মেরই হোন না কেন, যে পেশারই হোন না কেন, আপনার কর্ম দিয়ে দেশের জন্য কত টুকু মঙ্গল করছেন, সেটাই আসল কথা।
সব ধ’র্মেই ভালো মানুষ,মন্দ মানুষ রয়েছে। আমা’র মনে হয় সকল মানুষের পরিচয়টা কর্ম,সহনশীলতা,আর ধ’র্মীয় উদারতা দিয়ে হোক। আমাকে নিয়ে অ’তি:সত্বর এই আলোচনারও পরিসমাপ্তি হোক।
আমা’র পরিচয়….
আমি মানুষ,আমি বাংলাদেশী,আমি বাঙালী….
আর ধ’র্ম পরিচয়টা প্রত্যেকের মতই জন্মগত। এতে কারো কোন আ’পত্তি থাকলেও, আমা’র কোন সমস্যা নেই।
আর সবচেয়ে বড় যে পরিচয়ে আপনারা আমাকে চেনেন… সেটা হলো,আমি একজন শিল্পী….
আমা’র কাছে হিন্দু,মু’সলমান,বৌদ্ধ,খৃস্টান সবাই সমান এবং আপন।
সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা…
ঈদ মুবারক….
সারা পৃথিবী জুড়ে যে করো’না সংকট চলছে,এই দু:সময়ে সবাই স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন…আসুন,আম’রা অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে,ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেই।
মানবতার জয় হোক….
সবার জন্য ভালোবাসা❤️❤️’













































