প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খোলার দুই কারণ জানালেন আসিফ নজরুল

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে সশরীরে পরীক্ষা গ্রহণ ও ক্লাস শুরু করার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র শিক্ষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৩০ মে) সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সব শিক্ষার্থীর জন্য করো’না ভ্যাকসিন নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

সমাবেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে না দেয়ার দুটি কারণ জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘দেশে অফিস-আ’দালত, গার্মেন্টস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন, শপিংমল সবই খোলা আছে। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। আমি অনেক ভেবে দেখেছি, আসলে এর কারণ মূলত দুটি। একটি হলো, সরকারের মধ্যে থাকা বৈষম্যের নীতি। সরকারে যারা আছেন, তাদের অধিকাংশ সন্তান বিদেশে থাকে। যাদের পরিবার-পরিজনের কোনো অ’সুবিধা হয় না। তাই তাদের কোন মা’থাব্যথা নেই।’

দ্বিতীয় কারণ হলো, ‘আম’রা জানি শিক্ষাই জাতির মেরুদ’ণ্ড। কিন্তু দেশের সরকারের কাছে শাসনই হলো জাতির মেরুদ’ণ্ড। তাই শাসনকার্যের জন্য যা প্রয়োজন- যেমন, অফিস-আ’দালত খোলা রাখা, শপিংমল খোলা রাখলে তাদের সমস্যা নেই। সমস্যা হচ্ছে রাজনীতি নিয়ে, শিক্ষা নিয়ে। এই দুটোকে বন্ধ রাখতে পারলে সরকার নিরাপদ থাকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে সরকার যাই করুক; তাতে কোন প্রতিবাদ হবে না। এই প্রতিবাদ সরকারের শাসন কার্যে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে- এই রকম সামান্য আশ’ঙ্কা থেকেই তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, প্রায় লক্ষাধিক প্রাই’মা’রি স্কুল বন্ধ আছে। তাদের প্রতি ক্ষমতাসীনদের যে নিষ্ঠুর আচরণ, সেটা বাংলাদেশের সংবিধানে যে বৈষম্যের নীতি আছে সেটার সাথে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকারের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, আগামী নির্বাচন পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য তারা তৈরি আছে।’

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী বলছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে কোন চাপ নেই। শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। সেই চিন্তা থেকে আপনাকে চাপ দিতে হবে! এটি কি পলিটিক্যাল ইস্যু বলেও প্রশ্ন রাখেন আইনের এই অধ্যাপক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু মূসা মো. আরিফ বিল্লাহ বলেন, পৃথিবীতে এমন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় পাবেন না, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে চায় কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরীক্ষা নিতে চায় না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, আমাদের শিক্ষামন্ত্রী সকাল-বিকেল দুপুরে এক এক সময় এক এক কথা বলেন যে, এত তারিখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে। কিন্তু ঐদিন আসলেই তিনি একটা শর্ত জুড়ে দেন।

তিনি বলেন, কিছুদিন আগে লাখ লাখ মানুষ ফেরিঘাট দিয়ে পার হয়ে সারা গ্রামে গেল। সেখানে সামাজিক দূরত্ব নেই। সীমান্ত যথাসময়ে বন্ধ করা হয়নি। সীমান্ত দিয়ে এখনো মানুষ আসছে। সব খোলা রেখে শিক্ষামন্ত্রী আমাদের বলছেন পাঁচ শতাংশের এর নিচে যখন সংক্রমণ হবে তখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে।

দেশের সবকিছু খোলা থাকে কোন দিনই পাঁচ শতাংশের এর নিচে সংক্রমণ নামবে না। তাহলে কি কোনো দিনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে না? আম’রা এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এটা সরকারের ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক ড. আবু মূসা মো. আরিফ বিল্লাহ।

অনলাইন ক্লাস নজীরবিহীন বৈষম্য উল্লেখ্য করে ঢাবির একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব হোসেন বলেন, ‘সরকার একটি সিম কার্ড দিতে ব্যর্থ হয়েছে। মোবাইল ডিভাইস দেওয়ার নামে প্রতারণা করেছে। অনলাইন ক্লাসের নামে শিক্ষার্থীদের সাথে যে বৈষম্য করা হয়েছে সেটা বিশ্বে নজীরবিহিন।’ তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে রিভিউ ক্লাস নিয়ে পরীক্ষা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

এদিকে, ছাত্র-শিক্ষক সমাবেশের পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বি’ক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা ও উপাচার্য বিরোধী নানা স্লোগান দেয়। পরে আগামী মঙ্গলবার তাদের পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে তারা আজকের মতো তাদের আ’ন্দোলন স্থগিত করেন।