প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

যেভাবে ছেড়েছে সেভাবেই ফিরছে !

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

ঈদ উদযাপন শেষে নাড়ির টানে বাড়ি যাওয়া মানুষ ফের আস্তে আস্তে ফিরছেন কর্মস্থলে। এতে করে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ঢাকামুখী চাপ বেড়েছে। সাথে ভোগান্তি তো রয়েছেই। বাড়ি যাওয়া মানুষের ফেরিঘাট কিংবা মহাসড়কগুলোতে ফেরার লড়াই বেশ চোখে পড়ারা মতো। সোমবার (১৭ মে) বাংলাবাজার থেকে শিমুলিয়া ঘাটে আসা প্রতিটি ফেরিতে রয়েছে অতিরিক্ত যাত্রী। অপর দিকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটেও ঢাকামুখী মানুষের চাপ বেড়েছে। বাংলাবাজার ও দৌলতদিয়া ফেরি পার হয়ে ঢাকায় ফিরছেন হাজার হাজার মানুষ। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে যাত্রীরা। যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে ভেঙে ভেঙে। এতে চরম ভোগান্তির পাশাপাশি গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়াও।

এদিকে রাজধানীর শনি আখড়া, কাজলা, যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন বাস টার্মিনাল এলাকায় সরেজমিনে ঢাকামুখী মানুষের ভিড় দেখা গেছে।

দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় যে যেভাবে পারছেন ঢাকায় ফিরছেন। মহাসড়কগুলোতে কেউ মোটরসাইকেলে করে, কেউ সিটি-জেলাকেন্দ্রিক গণপরিবহনে ভেঙে ভেঙে, কেউবা প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ভাড়া করে আবার কেউ মিনি পিকআপে করে ঢাকামুখী হচ্ছেন। এতে গুনতে হচ্ছে তিন থেকে চারগুণেরও বেশি ভাড়া।

মাদারীপুর থেকে রাজধানীতে ফিরছেন বেসরকারি চাকরিজীবী মো. ফয়সাল। তিনি বলেন, অনেক কষ্ট হলো আসতে। তারপরও চাকরি যেহেতু করি তাই আসতে হলো। সেই ভোরে রওনা হয়েছিলাম। সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকায় পৌঁছালাম। এখন বাসায় পৌঁছাতে পারলেই খুশি। কাল থেকে অফিস শুরু।

ঢাকায় ফিরছেন আব্দুল বাতেন। তিনি জানান, ঈদ হচ্ছে আমাদের ধর্মীয় উৎসব। একটি বছর পরে আসে এই উৎসব। বাড়িতে সবার সঙ্গে ঈদ করার পাশাপাশি কিছু কাজ ছিল, সেগুলো সারলাম। বাস্তবতা মেনে নিয়েই আমাদের চলতে হবে। জরুরি কাজে তো যেতেই হবে।

আরেক কর্মজীবী মো. লিটন বলেন, পরিবারের সদস্যদের সাথে ঈদ করতে পারাটা অনেক আনন্দের। এখন কষ্ট হলেও ঢাকায় পৌঁছাতে পেরেছি এতে ভালো লাগছে। চাকরি যেহেতু কারি তাই দ্রুত আলে আসতে হয়েছে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন মো. ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, বাবা মায়ের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি গিয়েছিলাম। আজ অফিস খোলা তাই চলে আসতে হলো। বাড়িতে সবার সঙ্গে দেখা হওয়ায় খুব ভালো সময় কেটেছে। আসলে জীবিকার জন্য ঢাকাতে থাকা। ঈদে ঢাকায় ঘরবন্দি থাকতে চাইনি। চেয়েছি ঈদের আনন্দ মা-বাবার সঙ্গে শেয়ার করতে। যদিও বাড়িতে যেতে ও আসতে অনেক কষ্ট হয়েছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। খরচও বেশি হয়েছে।

রাজধানীতে ফেরা অনেক কর্মজীবীর সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। অনেকেই জানান, পথে কিছুটা ভোগান্তি হলেও তাদের মূল চ্যালেঞ্জ ছিল নিরাপদে কর্মস্থল ও গন্তব্যে ফেরা। তবে সবাই যে ছুটি বা আনন্দ করতে গিয়েছিলেন এমন নয়। অনেকেই জরুরি প্রয়োজনেও ঈদের ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিলেন।