প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

বাড়ি ভাড়া পরিশোধ নিয়ে চিন্তিত কর্মজীবীরা

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

করোনা সংক্রমণ রোধে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে দেশব্যাপী দফায় দফায় চলছে লকডাউন ও বিধিনিষেধ। এতে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। অনেক প্রতিষ্ঠান কমিয়ে দিয়েছে কর্মচারীদের বেতন। আবার অনিয়মিত হয়ে পড়েছে অনেক প্রতিষ্ঠানের বেতন। ফলে পরিবার নিয়ে দুঃসহ জীবন কাটছে বেসরকারি চাকরিজীবীদের। তারা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন বাড়ি ভাড়া পরিশোধ নিয়ে। খাদ্যাভ্যাসসহ কিছুটা খরচ সংকুচিত করলেও মাস শেষে বাড়ি ভাড়া মেটাতে হচ্ছে শতভাগ। এই বাড়ি ভাড়াই যেন সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে নাগরিক কর্মজীবীদের।

রাজধানীর বাসাবোতে দুই বেড রুমের একটি ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে থাকেন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানরে কর্মকর্তা সোয়েব আহমেদ।

 করোনার কারণে ব্যবসা কমে যাওয়ায় ওই প্রতিষ্ঠানের অর্ধেক কর্মী ছাঁটাই করা হয়। বাকিদের বেতন কমানো হয় ৪০ শতাংশ। সোয়েব আহমেদকে চাকরিচ্যুত করা না হলেও বেতন কমে যাওয়ায় তার পক্ষে সংসারের ব্যয় বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, বাড়ি ভাড়াটা এই সময়ে তার জন্য বড় ধরনের চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। পরিবারের অনেক খরচ কমানো সম্ভব হলেও বাড়ি ভাড়াটা রয়েছে আগের মতোই। দীর্ঘদিন মধ্যবিত্তের জীবনধারায় চলে আসা তার পক্ষে হঠাৎ করে এক ধাক্কায় নিম্নবিত্তের কাতারে চলে আসাটা মানসিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না তিনি।

আয় কমে যাওয়ায় রাজধানীতে বসবাসকারী অনেকেই বাসা পরিবর্তন করে ছেন। অনেকে বেশি বাড়ি ভাড়ার এলাকা ছেড়ে কিছুটা কম ভাড়া পাওয়া যায় এমন এলাকায় চলে যাচ্ছেন। অনেকে সঞ্চয় ভেঙে দিচ্ছেন বাড়ি ভাড়া। রাজধানীর মতিঝিলের একটি বেসরকারি স্কুলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, বাড়ি ভাড়া বাবদ তাকে মাসে ১৬ হাজার টাকা দিতে হয়। এক বছর আগেও স্কুলে বেতন ও টিউশনির মাধ্যমে উপার্জিত আয় দিয়ে অনায়াসে এই ভাড়া তিনি পরিশোধ করতে পারতেন। কিন্তু করোনর কারণে গত এক বছর ধরে স্কুলের বেতন অর্ধেকে নেমে এসেছে। টিউশনিও প্রায় বন্ধ। যে অর্থ পাচ্ছে তা দিয়ে পরিবারের খাবার ব্যয় মেটানে গেলেও বাসা ভাড়া দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে এখন। গত এক বছর সঞ্চিত অর্থ দিয়ে তিনি বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করছেন বলে জানান।

এসব প্রসঙ্গে ঢাকা ভাড়াটিয়া উন্নয়ন সোসাইটির মহাসচিব মাসুদ রানা বলেন, এমনিতেই ঢাকা শহরে বাড়ি ভাড়া অনেক বেশি। বাড়ি ভাড়া কারো নিয়ন্ত্রণে নেই। তার ওপর এখন করোনার কারণে আয় কমে গেছে সাধারণ মানুষের। যাদের প্রায় সবাই এই শহরে ভাড়া থাকেন। তাদের কাছে এখন বাড়ি ভাড়াটা আরো বেশি বোঝা হয়ে দেখা দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা এই শহরের বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ সমাবেশ করে আসছি। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। আমাদের দিকে সরকার যদি দৃষ্টি দিত, যদি সংশ্লিষ্টরা সঠিক পদক্ষেপ নিত তাহলে এই দুঃসময়ে সাধারণ মানুয়ের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হতো।

এদিকে করোনার আঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের সর্বস্তরের মানুষের জীবন-জীবিকা। এতে খুব বেশি প্রভাব ফেলছে মধ্যবিত্ত ও  নিন্মমধ্যবিত্তের জীবন কাঠামাতে। চলমান মহামারীতে কত মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে, এর কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘সানেম’-এর এক জরিপে দেখা যায় ৪২ শতাংশ মানুষ এখন দরিদ্র।

জানা যায়, ২০০০ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করত ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০০৫ সালে তা নেমে এসেছিল ৪০ শতাংশে। এরপর ক্রমে দারিদ্র্যের হার কমেছে। কোভিডের আগে সরকারি হিসাবে দারিদ্র্যের হার ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক কোভিডেই বাংলাদেশ প্রায় ২০ বছর আগের অবস্থানে ফিরে গেছে। 

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ক্রয়ক্ষমতার সমতার (পিপিপি) ভিত্তিতে আয়ের দিক থেকে বিশ্বের মানুষকে সাধারণত পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন দরিদ্র্র, স্বল্প আয়ের মানুষ, মধ্য আয়ের মানুষ, উচ্চ মধ্যম আয়ের ও উচ্চ আয়ের মানুষ। যারা দিনে ২ ডলারের কম আয় করে, তারাই দরিদ্র বলে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। দিনে ২ দশমিক শূন্য ১ ডলার থেকে ১০ ডলার পর্যন্ত আয় হলে তারা নিন্ম আয়ের মানুষ, ১০ দশমিক শূন্য ১ ডলার থেকে ২০ পর্যন্ত আয়ের মানুষেরা মধ্যম আয়ের, ২০ দশমিক শূন্য ১ থেকে ৫০ ডলার আয় হলে উচ্চ মধ্যম আয়ের ও দিনে ৫০ ডলারের বেশি আয় হলে তারা উচ্চ আয়ের শ্রেণিতে পড়বে। তবে দেশভেদে এই সংজ্ঞার তারতম্য আছে।