প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

নতুনভাবে সাজবে হেফাজত, বাদ পড়ছেন মামুনুলরা!

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যমে স’রকারকে চা’পে ফেলতে গিয়ে উল্টো বিপাকে পড়েছে কওমি মাদরাসা-ভিত্তিক অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইস’লাম। হেফাজতে থাকা রাজনৈতিক নেতাদের বাদ দিয়ে নতুনভাবে গঠন করা হবে সংগঠনটি। কাজ করবে স’রকারের স’ঙ্গে সমন্বয় করে। স’রকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স’ঙ্গে বৈঠকে এমন আশ্বা’স দিয়েছেন কা’রাগারের বাইরে থাকা হেফাজতের শীর্ষনেতারা।

সমঝোতা করতে এবং নিজেদের অবস্থান জানাতে সম্প্রতি স্ব’রা’ষ্ট্রমন্ত্রী ও পু’লিশের বিশেষ শাখার (এসবি) স’ঙ্গে বৈঠক করেন হেফাজতের শীর্ষনেতারা। সেখানে নেতারা এমন আশ্বা’স দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। হেফাজতের একজন শীর্ষনেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, পু’লিশের বিশেষ শাখার স’ঙ্গে বৈঠকে হেফাজত জানায় যে, মোদিবি’রোধী আ’ন্দোলন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সোনারগাঁসহ বিভিন্ন স্থানে না’শকতার ঘ’টনায় হেফাজতের কৌশলগত কিছু ভু’ল ছিল।

তবে না’শকতার উ’স্কানিদাতারা হেফাজতের কেউ নন। বৈঠকে বাংলাদেশ পু’লিশের বিশেষ শাখার (স্পেশাল ব্রাঞ্চ-এসবি) ঊর্ধ্বতনরা বলেন, ২০১০-এ হেফাজতে ইস’লাম অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তবে হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ আহম’দ শফীর মৃ’ত্যুর পর তারা একটি রাজনৈতিক সংগঠনে রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা হেফাজতের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটিতে রয়েছেন এবং তারা রাজনৈতিকভাবে আ’ন্দোলন চালাচ্ছেন।

হেফাজতের ওই নেতা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের স’ঙ্গে বৈঠকে তারা হেফাজতকে সংস্কারের কথা বলেছেন। তারা হেফাজতের সব কমিটি থেকে রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যক্তিত্বদের সরিয়ে নতুন কমিটি দিতে বলেছে। পাশাপাশি কওমি মাদরাসার কার্যক্রম পরিচালনা ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ বোর্ডের সি’দ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালনার কথা বলেছে।

হেফাজত যেন কওমি মাদরাসার কোনো সি’দ্ধান্ত না নিতে পারে সে বি’ষয়টিও নিশ্চিত করতে বলেছে। সূত্র জানায়, হেফাজতের বর্তমান কমিটি যেকোনো সময় ভে’ঙে দেওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে হেফাজত নেতারা আল্লামা শফির যোগ্য উত্তরসূরি খুঁজতে শুরু করেছেন। নতুন কমিটিতে শফির অনুসারীদের প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

সোমবার স্ব’রা’ষ্ট্রমন্ত্রী ও পু’লিশের গো’য়েন্দাদের স’ঙ্গে হেফাজত নেতাদের সাক্ষাতে নিজেদের ভু’ল স্বীকার করে সমঝোতার প্রস্তাব দেন হেফাজত নেতারা। তবে হেফাজত থেকে মামুনুল হকসহ রাজনৈতিক দলের নেতাদের বাদ দিয়ে কমিটি গঠনসহ কড়া তিন দফা নির্দেশনা দিয়ে ক’ঠোর অবস্থানে আছে পু’লিশ প্রশাসন। মা’মলার ত’দন্তে যাঁদের নাম আসছে তাঁদের সবাইকে গ্রে’প্তারের নির্দেশনা আছে।

সূত্র মতে, হেফাজতের রাজনৈতিক নেতাদের কওমি মাদরাসা নি’য়ন্ত্রণ ও পরিচালনায় বিভিন্ন অনিয়মের ত’থ্য পেয়েছেন গো’য়েন্দারা। এসব ঘ’টনায় আর্থিক জালিয়াতির মা’মলাও হতে পারে। অন্যদিকে বৈঠকের পর কর্মসূচি না দিয়ে সমঝোতার অ’পেক্ষায় আছেন হেফাজতের নেতারা। মামুনুল হক বিতর্ক এবং সংগঠনের বেহাল অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জনও চলছে।

গো’য়েন্দা সূত্র জানায়, না’শকতার কারণে হেফাজত নেতাদের ব্যাপারে হার্ডলাইনে স’রকার। নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রে’প্তার চলছে। সমঝোতার প্রস্তাবের পর নতুন কোনো নির্দেশনা নেই। পু’লিশের পক্ষ থেকে হেফাজতে রাজনৈতিক দলের নেতাদের বাদ দিয়ে নতুন করে কমিটি করার ক’ঠোর শর্ত দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে বড় কওমি মাদরাসাগুলো কিভাবে, কারা নি’য়ন্ত্রণ করছে, সে ব্যাপারে গো’য়েন্দা প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। যাঁরা মাদরাসায় অনিয়ম করেছেন, সেসব হেফাজত নেতার বি’রুদ্ধেও মা’মলা হতে পারে বলে জানায় সূত্র।

এদিকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উত্কণ্ঠার মধ্যে আছেন হেফাজত নেতারা। বৈঠকে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়ে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগও করছেন। পু’লিশের পক্ষ থেকে দেওয়া শর্ত নিয়েও নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করছেন তাঁরা। জানতে চাইলে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির ভা’রপ্রা’প্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মা’ওলানা মো. মীর ইদরিস বলেন, ‘স্ব’রা’ষ্ট্রমন্ত্রীর স’ঙ্গে বৈঠকে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল—আম’রা স’রকারের বি’রুদ্ধে কোনো আ’ন্দোলন করিনি।

হেফাজতে ইস’লাম স’রকারের বি’রুদ্ধে নয়। ধ’র্মীয় অনুভূতিতে আ’ঘাত এলে আম’রা সংগঠন থেকে প্র’তিবাদ করি। আমাদের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি এবং গ্রে’প্তার বন্ধ করাসহ বিভিন্ন দাবি জানানো হয়েছিল।’ এসব দাবি তুলে ধ’রার পর স্ব’রা’ষ্ট্রমন্ত্রী কী’ জানিয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর স’ঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে জানাবেন বলেছিলেন।’

এদিকে হেফাজত নেতারা মামুনুল হকের বিয়ে নিয়ে বিতর্কের কারণে গো’পনে সালিস বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে। মোহাম্ম’দপুরে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় সম্প্রতি হেফাজতের কয়েকজন নেতা মামুনুলকে নিয়ে বৈঠকে বসেন। সেখানে মামুনুল হক সোনারগাঁয় রিসোর্টে তাঁর স’ঙ্গে থাকা না’রী জান্নাত আরা ঝর্ণাকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেন। মামুনুল বিয়েতে উপস্থিত থাকা সাক্ষীদের হেফাজত নেতাদের সামনে হাজির করেন।

এ ঘ’টনার পর হেফাজত নেতারা মামুনুলকে সহযোগিতার ব্যাপারে আশ্বা’স দেন। তবে পরবর্তী সময়ে আরেকটি বিয়ের ত’থ্য ফাঁ’স এবং ধারাবাহিক বিতর্কের কারণে হেফাজতের কয়েকজন নেতা মামুনুলের প্রতি বির’ক্ত হয়ে উঠেছেন। তাঁদের কয়েকজন প্রয়াত আমির আহম’দ শফির অনুসারীদের নিয়ে নতুন করে হেফাজতের কমিটি গঠন করতে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ শুরু করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।