গতকাল ৩৭ বছরে পা দিলেন লাক্স তারকাখ্যাত আজমেরী হক বাঁধন। জন্ম’দিনে জীবনসঙ্গী হিসেবে সত্যিকারের নারীবাদী একজনের সাথে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
গতকাল গণমাধ্যমে তিনি বলেন, এই ৩৭ বছরের মধ্যে ৩৪ বছর ধরে তিনি অন্যের জন্য বেঁচেছেন। পরিবার, সমাজ, পুরুষতন্ত্র যা চেয়েছে, তা–ই করেছেন। তিন বছর আগে তিনি বিষাক্ত বৈবাহিক স’ম্পর্ক থেকে সরে এসেছেন। নতুন জীবনসঙ্গীকে অবশ্যই হতে হবে সত্যিকারের নারীবাদী।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নিয়ে তিনি বলেন, ‘তিন বছর আগে আমি বিষাক্ত বৈবাহিক স’ম্পর্ক থেকে সরে এসেছি। আইনগতভাবে আমা’র সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার অধিকার পেয়েছি। শরীরের অ’তিরিক্ত মেদের মতো পুরুষতন্ত্র ঝরিয়ে ফেলেছি। আমা’র চিন্তায়, জীবনযাপনে পরিবর্তন এনেছি। তিন বছর আগে “বিয়ে টিকিয়ে রাখার খেলা”য় আমি হেরেছি। সেই হার আমা’র জীবনের সবচেয়ে বড় জয়। হারের মধ্য দিয়ে নতুন করে জন্ম নিয়েছি। তাই এটা আমা’র তৃতীয় জন্ম’দিন,’ বললেন বাঁধন।
নিজের বয়স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাধারণত কোনো ‘নায়িকা’ বয়স প্রকাশ করতে চায় না। ‘বয়স কেন লুকাব? এটাও একধরনের পুরুষতান্ত্রিক ষড়যন্ত্র’, বললেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘বয়স লুকিয়ে রাখতে হবে। কম কম বলতে হবে। বিয়ে গো’পন করতে হবে। বাচ্চা হলে জানানো যাবে না। কেন? আমা’র সব সত্যি নিয়েই আমি। আমা’র চুল পাকবে, মুখে বয়সের বলিরেখা পড়বে, চোখে লেগে থাকবে অ’ভিজ্ঞতার ছাপ। আমি কোনো কিছুই লুকাতে রাজি না। আমি যা, আমি তা–ই।’
বিয়ে প্রসঙ্গে তিনি জানালেন, এই মুহূর্তে বাঁধন ও তাঁর মে’য়ের স’ম্পর্কের ভাগ অন্য কাউকে দিতে চান না। তা ছাড়া বাঁধন এখন নিজেকেও সামলে নিয়েছেন। নিজেই এখন নিজের জন্য যথেষ্ট।তিনি বলেন, ‘মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমা’র প্রতি যাদের আবেগ কাজ করে, তাদের বেশির ভাগই নারী। তবে হ্যাঁ, জীবনে কিছু ভালো বন্ধুর প্রয়োজন। আমা’র তেমন বন্ধু আছে। তবে আগের বিয়ের অ’ভিজ্ঞতা এতটাই ভ’য়ংকর যে বিয়ের কথা ভাবলেই ভ’য় হয়।’
গতকাল শুটিংয়ে ছিলেন তিনি তাই রাত ১০টায় মে’য়ে সায়রা জন্ম’দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। বিচ্ছেদের পর মে’য়ে সায়রাকে নিয়েই আছেন বাঁধন। শুটিং শেষে রাতে ঘরে ফিরে দেখেন, মে’য়ে সায়রা হাতের আঙুলগুলোর মধ্যে একটা সাদা গো’লাপ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। বহুদিন ধরে মে’য়ে তার একটা সাদা গো’লাপগাছে পানি দিয়েছে, যত্ন করেছে। সাদা গো’লাপকে সে মনে মনে রেখে দিয়েছে মায়ের জন্য। গো’লাপটা সে ছিঁড়েছে জন্ম’দিনে মাকে উপহার দেবে বলে।













































