প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

ছোট পেটে স’ন্তানের জায়গা হয় কিন্তু বিরাট ফ্ল্যা’টে মায়ের জায়গা হয় না!

2
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

ছোট পেটে স’ন্তা’নের জায়গা হয় কিন্তু বিরাট ফ্ল্যা’টে মায়ের জায়গা হয় না! দশ মাস ১০ দিন গর্ভে ধারণ, ক’ষ্টের তী’ব্রতা সহ্য করে যে মানুষটি স’ন্তা’নের জন্ম দেন, তিনিই মা।

বাবাও যে কোন ত্যা’গ স্বীকার করেন না, এমন নয়! জীবনের সবটুকু দিয়ে স’ন্তা’নকে মানুষ করেন। কিন্তু সেই স’ন্তা’নরা কি বাবা-মাকে মনে রাখে?

স’ন্তা’নের কাছে মা-বাবার বেশি কিছু চাওয়ার থাকে না। থাকে শেষ বয়সে আদরের স’ন্তা’নের পাশে থেকে সুখ-দুঃখ ভাগ করার ইচ্ছা। আর এ ইচ্ছা নিয়েই প্র’ত্যেক মা-বাবা প্রহর গুণতে থাকেন দিবা-র’জ’নী। কিন্তু অনেকেরই সেই স’ন্তা’নের কাছে আ’শ্র’য় না হয়ে আ’শ্র’য় হয় আপনজনহীন বৃদ্ধাশ্র’মে।

শেষ বয়সে মস্ত ফ্ল্যা’টের ঘরের কোণেও জ’ন’মদুখী মা-বাবার এতটুকুও জায়গা মিলে না। ওদের ছুঁড়ে দেয়া হয় প্র’বী’ণ নিবাসনামীয় ন’র’কে। তবুও প্রতিবাদ দানা বাঁধে না; মন অভিশা’প দেয় না।

আজ যারা বৃদ্ধ তারা নিজেদের জীবনের সব সময় এবং ধন স’ম্প’দ বিনিয়োগ করেছেন স’ন্তা’নের জন্য, নিজের জন্য রাখেননি কিছুই। কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে স’ন্তা’নের কাছ থেকে এর একটি ক্ষুদ্র অংশও তারা পাচ্ছেন না। কখনো দেখা যায় স’ন্তা’ন তার নিজের পরিবারের খরচ জো’গা’তে হিমশিম খাচ্ছে, তাই পিতা-মাতাকে মনে করছে বোঝা। নিজে স্ত্রী-স’ন্তা’ন নিয়ে একটু ভালো থাকার জন্য বাবা-মার ঠাঁই করে দিয়েছেন বৃদ্ধাশ্র’মে।

আবার এমনো দেখা যায় যে স’ন্তা’নের টাকা পয়সার অভাব নেই, কিন্তু পিতা-মাতাকে নিজের কাছে রাখার প্র’য়ো’জ’ন বোধ করছেন না, বা বোঝা মনে করছেন। হয় নিজেই পাঠিয়ে দিচ্ছেন বৃদ্ধাশ্র’মে, নয়ত অ’ব’হে’লা দু’র্ব্যবহার করে এমন অবস্থার সৃষ্টি করছেন যেন তাদের পিতা-মাতা নিজেরাই সরে যান তার সাধের পরিবার থেকে। তবে এমন স’ন্তা’নের সংখ্যা অসংখ্য নয়।

একবার বৃদ্ধনিবাসে পাঠাতে পারলেই যেন সব দা’য়’মু’ক্তি। এভাবে নানা অ’জু’হা’তে পিতা-মাতাকে দূরে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। অনেক নামি-দামি বু’দ্ধি’জী’বী, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষক, চা’ক’রি’জী’বী যারা এক সময় খুব বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ছিলেন, বৃদ্ধ বয়সে এসে নিজের স’ন্তা’নের দ্বারাই অ’ব’হে’লা ও বঞ্চনার শি’কার হয়ে বৃদ্ধাশ্র’মের স্থায়ী বা’সি’ন্দা হতে বাধ্য হচ্ছেন।

অনেক স’ন্তা’ন বা আত্মীয়-স্বজন আর তাদের কোনো খবরও নেন না। তাদের দেখতে আসেন না, এমনকি প্র’য়ো’জ’নীয় টাকা-পয়সা বা জিনিসপত্রও পাঠান না। বাড়িতে কোনো অ’নু’ষ্ঠা’নে বা ঈদের আনন্দের সময়ও পিতা-মাতাকে বাড়িতে নেন না।

এমনও শোনা যায়, অনেকে পিতা বা মাতার মৃ’ত্যুশয্যায় বা মা’রা যাওয়ার পরও শেষবার দেখতে যান না। বৃদ্ধাশ্র’ম অ’ব’হে’লি’ত বৃদ্ধদের জন্য শেষ আ’শ্র’য়। তাদের সারাজীবনের অবদানের যথার্থ স্বী’কৃ’তী, শেষ সময়ের স’ম্মা’ন ও নিরাপত্তা দেয়া হয় এসব বৃদ্ধাশ্র’মে।

এখানে তারা নির্ভাবনায়, স’ম্মা’নের সঙ্গে, আনন্দের সঙ্গে বাকি দিনগুলো কাটাতে পারেন। প্র’য়ো’জ’নে অনেক বৃদ্ধাশ্র’মে চিকিৎসারও সুন্দর ব্যবস্থা করা আছে। কিন্তু সব প্রা’প্তি’র মাঝেও এখানে যা পাওয়া যায় না তা হলো নিজের পরিবারের সা’ন্নি’ধ্য।