অনেকের বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের বাধ্যবাধকতা থাকে বা অ’সুবিধা থাকে যার ফলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননা অনেকেই। তাদের পড়াশোনা করার ইচ্ছা কিংবা কঠোর পরিশ্রম করার ক্ষমতা থাকলেও তারা সেটা করতে পারেন না।
কিন্তু এমন অনেকেই আছেন যারা সব রকম বাধ্যবাধকতা এবং অ’সুবিধা গু’লি পার করেও নিজেদের পথ ঠিকই তৈরি করে নেন।আজকের গল্পটা এমনই একজন ব্যক্তিকে নিয়ে। শৈশব কাল থেকে বাড়িতে আর্থিক সমস্যার কারণে তাকে পড়াশোনা মাঝ রাস্তা ছেড়ে বাড়ির বাইরে কাজ করতে বেরিয়ে যেতে হয়েছিল বাড়ির পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য এবং আজ তিনি সাফল্যের একটি নতুন উদাহ’রণ হয়ে উঠেছেন। তার পথে হাজারো বাধা এসেছে কিন্তু তুমি থেমে থাকেননি।
আম’রা যাকে নিয়ে কথা বলতে চলেছি তিনি হলেন আসিফ আহমেদ। তিনি চেন্নাই এর পল্লবরামে থাকেন। তিনি এক নিম্নমধ্যবিত্ত বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তাকে লড়াই করতে হতো। তার বাবার চাকরি চলে যাওয়ার পরে তাদের পরিবারের অবস্থা আরো খা’রাপ হতে থাকে। তিনি 12 বছর বয়স থেকে সংবাদপত্র এবং বই বিক্রি করতেন।
এরপর তিনি 14 বছর বয়সে চামড়ার জুতার ব্যবসা চালু করেন এই ব্যবসা থেকে তিনি এক লক্ষ টাকা আয় করেছিলেন। তবে হঠাৎই তার এই ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। আসিফের ছোটবেলা থেকে রান্নার খুব শখ ছিল। তাই তিনি বিরিয়ানি বানানোর কাজ করতে শুরু করে।তিনি বিয়েতে এবং স্থানীয় অনুষ্ঠানে রান্না করতেন। তবে এই কাজটিও তার টেকেনি। এর পরে তিনি ঠিক করে নিয়েছিলেন অন্যের জন্য কাজ করবেন না। তার বাড়িতে জমানো 4000 টাকা দিয়ে তিনি তার বাড়ির কাছে একটি বিরিয়ানির স্টল খোলেন। লোকেরা তার বিরিয়ানি বেশ পছন্দ করতে শুরু করলেন।
তিনি বাড়িতে বিরিয়ানি তৈরি করতেন এবং বাজারে বিক্রি করতে যেতেন। তার বিরিয়ানির বিক্রি বাড়ার সাথে সাথে তার উপার্জনও বাড়তে থাকে। 2002 সালে তিনি একটি দোকান ভাড়া নিয়েছিলেন এবং দোকানের নাম রেখেছিলেন ‘আসিফ বিরিয়ানি’। তিন বছর পর তিনি তার দোকানে কর্মী নিয়োগ করলেন।
এরপরে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে আরও কয়েকটি দোকান খুললেন যাতে তার বিরিয়ানি প্রচার হয় এবং তার ব্যবসা আরো বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ক্রমবর্ধমান কাজের কারণে পরিবারে মতবিরোধ শুরু হয়। মতবিরোধ শেষ করার জন্য, তিনি দুটি রেস্তোঁরা তার মায়ের নামে এবং দুটি রেস্তোঁরা তার ভাইকে দিয়েছিলেন।আপনি জেনে অ’বাক হবেন যে আসিফের ব্যবসা, যেখান থেকে সর্বত্রই হোঁচট খেয়ে শুরু হয়েছিল, আজ একই আসিফের বিরিয়ানির ব্যবসা ৪০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।।













































