পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানার বিল গ্যারকা পাড়ের সমৃদ্ধ গ্রাম চরপাড়া। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত এ গ্রামটিতে এখন সন্ধ্যা নামলেই গ্রামবাসীর চোখে-মুখে ভয়াবহ আতঙ্ক। সংঘবদ্ধ ও সশস্ত্র গরুচোরদের ভয়ে তারা আতঙ্কিত থাকেন। গরু চুরি ঠেকাতে এ গ্রামের সব গরু মালিক এখন গোয়াল ঘরে রাত কাটান। অনেকে গরুর দড়ি হাতে মুঠোয় বেঁধে ঘুমান। তবু থামেনি গরু চুরি। গত ৫ মাসে অর্ধশতাধিক গরু চুরি হয়েছে বলে গ্রামের লোকজন জানিয়েছেন।
কৃষক বধু আছিয়া খাতুন জানান, তার স্বামী রমজান আলী ভ্যানচালক। তারা সংসারের স্বচ্ছলতার জন্য একটি গরু পালন করছেন। তাদের গোয়ালঘর ভাঙাচোরা হওয়ায় তার স্বামী গোয়াল ঘরে থাকেন। গরু দড়ি হাতে নিয়ে মেঝেতেই ঘুমান। এর মধ্যে একদিন ঘুমন্ত অবস্থায় গরুর লাথি খেয়ে আঘাত পেয়েছেন রমজান আলী। কোরবান আলী জানান, কিছু জমিজমা আছে। সেই জমিতে সংসারের খরচ ওঠে না। তাই আর গরু পুষে বাড়তি কিছু আয় করেন। কিন্তু চোরের ভয়ে তারা দিশেহারা।
তিনি ও তার স্ত্রী রেহানা খাতুন দুইজন রাত জেগে গরু পাহারা দেন। তিনি আরো জানান, পাকা গোয়াল ঘর দেয়ার সামর্থ্য নেই। তাই তিনি গোয়াল ঘরের চারদিকে বাবলা ও খেজুরের কাঁটা দিয়ে রেখেছেন।তিনি বলেন, আমার বাপ দাদারা কেউ কোনোদিন গোয়ালঘরে থাকেনি। আজ গরু চোরদের অত্যাচারে আমাক গোয়াল ঘরে থাকতে হচ্ছে।
সন্তানরা নিষেধ করে গোয়াল ঘরে থাকতে, তারপরও থাকছি। কারণ গোয়াল ঘরে আমি না থাকলে গরু থাকবে না। আমরা একমাত্র সম্বলটি নিয়ে আতঙ্কে আছি কিন্তু আমাদের দুঃখ দেখার মত কেউ নেই। গোয়াল ঘরেই রাখা হয়েছে বিছানা গোয়াল ঘরেই রাখা হয়েছে বিছানা গরু চুরির শিকার আবদুল মান্নান জানান, ৩ বছর আগে একটি বাছুর গরু কিনেছিলাম। সেটিকে তিন বছর লালন পালন করে বড় করেছিলাম। সেটি গাভীন ছিল। কয়েক মাস পরে দোয়াল গাভী হত। আমার থাকার ঘরের পাশেই গোয়াল ঘর ছিল।
রাত জেগে দেখার পরও একদিন অসচেতন থাকার কারণে বাজারমূল্যে দেড় লাখ টাকা দামের সেই গাভীটি গত মাসে গরু চুরি হয়েছে। গরু হারানো কৃষক রেজাউল করিম জানান, তার তিনটি গরু চুরি হয়েছে। আর দুটি গরু আছে। যেখানে শুয়ে থাকি, সেখানে বেধে রাখি। ফেরদৌসী খাতুন জানান, প্রতিদিন গরু চোর আসে। এজন্য সারা গ্রামের মানুষ আতঙ্কে থাকে। চরপাড়া গ্রামের গরু মালিকরা জানান, তাদের বলার জায়গা নেই। গরু চোর দেখে-শুনে চিনেও তারা বলতে পারেন না।
তারা ভয় পান। তারা জানান, গরু চোররা সশন্ত্র থাকে। তাদের মোকাবিলা করা নিরীহ সাধারণ জনগণের একার পক্ষে সম্ভব না। তারা বলেন, তাদের পাশে প্রশাসনের লোকজন আন্তরিকতার সঙ্গে থাকলে এমন দুর্ভোগ হত না। তারা বললেন, প্রতিটি চাষি বাড়ি গিয়ে দেখা যাবে, গোয়াল ঘরে চাষির বিছানা পত্র। এই গ্রামে সত্যিকার অর্থে পুলিশী টহল হলে এমনটি হওয়ার কথা ছিল না।
পাবনা জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আল মামুন হোসেন জানান, চাষিরা বাড়তি কিছু আয়ের জন্য গরু মোটাতাজা করেন। এর পিছনে আর্থিক খরচের পাশাপাশি শ্রমের বিষযটি জড়িত আছে। সে কষ্টের গরু চুরি হয়ে যাওয়াটা দুঃখজনক। এটা চাষির একার নয় দেশেরও ক্ষতি। আতাইকুলা থানার ওসি জালাল উদ্দিন জানান, তিনি থানায় সদ্য যোগদান করেছেন। তিনি খোঁজ খবর নিবেন। গরুচুরি রোধে প্রয়োজনে পুুলিশী টহল দেয়া হবে।











































