প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

করোনা সংক্রমণ উর্ধ্বমুখী থাকা জেলায় লকডাউন কার্যকরের পরমর্শ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের: বিশ্লেষক প্রতিক্রিয়া

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

বাংলাদেশের যে সব জেলায় কোভিডের সংক্রমণ উর্ধ্বমুখী সেখানে লকডাউন কার্যকর করার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আজ সোমবার (৩১ মে) দুপুরে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, সংক্রমণ  যাতে সারাদেশে ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য এরকম কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়া দারকার। কারণ করোনা যে দেশেবৃদ্ধি পেয়েছে সেদেশে অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। আমরা চাই না, আমাদের ইকোনমি ক্ষতিগ্রস্ত হোক। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার পরেও সীমান্তবর্তী সাত জেলায় লকডাউন না করার কারণ জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ওই জেলাগুলোতে আম, লিচুসহ মৌসুমি ফল উৎপাদন হয়েছে। এসব ফল ওইসব অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল। চাষিরা যাতে সেগুলো বাজারজাত করতে পারেন, এই মানবিক চিন্তা থেকেই সেখানে লকডাউন করা হয়নি। তবে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন লকডাউন দিতে পারবে।

সোমবার (৩১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদসম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, কোনো এলাকায় করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি খারাপ হলে স্থানীয় প্রশাসন, সিভিল সার্জন ও জনপ্রতিনিধিরা মিলে পুরো জেলাবা আংশিক এলাকায় লকডাউন দিতে পারবেন। এ বিষয়ে পরিষ্কার নির্দেশনা দেওয়াহয়েছে। ইতোমধ্যে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আমের রাজধানী বলে খ্যাত সীমান্তর্তী জেলা  চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলমান লকডাউন আরও সাতদিন বাড়ানো হয়েছে।

সোমবার (৩১ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মঞ্জুরুল হাফিজ তারকার্যালয়ে প্রেস বিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন।এ র আগে গত ২৪ মে সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে এক সপ্তাহের জন্য বিশেষ লকডাউন ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ। জেলা প্রশাসক বলেন, জনগণকে সুরক্ষিত ও নিরাপদ রাখতে জেলা করোনা প্রতিরোধকমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সাত দিনের জন্য জেলাজুড়ে লকডাউন কার্যকর করা হবে। লকডাউনের সময় সব দোকানপাট ও যান চলাচল বন্ধ থাকবে। রাজশাহী ও নওগাঁ থেকে কোনো যানবাহন চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রবেশ করতে পারবে না, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকেও কোনো যানবাহন জেলার বাইরে যাবে না। রোগী ও অন্য জরুরি সেবাদানকারীর ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না।

জেলা সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী বলেন, জেলায় এ পর্যন্ত এক হাজার ৭২৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬০০–এর মতো শনাক্ত হয়েছে গত ঈদের পর থেকে। ঈদের আগে নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিল ১৪শতাংশ, সেখানে কয়েক দিনের মধ্যে বাড়তে বাড়তে ২৬ মে ৫৫ শতাংশ এবং তারপর ৬২শতাংশে উঠেছিল। তবে পরে একটু কমেছে।

সারাদেশে ২৪ ঘন্টায় ৩৬ জনের মৃত্যুঃ 

করোনাভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ৩৬ জন। এ নিয়ে মোট মৃতেরসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬১৯ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করেকরোনা পজিটিভ হয়েছেন আরও ১ হাজার ৭১০ জন। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮ লাখ ৫৪০ জন।আজ সোমবার (৩১ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৫৬৭ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৪০  হাজার ৩৭২ জন। এদিন মোট করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৮ হাজার ১৭৮ জনের। শনাক্তের হার ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ।এর আগে রোববার (৩০ মে) আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় ৩৪ জন মারা যান এবং ১ হাজার ১৪৪ জনের করোনা শনাক্তের কথা জানায় অধিদপ্তর।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/ বাবুল আখতার /৩১

bangla news।