বর্তমান সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুকের একচেটে ও সম্পূর্ণরূপে একের অধীন আধিপত্য খর্ব করার হু’মকি দিয়েছেন মা’র্কিন রক্ষণশীল আইনপ্রণেতারা। সম্পতি সাবেক মা’র্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রা’ম্পও ফেসবুককে তাদের কৃতকর্মের জন্য রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে বলে হু’মকি দিয়েছেন।
৫ মে ক্যাপিটল হিলে হা’মলার পর ট্রা’ম্পকে নিষিদ্ধ করে টুইটার, ফেসবুক ও ইউটিউব তার অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে।ট্রা’ম্পের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত আসার পর যু’ক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীলদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়।
নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ফেসবুকের ওভা’রসাইট বোর্ড পর্যালোচনা করে বলেছে, ট্রা’ম্পকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত একটি আদর্শ সিদ্ধান্ত ছিল না। অন্য ব্যবহারকারীদের জন্য যে নিয়ম অনুসরণ করা হয়, তাঁর ক্ষেত্রেও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ফেসবুককে এ বিষয়ে ছয় মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত দিতে বলেছে ওভা’রসাইট বোর্ড। এ আদেশের অর্থ দাঁড়ায়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ট্রা’ম্পের নিষেধাজ্ঞা আপাতত বহালই থাকছে।যদি তাকে সাইটে আবার অনুমতি দেওয়া হয়, তার অ্যাকাউন্টটি সক্রিয় করতে ফেসবুকের সাত দিন সময় লাগবে।
ইউটিউব জানিয়েছে যে ‘রিয়েল-ওয়ার্ল্ড সহিং’সতার’ হু’মকি হ্রাস পেলে তারা ট্রা’ম্পের অ্যাকাউন্টটি আবার সক্রিয় করবে।টুইটার স্থায়ীভাবে ট্রা’ম্পকে নিষিদ্ধ করেছে। এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার আট কোটি ৮০ লাখ অনুসারী (ফলোয়ার) ছিল।ট্রা’ম্প এক বিবৃতিতে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ট্রা’ম্প বলেছেন, ফেসবুক, টুইটার ও গুগল যা করেছে, তা আ’মেরিকার জন্য চরম বিব্রতকর, অ’পমানজনক। ফলে, এসব প্রযু’ক্তিপ্রতিষ্ঠানকে তাদের এমন কৃতকর্মের জন্য রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে বলে তিনি হু’মকি দিয়েছেন।
ট্রা’ম্প বলেছেন, আ’মেরিকার প্রেসিডেন্টের (যখন তিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন) কাছ থেকে স্বাধীনভাবে কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নৈরাজ্যবাদী বামেরা সত্যকে ভ’য় পায় বলে এমন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, সত্য এমনিতেই বেরিয়ে আসবে আরও বড় ও শক্তশালী হয়ে। আ’মেরিকার জনগণ এসব প্রযু’ক্তিপ্রতিষ্ঠানের পক্ষে দাঁড়াবে না বলেও মন্তব্য করেন ট্রা’ম্প।
এদিকে ট্রা’ম্পের সাবেক উপদেষ্টা মা’র্ক মেডৌস ফেসবুকের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত জানার পর এক বিবৃতিতে বলেছেন, আজ আ’মেরিকার জন্য একটি শোকের দিন। ফেসবুকের জন্যও দিনটি শোকের। ফেসবুকের একচেটিয়া আধিপত্য খর্ব করার জন্য আ’মেরিকার আইনপ্রণেতারা উদ্যোগী হবেন। ফেসবুক তাদের নিজেদের পক্ষের লোকজনের মতো ট্রা’ম্পকে তাঁর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রদান না করে নিজেদের বিপদ ডেকে এনেছে।
এছাড়া রিপাবলিকান সিনেটর মা’র্শা ব্ল্যাকবার্ন বলেছেন, ট্রা’ম্পকে ফেসবুকে নিষিদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত শুনে তিনি খুবই অসন্তুষ্ট। মা’র্ক জাকারবার্গ নিজেকে স্বাধীন মতপ্রকাশের একচেটিয়া মধ্যস্থতাকারী মনে করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ বলেছেন, সব উদারনৈতিক ফেসবুকে ট্রা’ম্পকে নিষিদ্ধ রাখার বিষয়টি উদ্যাপন করছেন।
প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান নেতা কেভিন ম্যাকার্থি বলেছেন, ফেসবুক স্বাধীন কথা বলা ও অবাধ বিতর্কের বদলে ডেমোক্রেটিক পার্টির সুপারপ্যাকের মতো কাজ করতে বেশি আগ্রহী। আজ ট্রা’ম্পের ক্ষেত্রে যা হয়েছে, কাল সব রক্ষণশীলের ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠান একই আচরণ করবে বলে তিনি আশ’ঙ্কা প্রকাশ করেন। কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতার মধ্য দিয়েই এসব প্রতিষ্ঠানের এমন তৎপরতা বন্ধ করা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য,ফেসবুকে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকার সিদ্ধান্ত আসার এক দিন আগেই ট্রা’ম্প যোগাযোগের জন্য নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন। ‘ফ্রম দ্য ডেস্ক অব ডোনাল্ড জে. ট্রা’ম্প’ নামের নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন তিনি। অনুরাগী-অনুসারীরা এ প্ল্যাটফর্মে নাম নিবন্ধন করে ট্রা’ম্পের বক্তব্য জানতে পারবেন। এখন পর্যন্ত এ প্ল্যাটফর্মে শুধু ট্রা’ম্পই বলবেন। সেখানে অন্য কারও মন্তব্য করার কোনো সুযোগ নেই।













































