প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

ইমামের সঙ্গে চতুর্থ সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলেন আসমা!

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

২৬ বছর বয়সী আছমা ৫৪ বছর বয়সী মসজিদের ইমাম মাওলানা আবদুর রহমানের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়েছিলেন। এরই জের ধরে আসমার স্বামী আজহারকে ৬ টুকরো করে লাশ মসজিদের সেপটিক ট্যাংকে রেখে দেন ইমাম আব্দুর রহমান। এ ঘটনায় লাশ উদ্ধারের পর ইমাম আবদুর রহমানকে আটক করে র‍্যাব। পরে পরকীয়া প্রেমিকা আসমা খাতুনকেও গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বুধবার আজহারের স্ত্রী আসমা আক্তার ও মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, আজহারকে হত্যার পর ইমামের সঙ্গে চতুর্থ সংসার করতে চেয়েছিলেন আসমা। তাই তার পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। আসমা ইমাম আব্দুর রহমানকে প্রায়ই বলতেন, আজহারকে হত্যা করতে না পারলে তিনি নিজেই আত্মহত্যা করবেন অথবা ইমামকে হত্যা করবেন।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা র‌্যাব সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, রমজান মাসের সাত দিন আগে আজাহারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মসজিদের ইমাম ও তার স্ত্রী আসমা আক্তার।

এ পরিকল্পনা আলোচনা করতে মসজিদের ইমাম তার এক ছাত্রের নামে একটি মোবাইল ফোন ও সিম কিনে আসমা আক্তারকে দেয়। ওই ফোনে হত্যার সম্পর্কে তারা শলা পরামর্শ করতো বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।২০১৪ সালে টাঙ্গাইলের এক কৃষকের সঙ্গে বিয়ে হয় আসমা আক্তারের। বছর খানেক সংসার করার পর তাকে ডিভোর্স দিয়ে ২০১৫ সালে বিয়ে করেন তার নিহত বর্তমান স্বামী আজহারের বড় ভাইকে।

বড় ভাইয়ের সঙ্গে সংসার শুরুর কিছুদিন পরই আসমা আক্তার দেবর আজহারের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে ২০১৬ সালে তারা ঢাকা পালিয়ে এসে বিয়ে করেন। তাদের শিশু সন্তান আরিয়ানকে আরবি শেখানোর জন্য মাওলানা আবদুর রহমানকে টিউটর রাখেন আজহার। এই সুযোগে আসমার সঙ্গে পরিচয় হয় আবদুর রহমানের। কিছুদিন যেতে না যেতেই তারা প্রেমে পড়ে যান।

এর আগে মঙ্গলবার দক্ষিণখানের সরদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমানকে এবং সন্ধ্যায় রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী ভুক্তভোগী আজহারের স্ত্রী আসমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।