প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

আসছে রাশিয়ার ভ্যাকসিন

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার মজুত ফুরিয়ে আসা নিয়ে জনমনে উদ্বেগের মধ্যেই দেখা গেল আশার আলো। সংকটের আগেই রাশিয়া থেকে আসছে ৪০ লাখ ডোজ টিকা। আগামী মে মাসের মধ্যেই এই টিকা দেশে এসে পৌঁছাবে। দুই ডোজের স্পুটনিক-ভি প্রায় ৯১ শতাংশ কার্যকর। গতকাল মঙ্গলবার রাশিয়ার উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন স্পুটনিক ভি ব্যবহারে জরুরি অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান।

এর আগে সকালে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠক হয়। সেখানে কমিটি এ টিকা অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে সুপারিশ করে। মেজর মাহবুব জানান, রাশিয়ার স্পুটনিক ভি জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ায় এই টিকা আমদানি ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখন আর কোনো আইনগত বাধা রইল না। সুরকার টু সরকার (জি টু জি) চুক্তির মাধ্যমে এই টিকা আনা হচ্ছে। সবকিছু দেখে রাশিয়ার টিকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, মে মাসের মধ্যে রাশিয়ার টিকা আসবে।

শুধু রাশিয়ার নয়, চীনের টিকা পেতেও যোগাযোগ করছে সরকার। আমরা মে মাসের মধ্যে রাশিয়ার টিকা পাব। পাইপলাইনে চীনের টিকাও রয়েছে। স্পুটনিক ভি টিকার সমন্ত ডাটা আমরা পেয়েছি। সরকারিভাবে আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমাদের কাছে এটি এসেছে। আমরা ডাটাগুলো দেখেছি। বিশেষজ্ঞরা এটি বাচাইবাছাই করেছে।

আমাদের ১২ সদস্যের পাবলিক হেলথ কমিটি রয়েছে। তাদের একটি মিটিং হয়েছে। মিটিংয়ে এ বিষয়ে সবকিছু দেখে সুপারিশ করা হয়েছে। সেই সুপারিশ দেখে এই টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস প্রতিরোধী অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত টিকা ব্যবহার করা হচ্ছিল। আজ আমরা রাশিয়ার স্পুটনিক ভি-এর ইমার্জেন্সি অথরাইজেশন দিয়েছি। এই টিকা রাশিয়াতে ছাড়াও পৃথিবীর প্রায় ৬০টি দেশে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটা দুই থেকে আট ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় সংরক্ষণ

 করতে হবে। বিশ্ব সংস্থা অনুমোদন না দিলেও এটি মানুষের দেহে প্রয়োগ করতে পারব। জরুরি প্রয়োগে আমার অনুমোদন দিয়েছি। টিকা কার্যক্রম শুধু সরকারি পর্যায় থেকে করা হবে। বিনামূল্যে দেওয়া হবে। প্রথম ডোজ দেওয়ার ২১ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে। এটা প্রায় ৯১ শতাংশ কার্যকর এবং এর সেফটি মার্জিনও ভালো। গত ১২ এপ্রিল ভারতেও জরুরি ব্যবহারের জন্য এই টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়। 

রাশিয়ার টিকা বাংলাদেশে উৎপাদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। আমাদের তিনটি ফার্মাসিউটিক্যালস-ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস, পপুলার এবং হেলথ কেয়ার টিকা উৎপাদন করতে পারে। আমাদের দেশে উৎপাদনের বিষয়ে ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যাল ইতোমধ্যে এ নিয়ে কথা বলছে রাশিয়ার সঙ্গে। আমাদের টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যাল বর্তমানে ১৪টি টিকা উৎপাদন করছে। সেসব বিদেশে রপ্তানিও হয়।

প্রসঙ্গত, গত নভেম্বরে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত টিকা কোভিশিল্ডের ৩ কোটি ডোজ টিকা বিষয়ে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী বেক্সিমকো ফার্মা বাংলাদেশে এই টিকা ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে বাংলাদেশে সরবরাহ করবে। প্রতি মাসে সেরাম থেকে দেশে ৫০ লাখ ডোজ আসার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টিকা পাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত ভারত থেকে টিকা এসেছে মোট এক কোটি দুই লাখ ডোজ।

এর মধ্যে ভারত সরকারের উপহার হিসেবে গত ২১ জানুয়ারি আসে ২০ লাখ ডোজ। সরকারের অর্থে কেনা টিকার প্রথম চালানে ২৫ জানুয়ারি আসে ৫০ লাখ ডোজ। সর্বশেষ ফেব্রুয়ারি মাসের ২৩ তারিখ আসে ২০ লাখ ডোজ। গত ২৬ মার্চে আসে ১২ লাখ ডোজ। অর্থাৎ ভারত থেকে কেনা ও উপহার মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট টিকা এসেছে এক কোটি দুই লাখ ডোজ।

দেশে গত সাত ফেব্রুয়ারি থেকে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে টিকার দ্বিতীয় ডোজ। তবে গত ফেব্রুয়ারি মাসে চুক্তির ৩০ লাখ এবং মার্চ মাসের ৫০ লাখ অর্থাৎ চুক্তির ৮০ লাখ টিকা এখনো দেশে আসেনি। এপ্রিলে টিকা আসার সম্ভাবনাও এখন পর্যন্ত নেই।  ইতোমধ্যে ভারত টিকা রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় টিকা প্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশে টিকার মজুত ফুরিয়ে যাবে। এ কারণে প্রথম ডোজ টিকা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।