প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

আমি ইন্ডাস্ট্রির ‘আদরের ছেলে’: অপূর্ব

4
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

ঈদের আগেরদিন পর্যন্ত কাজ করেছেন, একটি কাজের প্যাচওয়ার্ক বাকি থাকায় ঈদের পরদিনই আবার শুটিংয়ে নামেন তিনি। আসছে ঈদকে ঘিরে যার ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে, তিনি জিয়াউল ফারুক অ’পূর্ব।

এরইমধ্যে শেষ করেছেন নতুন ৩টি নাট’কের শুটিং। সেগুলো হলো- মন দরিয়ায়, আদরে ও কি কারণে। শুটিং সেটেই সমসাময়িক বিষয়ে কথা হয় এই তারকা অ’ভিনেতার সঙ্গে। সেই আলাপের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধ’রা হলো…সবাই এখন ভিউয়ের দিকে ছুটছে। একটা ভালো কাজের ক্ষেত্রে ভিউ কি কোনো ফ্যাক্ট বলে মনে করেন?

ভিউ অবশ্যই একটা ফ্যাক্ট। কোনো একটা ভালো কাজের যখন ভিউ হয় তখন সেটার আনন্দের মাত্রাটা সীমা ছাড়িয়ে যায়। অনেকেই যারা ভিউ এবং নাট’কের মানদ’ণ্ড নিয়ে কথা বলেন তারাও কিন্তু হিসেবে করে দেখেন যে, তার ওই পোস্টটা কতো রিচ হলো। এটাই স্বাভাবিক। সেদিক থেকে ভিউ অবশ্যই একটা ফ্যাক্ট।বেশ অনেক বছর ধরে নাট’কের শীর্ষ স্থানে অবস্থান করছেন আপনি। আপনার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক উত্থান-পতন দেখেছেন। ২০২১ সালে এসে যদি বর্তমানে টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বলা হয়, সেক্ষেত্রে আপনি কী’ বলবেন?

ইন্ডাস্ট্রি তো একজনে হয় না, সবাইকে নিয়েই এই ইন্ডাস্ট্রি। এখানে বিভিন্ন সেক্টর রয়েছে। প্রত্যেকটা সেক্টরে অনেক অনেক মানুষ থাকে, প্রত্যেকেই একে অ’পরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জ’ড়িত। পুরোটাই একটা পলিসি বা স্ট্র্যাটেজি। যারা এই মাধ্যমের শীর্ষ ক’র্তা অর্থাৎ প্রযোজক কিংবা ব্যবসায়ী তারা এটা ভালো বলতে পারবেন। আমি যেহেতু ব্যবসায়ী কিংবা কোনো চ্যানেলের মালিক না, সেহেতু ওভা’রঅল বলাটা খুব কঠিন। যারা কাজ করছেন সবাই ঠিকঠাক আছেন কিনা, সেই খোঁজ খবরটা রাখার চেষ্টা করি। আমা’র কাছে মনে হয় সবাই ভালো কাজ করছেন, অনেকে ভালো করার চেষ্টা করছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলই কিন্তু আজকের এই ইন্ডাস্ট্রি।

কয়েকবছর আগে নাট’কের মান ও গল্প নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছিলো। অশ্লীলতা, নাট’কে অশ্লীল সংলাপ ব্যবহার; এসবের একটা প্রচলন দেখা গিয়েছিলো। তারপর সবকিছু ঠিকও হয়েছিলো। কিন্তু ইদানীং আবারো সেসবের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। একই ইন্ডাস্ট্রির একজন শীর্ষস্থানীয় অ’ভিনয়শিল্পী হিসেবে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আপনি বিষয়টিকে কী’ভাবে দেখেন, একটু ব্যাখ্যা করবেন…

আমি এতটুকু নিশ্চিত করতে পারি, আমা’র এত বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আমি অন্তত এসব কিছু এলাউ করিনি। একটা কথা আছে যে, আপনি তো ভালো তো দুনিয়া ভালো। আর তাই আমি যেহেতু এসব করতে দিইনি, আমা’র কাছে দুনিয়াটা অবশ্যই ভালো। আর যদি সেরকম কিছু হয়েও থাকে আমা’র মনে হয় না যে, দর্শক সেটাকে গ্রহণ করেছে বা করবে। দর্শকরাই এগুলো নিয়ে প্রতিবাদ করবে। আমি এটা বিশ্বা’স করি, অশ্লীলতা বা অশ্লীল কিছু অন্য কোথাও গ্রহণ করলেও এটলিস্ট বাংলাদেশের দর্শক এসব গ্রহণ করবে না। আমাদের দেশের দর্শকদের ওপর আমা’র এই বিশ্বা’সটুকু আছে। তারা অশ্লীলতাকে কখনোই সাপোর্ট করে না।

নাট’ক-সিনেমা থেকে শেখার অনেক কিছু রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন সময়ে নাট’কের নাম নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। নামের ক্ষেত্রেও কিছু অযাচিত বিষয় দেখা যায়। এই বিষয়ে আপনি কী’ বলবেন?এটা হচ্ছে একটা মা’র্কেটিং স্ট্র্যাটেজি। অনেক সময় অনেক সংবাদমাধ্যমেও কিন্তু এটা দেখা যায়। অদ্ভুত শিরোনাম দিয়ে নিউজ করে অনেকেই। যেকোনো নেগেটিভ কিছুই মানুষকে আকর্ষণ করে বেশি। এগুলোর কারণেই এরকমটা হচ্ছে।

কিছু কিছু পরিচালক কিংবা টিভি, চ্যানেলের মানুষজন সেই কাজগুলো করে থাকেন। তারা হয়তো সেই নেগেটিভ স্ট্র্যাটেজিটাই কাজে লাগান দর্শকদের অ্যাটেনশন পাবার জন্য। এটা তাদের স্ট্র্যাটেজি, তারাই ভালো বলতে পারবে। আর সেটা করে যদি তারা সাকসেস হয় তাহলে কিন্তু তারা সাকসেস। আজকে দর্শকরা যদি সেগুলোকে এলাউ না করে তাহলেই কিন্তু সেটা বন্ধ হবে। কারণ, শিল্পী, পরিচালক সবাই কিন্তু দর্শকদের জন্যই কাজ করে। ইন্ডাস্ট্রির প্রতি দায়িত্ব কিন্তু শুধু শিল্পী, পরিচালক কিংবা প্রযোজকদেরই না। দর্শকদেরও দায়িত্ব রয়েছে এখানে।

আমাকে যেহেতু এমন কোনো কিছুতে এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি, তার মানে আমি এটা পছন্দ করি না। ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করিনা বলেই আমাকে এসবে কখনো দেখা যায়নি আর যাবেও না।আর শেখার কথা যদি বলি, অনেক বিষয়বস্তুর উপরেই কিন্তু নাট’ক নির্মিত হয়। সেখানে কিছু গল্প দর্শকদেরকে ভাবায়, কিছু গল্প হাসায় আবার কাঁদায়; আবার কিছু গল্প সচেতনতা বৃদ্ধি করে। এতসব বিষয়বস্তুর মধ্যে দর্শক তার পছন্দ অনুযায়ী কাজগুলোই দেখবেন। তারা কোন কাজটা দেখবেন সেটা তাদের রুচি বা ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে।

একের মধ্যে সব খুঁজলে তো সবসময় তা পাওয়া যায় না। আবার যদি শুধু শিক্ষামূলক কাজই বেশি হয় তখন কিন্তু সবাই প্রশ্ন তুলে ভিন্নধ’র্মী কাজ কেন হচ্ছে না! ভিন্নধ’র্মী কিন্তু অনেক কিছুতেই হয়, সেই ভিন্নতা দর্শক মনে কতটা সাড়া ফেলতে পেরেছে সেটাই হচ্ছে দেখার বিষয়। আলটিমেটলি দর্শকরাই হচ্ছে সব, আম’রা শুধু দর্শকদের চাহিদাটা পূরণ করি। দর্শকরা যখন কোন কিছু পছন্দ করেন তখন আম’রা সেটার সংখ্যাটা বাড়িয়ে দিই আর পছন্দ না করলে সেটা কমিয়ে দিই। দর্শকদের চাহিদার ওপরেই সব।

এই সময়ে টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির সুপারস্টার বলা হয় জিয়াউল ফারুক অ’পূর্ব ও আফরান নিশোকে। আপনারা দুজনেই খুব ভালো বন্ধু, এটা সবাই জানেন। একই জায়গায় কাজ করতে গিয়ে কখনো কী’ আপনার বন্ধুকে প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে হয়?
হ্যাঁ, নিশো এবং আমি দুজনেই বেশ ভালো বন্ধু। এটা নতুন করে আর বলার কিছু নেই। দু’জনের মধ্যেই ভাই-বন্ধু একটা ব্যাপার সবসময় রয়েছে, এটা অনেক আগে থেকেই। আম’রা দুজনেই যেকোনো বিষয়ে কথা বলে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নিই। দুজন দুজনের পরাম’র্শ নিই।

ব্যক্তিগতভাবে যদি বলি, শুধু নিশো কেনো; আমি কাউকেই প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি না। আমা’র কাছে মনে হয়, আলো হচ্ছে এমন একটা জিনিস যেটাকে কখনোই দাবিয়ে রাখা যাবে না, সেটা ছড়াবেই। প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে আসলে লাভটা কী’? লাভ নেই তো কোনো। আমা’র কাজটা আমাকেই করতে হবে আবার নিশোর কাজটা নিশোকেই। বন্ধুত্বটা নিশো যেভাবে ফিল করে, আমিও সেটা সেইম ফিল করি। তবে দু’জনের চিন্তাধারার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য তো আছেই। আম’রা দু’জনেই ডিফারেন্ট পয়েন্ট অব ভিউ থেকে চিন্তা করি।

আমা’র কথা হচ্ছে পুরো ইন্ডাস্ট্রিটাই একটা পরিবার। আর একটা ইন্ডাস্ট্রি কখনোই একা চলতে পারে না, সবাইকে নিয়েই চলতে হয়। ইন্ডাস্ট্রি বললে কিন্তু সেখানে অনেক মানুষের সমন্বয় দরকার হয়। সবার সমন্বয়েই কিন্তু একটা ইন্ডাস্ট্রি, ইন্ডাস্ট্রি হয়। সবাই সবার মতো করে কাজ করি, আলোচনা করি আবার সমালোচনাও করি। যখন যেটা ফিল করি সত্যিটাই বলার চেষ্টা করি। প্রতিযোগিতা সব জায়গাতেই আছে কিন্তু আমি বিষয়গুলোকে এভাবেই দেখি। সুস্থ প্রতিযোগিতা হলে সবার মধ্যে ভালো কাজ করার আগ্রহটা বাড়ে। আমি খুবই শান্তিপ্রিয় মানুষ, শান্তিপূর্ণভাবেই কাজ করতে ভালোবাসি।

টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির বরপুত্র বলা হয় আপনাকে। যেকোনো বিপদ কিংবা খা’রাপ সময়ে বন্ধু কিংবা সহকর্মীদের কতটুকু পাশে পান?আল্লাহর রহমতে আমি অনেক অনেক সৌভাগ্যবান। আমা’র কোনো কিছু হলে গোটা ইন্ডাস্ট্রি ঝাঁপিয়ে পড়ে। এটা আমি পেয়েছি। আমাকে ইন্ডাস্ট্রির সবাই এতো সম্মান, ভালোবাসা দিয়েছে যা আসলে সবার ভাগ্যে জুটে কিনা আমি জানি না।

এদিক থেকে আমি অনেক অনেক বেশি সৌভাগ্যবান। বড়রা আমাকে অনেক আদর করে, ছোটরা সম্মান করে, ভাই-বন্ধুরা আমা’র সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলে। আমি এই ইন্ডাস্ট্রির খুবই আদরের ছে’লে। সবাই আমাকে অনেক বেশি ভালোবাসে। আমা’র যখনই কোনো বিপদ হয়েছে আমি মুখ দিয়ে আওয়াজ করার আগেই দেখি আমা’র আশেপাশে সবাই দাঁড়িয়ে আছে। এটা অনেক বড় ব্যাপার আমা’র জন্য।