আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম দুই ভাই খেলেছেন ইউসুফ ও ইরফান। আইপিএল(IPL) হল কোটিপতির লিগ। ২০০৮ সালে চালু হওয়া ভারতের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগটি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট লিগও বটে। দেশ-বিদেশের সব ক্রিকেটারেরা এখানে খেলার জন্য মুখিয়ে থাকেন।
![]()
তবে আইপিএলে খেলার সুযোগ পাওয়া খুব সহজ নয়। প্রত্যেক বছর নিলামে নাম ওঠা সকল ক্রিকেটারের কিন্তু শিকে ছেঁড়ে না। কোনও কোনও ক্রিকেটারের স্বপ্ন পূরণ হয়, কারোর আবার আইপিএলে খেলার স্বপ্নভঙ্গ হয়ে যায় আগামী এক বছরের জন্য। তবে কোটিপতির এই লিগে যেখানে একজন ক্রিকেটারেরই সুযোগ পাওয়া কঠিন, সেখানে একই পরিবারের দুই ভাই খেলেছেন এমনও কিন্তু বেশ কয়েকটি নজির রয়েছে।
![]()
পাঠান ব্রাদার্স: (Pathan Brothers)- আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম যে দুই ভাইয়ের জুটি খেলেছিলেন তাঁরা হলেন, ভারতের দুই তারকা অল-রাউন্ডার ইউসুফ পাঠান(Yusuf Pathan) এবং ইরফান পাঠান(Irfan Pathan)। তাঁরা বহু বছর বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে কোটিপতির এই লিগে খেলেছেন। আজ এমনই পাঁচ ভ্রাতৃদ্বয়ের নাম জেনে নেওয়া যাক যাঁরা আইপিএলে খেলেছেন।
![]()
• পান্ডিয়া ভ্রাতৃদ্বয় (Pandya Brothers)
আইপিএলে অভিষেক হওয়ার পর থেকে পান্ডিয়া ভ্রাতৃদ্বয় অর্থাৎ হার্দিক পান্ডিয়া(Hardik Pandya) এবং ক্রুণাল পান্ডিয়া(Krunal Pandya) মুম্বই ইন্ডিয়ান্স(MI) দলের নিয়মিত সদস্য হয়ে উঠেছেন। প্রতিভাবান এই দুই ভাইয়ের মধ্যে প্রথম আইপিএল খেলার শিকে ছিঁড়েছিল হার্দিকের। ২০১৫ আইপিএলে তাঁকে ১০ লাখ টাকার বেস প্রাইসে কিনেছিল নীতা আম্বানির দল। নিজের প্রথম আইপিএলেই নজরকাড়া পারফর্ম করার সৌজন্যে জাতীয় দলের দরজাও খুলে গিয়েছিল হার্দিকের সামনে।
![]()
এরপর ২০১৬ আইপিএলে হার্দিকের দাদা ক্রুণালকে ২ কোটি টাকা দিয়ে দলে নেয় মুম্বই। তারপর থেকে তিনিও মুম্বইয়ের প্রথম একাদশের একজন নিয়মিত সদস্য হয়ে উঠেছেন। ২০১৮ আইপিএলের বড় নিলামের আগেও নীতা অম্বানির দল তাঁকে ৮.৮ কোটি টাকা দিয়ে দলে রেখে দিয়েছিল। ভাইয়ের মতো ক্রুণালও কোটিপতির এই লিগে নিয়মিতভাবে ভালো পারফর্ম করে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছে।
![]()
• কারেন ভ্রাতৃদ্বয় (Curran Brothers)
গত কয়েক বছর ধরে ইংল্যান্ডের কারেন ভ্রাতৃদ্বয়ও আইপিএলের নিয়মিত সদস্য হয়ে উঠেছেন। টম কারেনের(Tom Curran) আইপিএল যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। মিচেল স্টার্কের পরিবর্ত হিসেবে কলকাতা নাইট রাইডার্স(KKR) দলে নিয়েছিল তাঁকে। ২০১৯ সালে তিনি আইপিএলের অংশ ছিলেন না। এরপর ২০২০ আইপিএল নিলামে ১ কোটি টাকা দিয়ে টমকে দলে নেয় রাজস্থান রয়্যালস(RR)।
![]()
চলতি বছরের আইপিএলে আবার তাঁকে ৫.২৫ কোটি টাকা দিয়ে দলে নিয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস(DC)। টমের ভাই স্যামের(Sam Curran) আইপিএল যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালে। সেইবছর ৭.২ কোটি টাকা দিয়ে তাঁকে দলে নিয়েছিল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব(KXIP)। পরের বছরই অবশ্য তাঁকে ছেড়ে দিয়েছিল প্রীতি জিন্টার ফ্র্যাঞ্চাইজি। স্যাম সেই বছর ৫.৫ কোটি টাকায় যোগ দেন চেন্নাই সুপার কিংসে(CSK)। তারপর থেকে ২০২০ ও ২০২১ সংস্করণে তিনি ধোনির দলের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছেন।
![]()
• মার্শ ভ্রাতৃদ্বয় (Marsh Brothers)
অস্ট্রেলিয়ার শন(Shaun Marsh) এবং মিচেল মার্শও(Mitchell Marsh) বহু বছর ধরে আইপিএল খেলছেন। আইপিএলের প্রথম সিজনে শন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব(KXIP) দলের সদস্য ছিলেন। তিনি সেই বছর টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান স্কোরার ছিলেন। ৬১৬ রান করেছিলেন শন।
অপরদিকে শনের ভাই মিচেল নিজের আইপিএল কেরিয়ারে ডেকান চার্জার্স(Deccan Chargers), সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ(SRH), রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস-সহ(RPS) একাধিক দলের হয়ে খেলেছেন। ২০২০ আইপিএলে মিচেল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ দলের সদস্য ছিলেন। তবে চোটের কারণে তিনি টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যান। ২০২১ আইপিএলের জন্যও তাঁকে হায়দ্রাবাদ রিটেন করে রেখেছিল। তবে তিনি টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ান।
• হাসি ভ্রাতৃদ্বয় (Hussey Brothers)
মাইকেল হাসি(Michael Hussey) ও তাঁর ভাই ডেভিড হাসি(David Hussey) দুজনে আইপিএল খেলেছেন এবং দুজনেই কোটিপতির এই লিগে কোচের পদেও কাজ করেছেন। মাইকেল প্লেয়ার হিসেবে চেন্নাই সুপার কিংস(CSK) এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের(MI) হয়ে খেলেছেন এবং বর্তমানে তিনি চেন্নাই সুপার কিংসের ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করছেন।
অপরদিকে ডেভিড প্লেয়ার হিসেবে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব(KXIP), চেন্নাই সুপার কিংস(CSK) এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সের(KKR) হয়ে খেলেছেন এবং বর্তমানে কলকাতার মেন্টর হিসেবে কাজ করছেন।
• ম্যাকালাম ভ্রাতৃদ্বয় (McCullum Brothers)
ব্রেন্ডন ম্যাকালাম(Brendon McCullum) এবং তাঁর ভাই নেথান ম্যাকালামও(Nathan McCullum) আইপিএলে খেলেছেন।তবে ব্রেন্ডন একদিনে যেমন আইপিএলের ইতিহাসের একজন কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান, নেথান কিন্তু ততটা সফল হননি কোটিপতির এই লিগে। তিনি ২০১১ সালে পুনে ওয়ারিয়র্সের হয়ে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেছিলেন













































