প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

আইপিএলের ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী ৫ ক্রিকেটারের নাম জেনে নিন

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

আইপিএল(IPL) ক্রিকেট জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রাঞ্চাইজি লিগই শুধু নয়, এটি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট লিগও। সেই জন্যেই বিশ্বের বহু প্লেয়ার আইপিএলে খেলার জন্য মুখিয়ে থাকেন। একটা উদাহরণ দিলেই ব্যাপারটি কিছুটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

বিসিসিআই(BCCI) ‘এ+’ বিভাগে চুক্তিভুক্ত জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বার্ষিক ৭ কোটি টাকা বেতন দেয়। এই একই পরিমাণ অর্থ আইপিএলের যেকোনও ফ্র্যাঞ্চাইজির থার্ড চয়েজ রিটেইন প্লেয়ারও কিন্তু এক বছরে পেয়ে থাকেন। উপরন্তু তাঁদের ম্যাচও কম খেলতে হয় জাতীয় দলের প্লেয়ারদের চেয়ে। এসব কারণেই কিন্তু দেশি-বিদেশি বহু প্লেয়ার কোটিপতির এই লিগে খেলার জন্য এত আগ্রহ দেখান। কারণ আইপিএলে একবার নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলতে পারলে ক্রিকেটাদের আর অর্থের অভাব হয় না। এবার তাই আইপিএলের ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী তিন ক্রিকেটারের নাম একটু দেখে নেওয়া যাক।

• মহেন্দ্র সিং ধোনি MS Dhoni
আইপিএলের ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেটার হলেন চেন্নাই সুপার কিংস(CSK) দলের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। ইনসাইড স্পোর্টসের মানিবল(Insidesport’s Moneyball) অনুযায়ী, তিনি এখনও পর্যন্ত সবকটি সংস্করণের আইপিএল মিলিয়ে ১৫২.৮৪ কোটি টাকা আয় করেছেন। প্রথম আইপিএলের সবচেয়ে দামী ক্রিকেটার ধোনি ২০০৮-২০১০ পর্যন্ত বার্ষিক ৬ কোটি টাকা বেতন পেতেন।

এরপর বিসিসিআই আইপিএলের ফার্স্ট চয়েজ রিটেন প্লেয়ারেদের বেতন বাড়িয়ে দেয়। তাই ক্যাপ্টেন কুল ২০১১-২০১৩ পর্যন্ত বার্ষিক ৮.২৮ কোটি টাকা বেতন পান। এরপর ২০১৪ সালে ভারতীয় বোর্ড আবার রিটেন প্লেয়ারদের বেতন বাড়ালে ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে মোট ২৫ কোটি টাকা আয় করেন মাহি। এরপর আরও একবার বেতন বৃদ্ধি করে বিসিসিআই। তার ফলস্বরূপ ২০১৮-২০২১ আইপিএল পর্যন্ত বার্ষিক ১৫ কোটি টাকা করে মোট ৬০ কোটি টাকা বেতন পেয়েছেন ধোনি।

• রোহিত শর্মা Rohit Sharma
আইপিএলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধনী ক্রিকেটার হলেন এই লিগের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক রোহিত শর্মা। তিনি এখনও পর্যন্ত মোট ১৪৬.৬০ কোটি টাকা আয় করেছেন এই লিগ থেকে। ডেকান চার্জার্সে(Deccan Chargers) থাকাকালীন হিটম্যান তিন বছরে মোট ৯ কোটি টাকা আয় করেছিলেন।

এরপর ২০১১ সালে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে(MI) তিনি যোগ দেওয়ার পর ২০১১-২০১৩ এই তিন বছর বার্ষিক ৯.২ কোটি টাকা করে পেতেন তিনি। ২০১৪-২০১৭ পর্যন্ত রোহিত ১২.৫ কোটি করে মোট ৫০ কোটি টাকা আয় করেন। ২০১৮ সালে বিসিসিআই আবার রিটেন প্লেয়ারদের বেতন বৃদ্ধি করার পর শেষ চার সংস্করণের আইপিএলে হিটম্যান মোট ৬০ কোটি টাকা বেতন পেয়েছেন।

• বিরাট কোহলি Virat Kohli
অধিনায়ক হিসেবে নিজের দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে(RCB) এখনও অবধি আইপিএল ট্রফি জেতাতে না পারলেও বিরাট কোহলির নাম কিন্তু এই তালিকায় রয়েছে। তিনি এখনও পর্যন্ত এই লিগ থেকে মোট ১৪৩.২ কোটি টাকা আয় করেছেন। বিরাটই আইপিএলের ইতিহাসের একমাত্র ক্রিকেটার যাঁকে ১৭ কোটি টাকা দিয়ে রিটেন করেছে কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি।

বিরাট আইপিএলের প্রথম তিন সংস্করণে মোট ৩৬ লাখ টাকা আয় করেছিলেন। এরপর ২০১১ সালে একমাত্র তাঁকেই রিটেন করেছিল বেঙ্গালুরু এবং একলাফে তাঁর বেতন বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৮.২৮ কোটি টাকা। এরপর যথাক্রমে ২০১৪-২০১৭ সালে বার্ষিক ১২.৫ কোটি টাকা এবং ২০১৮-২০২১ পর্যন্ত বার্ষিক ১৭ কোটি টাকা বেতন পেয়েছেন ভারত অধিনায়ক।

• এবি ডি’ভিলিয়ার্স AB de Villiers
আইপিএলের ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী বিদেশি ক্রিকেটার এবির নাম এই তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে। তিনি এখনও পর্যন্ত কোটিপতির এই লিগ থেকে মোট ১০২.৫ কোটি টাকা আয় করেছেন। আইপিএলের প্রথম তিন সংস্করণে এবি দিল্লি ডেয়ারডেভিলস(Delhi Daredevils) দলের সদস্য ছিলেন। দিল্লিতে থাকাকালীন তিনি যথাক্রমে বার্ষিক ১.২, ১.৪ এবং ১.৩৮ কোটি টাকা করে বেতন পেয়েছিলেন।

২০১১ সালে বার্ষিক ৫.০৬ কোটি টাকায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু(RCB) দলে যোগ দেন এবি। এরপরের দুটি সংস্করণে তিনি যথাক্রমে বার্ষিক ৫.৫২ এবং ৫.৮৫ কোটি টাকা করে বেতন পেয়েছিলেন। ২০১৪ নিলামের আগে এবিকে রিটেন করেছিল বেঙ্গালুরু। তাই তারপরের চার বছর বার্ষিক ৯.৫ কোটি টাকা করে আয় করেছিলেন তিনি। এরপর ২০১৮ সালে বিসিসিআই রিটেন করা প্লেয়ারদের বেতন বৃদ্ধি করার পর থেকে এবি বার্ষিক ১১ কোটি টাকা করে বেতন পান।

• সুরেশ রায়না Suresh Raina
তালিকার পঞ্চম নামটি হল ‘মিস্টার আইপিএল’এর(Mr. IPL)। সুরেশ রায়না এখনও পর্যন্ত ২০২০ আইপিএল বাদে সবকটি আইপিএল খেলেছেন এবং মোট আয় করেছেন ৯৯.৭৪ কোটি টাকা। রায়না যথাক্রমে ২০০৮-২০১০ পর্যন্ত বার্ষিক ২.৬ কোটি টাকা এবং ২০১১ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত বার্ষিক ৫.৯৮ কোটি টাকা করে বেতন পেয়েছিলেন। এরপর ২০১৪ সালে চেন্নাই সুপার কিংস(CSK) তাঁকে রিটেন করলে তিনি ২০১৪-২০১৬ পর্যন্ত বার্ষিক ৯.৫ কোটি টাকা আয় করেন। ২০১৭ সালে রায়না আয় করেছিলেন ১২.৫ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে চেন্নাই রায়নাকে সেকেন্ড চয়েজ রিটেন প্লেয়ার হিসেবে রেখে দেয়। তাই বিসিসিআইয়ের নিয়মানুযায়ী ২০১৮, ২০১৯ এবং ২০২১ আইপিএলে মিস্টার আইপিএল বার্ষিক ১১ কোটি টাকা করে আয় করেছেন