কেউ বলছেন অতি উত্তম কাজই করেছেন ভারতের বিহার রাজ্যের ভগলপুরের বাসিন্দা উত্তম মন্ডল। কেউ বলছেন, এমনটা হতেই পারে। তবে ভারতবর্ষে এমন উদাহরণ কিন্তু বিরল। সাত বছরের দাম্পত্যের পর স্ত্রী
ভালোবেসে ফেলে আরেকজনকে। তাতে শুরু হয়েছিল দাম্পত্য কলহ। কিন্তু নিজের বুকে পাথর বেঁধে উত্তম যা করার দরকার সেটাই করলেন। স্ত্রীর সঙ্গে ওর প্রেমিকের বিয়ের আয়োজনটা করে দিলেন উত্তম নিজেই। এ যেন বলিউডি মুভি ‘হাম দিল দে চুকে সনম’-এরই বাস্তব রূপ।
উত্তম মন্ডল ও স্বপ্না কুমারীর বিয়ে হয় ২০১৪ সালে। ৭ বছরের সংসারে দুই সন্তানও আছে। তবে বছরখানেক আগে উত্তমের এক আত্মীয় রাজু কুমারের সঙ্গে স্বপ্নার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে সংসারে শুরুতে অশান্তি দেখা দেয়।
ঝগড়া-বিবাদের একপর্যায়ে উত্তমের মনে হলো এসব করে কী লাভ! স্ত্রীর মন থেকে তো প্রেমিকের প্রতি টান মুছে ফেলা যাবে না। তাই সিদ্ধান্ত নিলেন, শান্তিপূর্ণ সমাধানেই যাবেন। স্ত্রী যাকে ভালোবেসেছে তার সঙ্গেই সংসার করুক। ঘটা করে দুজনের বিয়ের আয়োজনও করলেন উত্তম।
স্বপ্নার মা-বাবা ও শ্বশুর-শাশুড়ি উত্তমকে ‘বোঝানো’র চেষ্টাও করেছেন। কিন্তু স্বপ্না-রাজুর প্রেম কিছুতেই ভাঙার নয়। উত্তম নিজেই তাই পরিবারের সবাইকে বোঝানোর বিশাল দায়িত্বটা নেন। পরিবারের কেউ রাজিই হয়নি এতে। আর তাই উত্তম নিজেই তার স্ত্রী স্বপ্নার সঙ্গে রাজুর বিয়ের আয়োজন করেন স্থানীয় এক মন্দিরে।
এক টিভি সাক্ষাৎকারে উত্তম মন্ডল বলেন, ‘আমি প্রথমে খুব রাগ করেছিলাম। অনেক ঝগড়াও হয়েছে এ নিয়ে। কিন্তু ভেবে দেখলাম এভাবে আমাদের তিনজনের জীবনই শেষ হয়ে যাচ্ছে। রাজুর প্রতি আমার স্ত্রীর ভালবাসা অনেক। তাই তাদের বিয়েতে সহযোগিতা করেছি। এখন আশা করি আমরা তিনজনই ভালো থাকবো।’ সূত্র: ইন্ডিয়া ডটকম













































