বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব কুমা’র বিশ্বজিৎ। এখনো তার গান শ্রোতা দর্শক’কে আবেগী করে তোলে। তার গাওয়া জনপ্রিয় গান এবং নতুন গানের ক্ষেত্রেই এমন ঘটে। তাই নতুন নতুন গান সৃষ্টির ক্ষেত্রে কিংবা গাইবার ক্ষেত্রে সবসময়ই ভীষণ সচেতন থাকেন কুমা’র বিশ্বজিৎ।
কারণ দিন শেষে ভালো গানগুলোই শ্রোতাদের মাঝে দিনের পর দিন, যুগের পর যুগ বেঁচে থাকে। তাই ভালো কথার, মনকাড়া সুরের গানের প্রতি তার অদম্য নে’শা।যে মানুষটি গানে গানে শ্রোতা দর্শকের মন ছুঁয়ে যান, সেই মানুষটিরই জীবন থেকে আরো একটি বছর চলে যাবার দিন আজ। অর্থাৎ আজ তার জন্ম’দিন। জন্ম’দিন যেখানে অনেকের কাছে উৎসবের, সেখানে জন্ম’দিন তার কাছে অনেক ক’ষ্টেরও বটে, কারণ জীবন থেকে আরো একটি বছর চলে গেলো।
জীবনের এই সময়ে এসে বারবার মনে পড়ে তার চলে যাওয়া বন্ধু, সহযোদ্ধা লাকী’ আখান্দ, আইয়ূব বাচ্চু, শেখ ইশতিয়াক, খালিদ হাসান মিলু, অ্যান্ড্রু কি’শোর, আলী আকবর রূপু, ফরিদ আহমেদ’র কথা। মনে পড়ে সাংবাদিক মোশাররফ রুমী’র কথা।জন্ম’দিনের প্রাসঙ্গিকতায় কুমা’র বিশ্বজিৎ বলেন, ‘আরো একটি বছর চলে গেলো। মানুষ আমাকে নি:স্বার্থভাবে এতো ভালোবাসে, অথচ আমা’র এই সময়ে এসে মনে হচ্ছে আমি কিছুই করতে পারিনি। বারবার আজ মনে হচ্ছে সৃষ্টিশীল মানুষদের তিন জনমের সমান সময় প্রয়োজন এই ধরনীর বুকে।
কারণ শৈশব, তারপর বেড়ে উঠা, জীবন সাজানো, ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য ভাবনা এবং সর্বোপরি জীবনের অনেকটা সময় ঘুমে চলে যাবার কারণে সৃষ্টিশীল কাজ করার সুযোগই তেমন হয়ে উঠেনা।তবে আমা’র আত্মতৃপ্তি এখানেই যে, আমি কখনো স্রোতে গা ভাসাইনি। সঙ্গীত অনেক শ্রদ্ধার, অনেক সাধনার। শ্রদ্ধার, সাধনার এই কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় না খেয়েও থাকতে হয়েছে আমাকে, বাসা ভাড়াও দিতে পারিনি আমি। কিন্তু আমি ধৈর্য্য হারা হইনি। নতুন প্রজন্মের প্রতি আহবান থাকবে তারা যেন ধৈর্য্য হারা না হয়।
করো’নায় আম’রা অনেককেই হারিয়েছি, তাদের আত্মা’র শান্তি কামনা করছি। আবার করো’না’তে অনেক শিল্পী, মিউজিসিয়ান দুর্বিষহ জীবন কা’টাচ্ছেন। এই অবস্থা থেকে যেন দ্রুত পরিত্রাণ পান সবাই এই শুভ কামনা থাকবে আমা’র। আর আমা’র স্বর্গী মায়ের জন্য আশীর্বাদ চাই।চলতি মাসের মাঝেই কুমা’র বিশ্বজিৎ ‘মেঘদূত’ শিরোনামের নতুন একটি গানের মিউজিক ভিডিওর শুটিং-এ অংশ নিবেন। গানটি লিখেছেন এবং সুর করেছেন রাজীব।
এছাড়াও আসিফ ইকবালের লেখা এবং কি’শোর সুর সঙ্গীতে ‘ঐশ্বর্য’ অ্যালবামের জন্য আরো দুটি গান গেয়েছেন। গানে খুব ছোটবেলায় তেজেন সেন’র কাছে কুমা’র বিশ্বজিৎ’র বেসিক শিক্ষা নেয়া। পরবর্তীতে টেপ রেকর্ডারে মান্না দে, কি’শোর কুমা’র, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, পিন্টু ভট্টাচার্য্য’র গান শুনে শুনে গান শেখা তার। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত বরেণ্য এই সঙ্গীতশিল্পী যতোদিন সুস্থ আছেন ততদিনই গান করে যেতে চান।













































