‍‍`চার বছরের সাফরান, এটা বুঝতেই পারছে না, বাবা আর বেঁচে নেই‍‍`

‍‍`চার বছরের সাফরান, এটা বুঝতেই পারছে না, বাবা আর বেঁচে নেই‍‍`
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

‍‍`চার বছরের সাফরান, এটা বুঝতেই পারছে না, বাবা আর বেঁচে নেই‍‍`

গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আনুমানিক ৫০০ মিটার দূরে নগরীর বরুদা এলাকায। এখানে বরুদা সড়ক ধরে খানিকটা সামনে এগোলে হাতের বাঁয়ে নিহত জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিমের বাড়ি। আধাপাকা ঘরের চারটি কক্ষে স্বজন-প্রতিবেশী। প্রতিবেশীদের কেউ বিছানায় বসে, কেউ বসে আছে মেঝেতে। একটি কক্ষে রয়েছেন স্ত্রী শারমিন সুলতানা। স্বামীর কথা মনে হতেই কেঁদে উঠছেন বারবার। সেই কান্না একটু একটু করে ছড়িয়ে পড়ছে স্বজন-প্রতিবেশীদেরও চোখে।

কয়েকটি গাছপালার ছায়ায় আচ্ছন্ন বাড়িটির উঠানে তখনো বন্ধু, সহপাঠী ও সহকর্মীর ভিড়। বড় ভাই রেজাউল করিম একেক করে কথা বলছেন তাদের সাথে। এর মধ্যে আনিসুলের ছোট্ট শিশু সন্তান সাফরান খেলা করছে বন্ধুদের সঙ্গে, ছুটছে এদিক-সেদিক। বাড়িতে আসা প্রায় সবারই চোখ আটকে যাচ্ছে সাফরানে ওই হাসিখুশিতে। ‘আহারে মাসুম বাচ্চা। বাবা বেঁচে নেই, এটা সে এখনো বুঝতেই পারছে না।’ কিন্তু যখন বুঝতে শিখবে, বাবাকে পাবে না, তখন কী হবে?’ কেউ কেউ সাফরানের জন্য ফেলছেন চোখের পানি।

আরো পড়ুনঃ গর্ভকালীন সময়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় কোন বিষয়গুলো জানা প্রয়োজন ?

আনিসুল করিম গত সোমবার ঢাকার আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে নির্মমভাবে খুন হন। তাঁর দাফন সম্পন্ন হয় গত মঙ্গলবার। কিন্তু মৃত্যুর চার দিন পার হলেও এখনো শোকে কাতর পুরো পরিবার। গতকাল বৃহস্পতিবার শহরের বরুদা এলাকায় আনিসুলের বাড়িতে দেখা গেল সেই দৃশ্য।

রেজাউল করিম বলছিলেন, মৃত্যুর পর সাফরানকে শেষবারের মতো তার বাবার চেহারাটাও দেখানো হয়নি। তাই সে জানেও না তার বাবার কী হয়েছে। সে শুধু জানে তার বাবা মিটিংয়ে বা অফিসের কাজে বাইরে গেছেন। কাজ শেষ হলে বাসায় ফিরবেন। তাই কেউ বাবার কথা জিজ্ঞাসা করতেই সে বলে, ‘বাবা মিটিংয়ে গেছে, বাবা আসবে।’ তার মুখে এসব কথা শুনে স্বজন-প্রতিবেশীরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছেন।

আরো পড়ুনঃ ডায়েট এবং ব্যায়াম না করেই স্লিম হবার কিছু উপায় !

আনিসুলকে মেরে ফেলা হয়েছে অভিযোগ করে রেজাউল বলেন, ‘মানুষের মরণ একদিন আসবেই। যেখানে বা যে সময় মৃত্যু লেখা থাকবে, ঠিক তখনই মৃত্যু হবে। কিন্তু এভাবে আঘাতে বা কোনো ঘটনার শিকার হয়ে মারা যাওয়াটা খুবই দুঃখজনক, মেনে নেওয়া যায় না। তাঁকে হাসপাতালের কর্মকর্তারা মারধর করেছেন, এটা দেশের সবাই দেখেছেন। আমরা চাই এ হত্যার যেন সঠিক বিচার হয়।’

বাংলা হেলথ কেয়ার /এসপি