অভিভাবক হিসেবে কিছু কাজ যা বাচ্চাদের সামনে করবেন না

অভিভাবক হিসেবে কিছু কাজ যা বাচ্চাদের সামনে করবেন না
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

অভিভাবক হিসেবে কিছু কাজ যা বাচ্চাদের সামনে করবেন না

অভিভাবক হিসেবে সন্তানের ভালো চায় সবাই। কী করলে তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সুস্থ হবে তা নিয়ে বাবা-মায়ের চিন্তার শেষ নেই! সন্তানের বেড়ে উঠার পথে কিছু বিষয় যেমন তাকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে তেমনি কিছু কাজ রয়েছে যা সন্তানের সামনে করা উচিত নয়। জানুন অভিভাবক হিসেবে কোন আচরণগুলো সন্তানের সামনে করবেন না-

১. পোশাক পরিবর্তন করাঃ সন্তান যতো ছোটোই হোক না কেনো, তার সামনে সরাসরি পোশাক পরিবর্তন করা থেকে বিরত থাকুন। বাচ্চারা মোটামুটি ২ বছর থেকেই চারপাশের বিষয় বুঝতে শুরু করে এবং যা দেখে তা অনুকরণ করে৷ আপনার সন্তানের সামনে তাই পোশাক পরিবর্তন করা বন্ধ করুন।

২. গালাগালি করাঃ আধো আধো বুলিতে বাচ্চার মুখের কথা কে না ভালোবাসে! কিন্তু সন্তানের সামনে যদি আপনি বাজে শব্দ ব্যবহার করেন, গালাগালি করেন তাহলে আপনার সন্তান কিন্তু গালিটাকেই স্বাভাবিক শব্দ হিসেবে গ্রহণ করবে। ফলে তার আধো বুলিতে কিন্তু গালাগালিও যুক্ত হবে! তাই শিশুর সামনে ভাষার ব্যবহারে সচেতন হোন।

আরও পড়ুন:  এই ছয় সহজ উপায়ে দূর করুন হাঁটুর ব্যথা

৩. সমালোচনা করাঃ ঘরোয়া আড্ডা কিংবা পরিচিত কারো সাথে কথা বলার সময় আমরা প্রায়শই অন্যের সমালোচনা করে ফেলি। আর এই সমালোচনা বেশিভাগ সময় গঠনমূলক হয় না। বাচ্চারা এধরনের সমালোচনা শুনলে নিজেরাও একই আচরণ করবে। পাশাপাশি এধরনের সমালোচনা বাচ্চাদের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতির কারন হয়।

৪. ঝগড়া করাঃ একজন মানুষের সাথে আপনার মতের মিল নাই হতে পারে। কিন্তু তাই নিয়ে ঝগড়া করা নিশ্চয়ই কাজের কথা নয়! বাচ্চা যদি ছেলেবেলা থেকে ঝগড়া দেখে বড়ো হয় তাহলে তার মানসিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হয় সে অনেক ভীতু হিসেবে বড়ো হয় অথবা খুব বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠে। তাই এখন থেকেই এ বিষয়ে সচেতন হোন।

৫. সহিংস আচরণঃ সহিংসতা কেউই চায় না। কিন্তু অনেক পরিবারে এধরণের আচরণ প্রকাশ ঘটে। গায়ে হাত তোলা, কোনো কিছু দিয়ে আঘাত করা, কিংবা কথা কাটাকাটি হলে তেড়ে যাওয়া সহিংস আচরণ এর মাঝে পড়ে। ছেলেবেলা থেকে এধরণের আচরণ দেখলে বাচ্চারা মানসিকভাবে খুব খারাপ অবস্থায় বড়ো হয়। তাই বাচ্চাদের এধরণের আচরণের মুখোমুখি যেনো কখনো হতে না হয় তা খেয়াল রাখুন।

আরও পড়ুন:  মাড়ি থেকে রক্ত পড়ছে? জানুন সমাধান

৬. ভয় দেখানোঃ বড়ো হবার পথে বাচ্চাদের কথা মানানোর জন্য আমরা অনেক রকম ভয় দেখাই। আপনার আমার জন্য হয়তো সেটা নিছক কথা মানানোর মাধ্যম। কিন্তু বাচ্চাদের এই ভীতিকর অভিজ্ঞতা হয়তো সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হতে পারে। তাই কখনোই বাচ্চাকে কোনো ধরনের ভয় দেখাবেন না। বরং আদর করে বুঝিয়ে বলুন।

৭. মাদক গ্রহনঃ মাদক বা নেশাদ্রব্য সমাজের জন্য অভিশাপ। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির কোনো হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। বাচ্চাদের সামনে কী ধরনের আচরণ করা উচিত সে জ্ঞান একজন মাদকাসক্ত ব্যাক্তির থাকবে না সেটাই স্বাভাবিক। নিজ স্বার্থে এরা বাচ্চাদের ক্ষতি করতেও পিছপা হবে না। তাই মাদক গ্রহন বা মাদকাসক্ত ব্যাক্তির থেকে আপনার সন্তানকে দূরে রাখুন।

বাংলা হেলথ কেয়ার /এসপি