
রাস্তার পাশে পড়ে থাকা কা’গ’জ কুড়াচ্ছিলেন ৬০ বছরের এক বৃদ্ধ। তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন রাজশাহীর জে’লা প্র’শা’স’ক (ডিসি) হামিদুল হক। ডিসির সঙ্গে ছিলেন পৌর মে’য়’র, উপজে‘লা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসি। হঠাৎ ওই বৃদ্ধের দিকে এগিয়ে যান ডিসি। এগিয়ে যান অ’ন্য’রাও। বিষয়টি দেখে ভয় পেয়ে যান বৃদ্ধ।
ভয় পেয়ে হা’ত’জো’ড় করে ডিসিকে বৃদ্ধ বলেন, ‘বাবা আমার যদি কোনও ভুল হয়, মাফ করে দেন, আমি আর বা’জা’রে আ’সব না।’বৃদ্ধের অসহায় আ’ত্ম’স’ম’র্প’ণ দেখে আবেগাপ্লুত হন ডিসি। তাৎক্ষণিকভাবে ওই বৃদ্ধকে স’হা’য়’তা করেন ডিসি। সেখান থেকে ফিরে বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যা’টা’স দেন ডিসি হামিদুল হক।
ফেসবুকে স্ট্যা’টা’সে ডিসি হামিদুল হক লিখেছেন, অকারণে যেসব লোকজন বা’জা’রে ছিলেন, তাদের বা’জা’র থেকে সরিয়ে দিয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে উপজে’লার দিকে যাই।
এ সময় হঠাৎ ৬০ বছরের এক বৃদ্ধ মানুষকে রাস্তার পাশে কিছু পুরোনো, ছেঁড়া কা’গ’জ কুড়াতে দেখে কাছে যাই। আম’রা কাছে যেতেই এবং স’ঙ্গে পু’লি’শ দেখে ভয় পেয়ে যান বৃদ্ধ।
ভয় পেয়ে হা’ত’জো’ড় করে বৃদ্ধ লোকটি দাঁড়িয়ে বলেন, ‘বাবা আমার যদি কোনও ভুল হয়, মাফ করে দেন, আমি আর বা’জা‘রে আ’সব না।’ আমি স’ঙ্গে স’ঙ্গে বৃদ্ধকে বললাম বাবা, এটি কোনও ভুল না। ভী’ষ’ণ মায়া লাগলো বৃদ্ধ লোকটিকে দেখে। এ বয়সে তার ঘরে থাকার কথা।
নাতিপুতিদের স’ঙ্গে খেলা করার কথা তার। কিন্তু হায় দা’রি’দ্র্য; তুমি তাকে এই চৈত্রের প্র’খ’র রোদে কটি টাকার জন্য, সামান্য চাল কেনার অর্থের জন্য কিছু ছেঁড়া কা’গ’জ কুড়াতে বাধ্য করেছো। তার ওপর বিশ্ব কাঁপানো ক’রো’না। কিন্তু এই বৃদ্ধের দা’রি’দ্র্যকে ক’রো’না পরাজিত করতে পারেনি। তাকে আ’ট’কে রাখতে পারেনি ঘরের কোণে।
বৃদ্ধকে বুকে টেনে নিয়ে সামান্য আর্থিক স’হা’য়’তা দিয়ে বললাম, আপনি কিছু চাল-ডাল কিনে বাড়ি চলে যান। কিছুদিন আর বা’জা’রে আাসবেন না। তিনি বললেন, বাবা আর আ’সব না। মনটা খা’রাঃপ হয়ে গেল।। জানি না তার বাড়িটি কেমন, তার বাড়িতে কে কে আছেন?
ডিসি আরও লিখেছেন, ‘উপজে’লা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বৃদ্ধ সম্পর্কে বি’স্তা’রি’ত তথ্য নিতে বললাম। হায় ক’রো’না, তুমি সবাইকে একটু দয়া করো। অ’ন্ত’ত নাম না জানা এই বৃদ্ধের কোনো ক্ষ’তি করো না। এই মি’ন’তি করি। সৃষ্টিকর্তা সবাইকে ভালো রাখুন। সারা বিশ্ব হোক ক’রো’না মুক্ত। ভালো থেকো বৃদ্ধ বাবা। আমি তোমার খ’ব’র রাখব নিশ্চয়। ডিসির এই স্ট্যা’টা‘স মুহূর্তেই ভা’ই’রা’ল হয়ে যায়। প্রশংসায় ভা’স’তে থাকেন তিনি।
তানোর উপজে’লা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মামাতো বলেন, ক’রো’না পরিস্থিতিতে লোকজনের বাড়িতে অবস্থান প’র্য’বে’ক্ষ’ণে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জে’লার তানোরে যান জেলা প্র’শা’স’ক। এই ঘটনা সেখানকার।
শনিবার সকালে ফোন করে ওই বৃদ্ধের খোঁজ নিচ্ছিলেন জে’লা প্র’শা’স’ক। আম’রা তার নাম-প’রি’চ’য় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি। প্রাথমিকভাবে যতটুকু জানা গেছে, তার বাড়ি মো’হ’ন’পু’রে। অনেকটা মানসিকভাবে অ’সু’স্থ। শুক্রবার ও মঙ্গলবার তা’নো’রে হাট বসে। এই দু’দিন তিনি এসে কা’গ’জ কুড়িয়ে নিয়ে যান। তার প’রি’চ’য় নিশ্চিত হওয়ার পর সাধ্যমতো স’হা’য়’তা দেয়া হবে






