
নব্বইয়ের দশকে বলিউডে পরিবর্তনের একটি হাওয়া বয়ে গিয়েছিল। এই সময় নতুন প্রতিভাবান মুখগুলো মানুষের পছন্দ হয়ে উঠছিল। এই মুখগুলোর মধ্যে একটি ছিল দিব্যা ভা’রতী।
নব্বইয়ের দশকের দিব্যা ভা’রতীর ‘সাত সমুদ্র পার…’ গান এখনও মানুষের মনে রয়েছে। মনে রয়েছে দিওয়ানা ছবির প্রত্যেকটি গানের কথা। দিব্যা ভা’রতীর সাথে অ’ভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডে সুযোগ তৈরি হয় শাহরুখের।
দিব্যা ভা’রতী এমন একজন অ’ভিনেত্রী ছিলেন যিনি খুব অল্প সময়ের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তামিল সিনেমা ববি রাজায় কাজ করেন। এরপর তিনি আর পেছন ফিরে তাকাননি।
সেই সময় শোলা অর শাবনাম, দিল আসান হে, দিওয়ানার মতো সুপারহিট সিনেমা’র মাধ্যমে সফলতা পেয়েছেন। কিন্তু মাত্র ১৯ বছর বয়সে র’হস্যময়ভাবে তাঁর মৃ’ত্যু হয়। দিব্যার স্বামী ছিলেন সাজিদ নাদিওয়ালা।
সাজিদ নাদিওয়ালা। সুশান্ত সিং মৃ’ত্যুর ঘটনায় যে কজন প্রযোজকের নাম যু’ক্ত হয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম সাজিদ। করণ জোহরের সঙ্গে সাজিদের নাম উচ্চারিত হয়েছে। বলিউড সিন্ডিকে’টের কারণে সুশান্ত ক্রমশ ‘আত্মহ’ত্যা’র দিকে ধাবিত হয়েছেন এমনটাই বলা হয়।
সাজিদ নাদিওয়ালা জানান, ১৯৯০ সালে ফিল্মসিটিতে ‘শোলা অউর শবনম’ সিনেমা’র শুটিং চলাকালে দিব্যার সঙ্গে তার আলাপ হয়েছিল। ওই ছবির নায়ক গোবিন্দর সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিল সাজিদের।
গোবিন্দর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েই দিব্যার সঙ্গে পরিচয় ঘটে তার। এরপর থেকেই ওই সিনোমা’র সেটে নিয়মিত যেতে শুরু করেন সাজিদ। ক্রমশ তার এবং দিব্যার স’ম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠে।
বলিউডের পরিচালক সাজিদ জানান, ১৯৯২ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রথমবার দিব্যার পক্ষ থেকে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়া হয়। ১৯৯২ সালের ২০ মে তার এবং দিব্যার বিয়ে হয়।
বিয়ের আগে নিজের ধ’র্মও বদলে ইস’লাম ধ’র্ম গ্রহণ করেন দিব্যা। যদিও এসবই হয়েছিল অ’ত্যন্ত গো’পনে। দিব্যার ভবিষ্যত ক্যারিয়ারের কথা ভেবেই সেকথা গো’পন রাখার সিদ্ধান্ত নেনে তারা। এই বিয়ের কথা দিব্যা সবাইকে জানাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি দিব্যাকে তা করতে বারণ করেন। এর কিছুদিন পরই তার অস্বাভাবিক মৃ’ত্যু হয়। কেউ কেউ ঘটনাটিকে হ’ত্যাকা’ণ্ড বলেও ধারণা করে।
দিব্যা ভা’রতীর মৃ’ত্যুর যে রাতে এই ঘটনা হয়েছিল সেই দিন দিব্যা ভা’রতী নিজের জন্য একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। একদিন আগে, তিনি চেন্নাই থেকে শুটিং শেষ করে ফিরে আসেন।
কিন্তু ফ্ল্যাট কেনার কারণে সেইদিন শ্যুটিং বাতিল করে দেন। এটাও বলা হয় যে পায়ের চোটের কারণে তিনি শুটিং করেননি। রিপোর্ট অনুযায়ী সেই দিন দিব্যা ভা’রতী ডিজাইনার নীতা লুল্লা এবং তার স্বামীর সাথে ভা’র্সোভা’র ফ্লাটে সাক্ষাত্ করতেন। নীতা লুল্লা তার স্বামীর সাথে রাত ১০টায় দিব্যার ফ্ল্যাটে পৌছান।
নীতা বসার ঘরে বসে ছিলেন এবং কথা বলছিলেন। তখন দিব্যা রান্নাঘরে চলে যান। সেই সময় নিতা এবং তার স্বামী টিভিতে একটি ভিডিও দেখতে ব্যস্ত হয়ে যান।
দিব্যার বসার ঘরে কোনও বারান্দা ছিল না। শুধুমাত্র একটি বড় জানালা ছিল। দুর্ভাগ্যবশত এই জানলাতে কোনও গ্রিল ছিল না এবং নীচে গাড়ি পার্কিং এর জায়গা ছিল।
বলা হয় যে রান্নাঘর থকে আসার পর দিব্যা সেই জানালার পাতলা দেওয়ালের ওপর বসে পড়েন। কিন্তু ভা’রসাম্য হা’রানোর কারণে তিনি পড়ে যান। এত উঁচু থেকে পড়ে যাওয়ার পর র’ক্তাক্ত অবস্হায় পার্কিং এলাকায় পড়েছিলেন। দ্রুত তাকে মুম্বাইয়ের কুপার হাসপাতা’লে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি শেষ নিঃশ্বা’স ত্যাগ করেন। গতকাল ৫ এপ্রিল ছিল দিব্যার ২৮তম মৃ’ত্যুবার্ষিকী’।






