প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

স্ত্রীর প্রতি কুনজর দিতে নিষেধ করায় স্বামীকে ৬ টুকরা করলেন মসজিদের ইমাম!

1
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

রাজধানীর দক্ষিণখান সরদার বাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে আজহারুল নামে এক গার্মেন্টস কর্মীর অর্ধগলিত সাত টুকরা লাশ উদ্ধারের পর তার স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী সন্দেহে মঙ্গলবার রাতে আবদুল্লাহপুর এলাকা থেকে আজহারের স্ত্রী আসমা আক্তারকে (৩৩) গ্রেপ্তারের কথা জানায় র‌্যাব।

এর আগে, সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্ত্রীকে র‌্যাব হেফাজতে নেয়ার কথা জানিয়েছিল র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আব্দুল মোত্তাকিম। রাতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মঙ্গলবার (২৫ মে) ভোরে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমানকে আটক করা হয়। ওই মসজিদের ইমামের সঙ্গে আজহারের স্ত্রীর পরকীয়ার কারণেই এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দক্ষিণখানে ‘মাদ্রাসাতুল রাহমানিয়া আল আরাবিয়া‘ নামের মাদ্রাসার পাশেই সরদার বাড়ি জামে মসজিদ। এই মসজিদে ৩৩ বছর ধরে ইমামতি করে আসছিলেন মাওলানা আব্দুর রহমান। পাশাপাশি মাদ্রাসায় পড়াতেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৫ মে) বিকেলে কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আব্দুল মোত্তাকিম জানান, আজহারের স্ত্রীর সাথে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল ইমাম আব্দুর রহমানের- এমন অভিযোগ নিয়ে গত ১৯ মে রাতে ওই মসজিদের দোতলায় ইমামের কক্ষে গিয়েছিলেন আজহার। তিনি ইমামকে তার স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক রাখতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

একপর্যায়ে পশু জবাইয়ের ছুরি দিয়ে আজহারকে হত্যা করেন ইমাম আব্দুর রহমান। পরে ভোর পর্যন্ত একাই লাশ সাত টুকরা করে নিচে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন তিনি। পরে মসজিদের নির্মাণ কাজের জন্য পাশে রাখা সিমেন্ট দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেন। হত্যার পর সেপটিক ট্যাঙ্কে মরদেহ রেখে নিয়মিত নামাজ পড়িয়েছেন বলেও আব্দুর রহমানের স্বীকারোক্তি উদ্ধৃতি করে জানায় র‌্যাব।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে দুর্গন্ধ বের হলে খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ওই মসজিদের ওজুখানার সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে আজহারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে মসজিদটির ইমাম মাওলানা মো. আব্দুর রহমানকে (৫৪) আটক করে র‍্যাব। পরে র‍্যাব হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে ইমাম আব্দুর রহমান আজহারকে হত্যার দায় স্বীকার করেন।

লে. কর্নেল মো. আব্দুল মোত্তাকিম জানান, ঘটনার একদিন আগে স্ত্রী আসমা তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে চলে যায়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী সন্দেহে মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

র‌্যাব জানায়, আজহার দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণখান এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। তিনি এবং তার শিশু সন্তান মাদ্রাসায় পড়তে যাওয়ার কারণে ইমামের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। যা আজহারের বাসা পর্যন্ত গড়ায়। ফলে ইমাম মাঝে মাঝেই আজহারের বাসায় আসতেন, খাওয়া-দাওয়া করতেন। এমনকি ভালো রান্না হলে ইমামের কাছে সেই খাবার পৌঁছে দেওয়া হত।

তবে ইমাম আব্দুর রহমান বলেছেন, আজহার তাকে ভয়ভীতি দেখিয়েছে এবং বলেছে তার স্ত্রীর দিকে আমি (আব্দুর রহমান) কু-দৃষ্টি দিয়েছি। এই কারণে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়।