প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান: আন্দোলনে যাবে ঢাবি শিক্ষার্থীরা

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি নিয়ে গণমাধ্যমের উদ্যেশ্যে দেয়া শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় না খুললে রোববার থেকে কঠোর আ’ন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৬ মে) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় তারা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মা’রকলিপি দেয়া হবে। উপাচার্য যদি বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য না দেন, তাহলে রোববার থেকে লাগাতার কর্মসূচি পালন করা হবে। একইসঙ্গে সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্ব স্ব উপাচার্য বরাবর এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জে’লা শিক্ষা কর্মক’র্তার মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মা’রকলিপি পেশ করার আহ্বান জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আ’ন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদ।তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে আজ শিক্ষামন্ত্রী চলমান ছুটি ১২ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করেছেন। আম’রা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে আ’ন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করলাম। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বর্ধিত করার পেছনে তিনি (মন্ত্রী) করো’না পরিস্থিতি ও ভ্যাক্সিনের অ’পর্যাপ্ততাকে দায়ী করেছেন। অথচ করো’না পরিস্থিতিতে কলকারখানা, অফিস, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, এমনকি গণপরিবহণ কোনো কিছুই থেমে থাকেনি। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ আছে কেবল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

‘অ’পরদিকে ভ্যাক্সিন নিয়ে যে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য দায়ী সরকারি নীতি-নির্ধারক ও তাদের কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় সেশনজটে পড়ে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থীর চাকরি ও টিউশনও নেই।’শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, একটি দৈনিক পত্রিকার জ’রিপে দেখা গেছে, গত ৫ মাসে প্রায় ৩৯ জন ঢাবি শিক্ষার্থী নিজ এলাকায় হা’মলার শিকার হয়েছেন। ৮০ জন শিক্ষার্থী হয়’রানির শিকার হয়েছেন। সর্বশেষ, ঢাবি ক্যাম্পাসেই ঢাবি ছাত্র হাফিজুর রহমানের অস্বাভাবিক ও নি’র্মম মৃ’ত্যু আম’রা প্রত্যক্ষ করেছি। আম’রা বলতে চাই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাই এসবের জন্য দায়ী।

‘আম’রা আরো বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করেছি, শিক্ষামন্ত্রী এই অনলাইন প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় নিজেই কয়েকবার ডিসকানেক্টেড হয়ে গিয়েছেন। এছাড়াও, গতকাল বিবিসি বাংলায় সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় ঢাবি ভিসি নিজেও টানা তিনবার ডিসকানেক্টেড হন। সর্বোচ্চ সুবিধাজনক অবস্থায় থেকে তাদের ইন্টারনেটের যদি এমন বেহাল দশা হয়, সেক্ষেত্রে কোন বিবেচনায় তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনলাইন ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন? আম’রা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কাছে এই প্রশ্ন রাখছি।’

তিনি বলেন, সম্প্রতি ইউনিসেফের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের মা’র্চ থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের মতো এত দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশসহ কেবল ১৩টি দেশে। এই ১৩টি দেশের মধ্যে রয়েছে পানামা, বলিভিয়া, এল সালভাদরের মতো দেশগুলো। আর এসব দেশে এ দীর্ঘ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে ১৬৮ মিলিয়ন শিক্ষার্থী।

আসিফ মাহমুদ বলেন, আচঁল ফাউন্ডেশন দাবি করছে, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে আত্মহত্য ৪৪.৩৬% বেড়েছে। নি’হত ব্যক্তিদের মধ্যে ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী রয়েছেন ৪৯ শতাংশ, ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী ৩৫। জানা গেছে, যু’ক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিবেদন ‘পুলসওয়ান’-এ গত বছর প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের মধ্যে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব চলাকালীন মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া’

শিরোনামে এক গবেষণা নিবন্ধ অনুসারে ৭৬ শতাংশ শিক্ষার্থী হতাশায় রয়েছেন, ৭১ শতাংশ উদ্বেগ এবং ৭০ শতাংশ মানসিক চাপের মধ্যে নিমজ্জিত। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) এ গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামঞ্চলের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সময় কমে গেছে ৮০ শতাংশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর দে’র সূত্রমতে, দেশের প্রায় সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থীর দৈনিক ১৮ কোটি শিক্ষাঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এই বন্ধের কারণে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার একই দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সেখানে তারা চার দফা দাবি উপস্থাপন করেন।তাদের দাবিগুলো হলো- ২৯ মে’র পর ছুটি বৃদ্ধি করা যাবে না, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হল খুলে দিয়ে পরীক্ষা নিতে হবে, অনতিবিলম্বে হাফিজুর রহমানের মৃ’ত্যুর’হস্য উদঘাটন করে দোষীদের শা’স্তির আওতায় আনতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভির আওতায় আনতে হবে ও সার্বক্ষণিক মনিটরিং করতে হবে।