
রংধনু আসরের কাছের ও দূরের শিশু-কিশোর বন্ধুরা, কেমন আছে তোমরা? আশা করি সুস্থ দেহ ও সুন্দর মন নিয়ে ভালোভাবেই লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছো। আজকের আসরে তোমাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশিদ এবং আমি আকতার জাহান।
আকতার জাহান: বন্ধুরা তোমরা নিশ্চয়ই জানো যে, শরীরকে সুস্থ এবং মনকে নির্মল রাখতে হলে নিয়মিত শরীর চর্চা অর্থাৎ ব্যায়াম করতে হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন, শিশুকাল থেকে শুরু করে বৃদ্ধকাল পর্যন্ত সবারই শারীরিক সুস্থতার জন্য ব্যায়াম করা দরকার। একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্ম হিসেবে ইসলামেও শরীর চর্চার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
গাজী আবদুর রশিদ: আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে নিয়মিত ব্যায়াম করতেন। এছাড়া তিনি নির্দোষ খেলাধুলা, ঘোড়দৌঁড়, কুস্তি ও তীর নিক্ষেপ চর্চার জন্য অন্যদেরকে উপদেশ দিতেন। তিনি মুসলিম সমাজের নেতা ও সামরিক কমান্ডার হিসেবে সাহাবিদের সামরিক শক্তি বাড়ানোর জন্য নানা ধরণের প্রতিযোগিতার আয়োজন করতেন। মাঝে মধ্যে তিনি নিজেও এসব প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন। রাসূলেখোদা বলতেন, “পিতার ওপর সন্তানের অধিকার হলো হলো, পিতা সন্তানকে লেখাপড়া, সাঁতার ও তীর-চালনা শেখাবে।”
আকতার জাহান: ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিটি মানুষেরই দায়িত্ব হচ্ছে তার দেহকে রক্ষা করা অর্থাৎ শরীরের যত্ম নেয়া। মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (স.) শরীর বা দেহের বা অধিকার সম্পর্কে বলেছেন, “তোমার ওপর তোমার পালনকর্তার অধিকার রয়েছে, তোমার ওপর তোমার শরীরের অধিকার রয়েছে এবং তোমার ওপর তোমার পরিবারের অধিকার রয়েছে।”
গাজী আবদুর রশিদ: শারীরিক শক্তি হচ্ছে, আল্লাহতায়ালার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। এজন্য রাসূল (সা.) বলেছেন- ‘যে ঈমানদার ব্যক্তির শারীরিক শক্তি আছে, তিনি শ্রেষ্ঠ ও আল্লাহর নিকট প্রিয়।’ কারণ ইবাদত করার জন্য শারীরিক শক্তি প্রয়োজন। আল্লাহর পথে সংগ্রাম করার জন্যও শক্তি প্রয়োজন। তিনি আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে তার জন্য অর্থ-সম্পদের চেয়ে স্বাস্থ্যই বেশী মূল্যবান।
আকতার জাহান: শুধু তাই নয়, রাসূল (সা.) পাঁচটি অমূল্য সম্পদ হারানোর পূর্বে পাঁচটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেছেন। এগুলোর একটি হলো, রোগাক্রান্ত হবার পূর্বে স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেয়া। স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে মানবদেহ দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে বার্ধক্য আসার পূর্বেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে নিশ্চিত মৃত্যুমুখে পতিত হতে হয়। এ জন্য শরীরের প্রতি যত্ম নেয়ার প্রতি রাসূলে খোদা গুরুত্ব দিয়েছেন।
গাজী আবদুর রশিদ: এক সাহাবী সারাদিন রোজা রাখতেন আর রাতভর নামাজ পড়তেন। রাসূল (সা.) তাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘নিশ্চয় তোমার ওপর তোমার শরীরের হক আছে।’
আকতার জাহান: বন্ধুরা, এসব কথা বলার উদ্দেশ্য তোমরা নিশ্চয়ই ধরতে পেরেছো? হ্যাঁ, স্বাস্থ্য রক্ষার অন্যতম মাধ্যম শরীর চর্চা সম্পর্কে আমরা একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। অনুষ্ঠানের শুরুতেই থাকছে একটি গান।
গাজী আবদুর রশিদ: বাংলাদেশের জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসর পরিবেশিত গানটি শুনলে। বন্ধুরা, তোমরা জানো যে, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের প্রস্ফুটিত ফুল। এরাই দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। তাই তাদের সুস্থ, সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠা একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু শিশুরা নানা ধরনের অসুখ-বিসুখে ভোগে। এসব রোগ থেকে বেঁচে থাকার জন্য দিনে অন্ততপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা প্রয়োজন। ব্যায়াম বলতে স্কুলের পিটি, প্যারেড কিংবা খেলাধুলাও হতে পারে। স্কুলের পরে এবং রাতে খাবারের আগে শিশুদেরদের অবশ্যই শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা উচিত। শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য সংসারের ছোটখাট কাজও করা যেতে পারে। এতে শিশুর মনোবল দৃঢ় হবে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়বে ।
আকতার জাহান: প্রশ্ন আসতে পারে, শিশুরা কি ধরনের ব্যায়াম করবে? এ ব্যাপারে চিকিৎসকরা বলে থাকেন, বিভিন্ন খেলাধুলা যেমন- হাডুডু, ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, বাস্কেটবল, সাইকেল চালানো, টেনিস, সাঁতার কাটা, জগিং, হাঁটা, দৌড়ানো প্রভৃতির মাধ্যমে শিশুরা শরীর চর্চা করতে পারে। তবে এসব করতে গিয়ে পড়াশুনার ক্ষতি করা যাবে না। সব কিছু করতে হবে নিয়মমাফিক। অর্থাৎ পড়ার সময় পড়া এবং খেলার সময় খেলাধুলা করলেই উভয়ক্ষেত্রে সফলতার দেখা পাওয়া যাবে।
গাজী আবদুর রশিদ: বন্ধুরা, তোমরা যখন সহপাঠী ও বন্ধুদের সাথে কুস্তি কিংবা পাঞ্জা লড়ো অথবা শক্তি পরীক্ষার জন্য অন্য কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নাও তখন বিজয়ী হলে নিশ্চয়ই খুশির সীমা থাকে না। রাসূল (সা.) এর যুগেও একবার দুই কিশোরের মধ্যে কুস্তি প্রতিযোগিতা হয়েছিল।
আকতার জাহান: এক যুদ্ধের আগে রাসূলেখোদা তাঁর বাহিনীতে যোগদানে ইচ্ছুকদের শারীরিক সামর্থ যাচাই এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের মূল বাহিনী থেকে আলাদা করছিলেন। এদের মধ্যে রাফে ও সামারাহ নামক দুটি কিশোরও ছিল। তাদেরকে যখন সেনাবাহিনী থেকে আলাদা করে দেয়া হচ্ছিল, তখন রাফে তার পায়ের অগ্রভাগের ওপর ভর করে দাঁড়ালো। যেন লম্বায় তাকে কিছু বড় দেখায় এবং তাকে যুদ্ধে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়। এই কৌশলের মাধ্যমে সে সেনাবাহিনীতে যোগদানের সুযোগ পায়।
গাজী আবদুর রশিদ: কিন্তু সামারাহ সেনাবাহিনীতে থাকার অনুমতি না পেয়ে রাসূল (সা.) এর কাছে গিয়ে বললো, হে রাসূলুল্লাহ! রাফেকে যখন সেনাবাহিনীতে থাকার সুযোগ দিচ্ছেন তখন আমাকেও থাকার অনুমতি দিন। কারণ আমি তাকে কুস্তি প্রতিযোগিতায় পরাজিত করতে পারি।’
আকতার জাহান: এ কথা শুনে রাসূল (সা.) তাদের দু’জনের মধ্যে কুস্তির আয়োজন করলেন। তুমুল লড়াইয়ের পর সামারাহ রাফেকে পরাজিত করলো। রাসূলেখোদা খুশী হয়ে তাকেও সেনাবাহিনীতে নিয়ে নিলেন।
গাজী আবদুর রশিদ: এ ঘটনাটি থেকে আমরা শারীরিক শক্তির গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারলাম। তো তোমরা সবাই শক্তিশালী হবার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করবে- কেমন? তো বন্ধুরা, এবারে রয়েছে, একটি কবিতা। দেশপ্রেম’ শীর্ষক কবিতাটি লিখেছেন কবি নাঈম আল ইসলাম মাহিন। আর আবৃত্তি করেছে আদিয়ান আল ইসলাম।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৫
bangla news।






