প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

মৃ ত্যুর আগে রোগীকে কালেমা পাঠ করে শোনালেন হিন্দু চিকিৎসক

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

ক’রোনাভা’ইরাসে আক্রা’ন্ত একজন মুসলিম রো’গী হাসপাতালে চিকিৎ’সা নিচ্ছিলেন। মুমূর্ষু অব’স্থায় তাকে ভেন্টিলেটর সহায়তায় রাখা হয়। পরিবারের কারো তার কাছে যাওয়ার অনুমতি ছিল না। তাই তার মৃ’ত্যুর আগে তাকে কালেমা শাহাদাত পাঠ করে শোনান দায়িত্বরত এক হিন্দু চিকি’ৎসক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হিন্দু ধ’র্মাবলম্বী এ চিকি’ৎসক নিজে’র মহৎক’র্মে সবার কাছে ব্যা’পক প্রশংসিত হোন।

ক’রোনা ম’হামা’রিকালে সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে ডা. রেখা কৃষ্ণ কেরালার পলাক্কাদ জে’লার সেভানা হসপিটাল এন্ড রিসার্চ সেন্টারে চিকিৎ’সাসেবা দিতেন। সেখানে চিকিৎ’সারত একজন ‍মুসলিম রো’গী মৃ’ত্যুশয্যায় শায়িত ছিলেন। চিকি’ৎসক রো’গীর কানের কাছে এসে কলেমা (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ) পাঠ করে শোনান। (অর্থ – আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর রাসুল)। এর কিছুক্ষণ পর কয়েক বার শ্বা’স নিয়েই ওই রো’গী মা’রা যান।

ডা. কৃষ্ণ ব্য’তিক্রমী এ ঘ’টনার বিবরণ নিজে’র সহক’র্মী চিকি’ৎসকের কাছে বর্ণনা করেন। পরবর্তীতে তিনি এ ঘ’টনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্র’কাশ করেন। তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ভাইরাল হয় এবং ব্যা’পকভাবে প্রশংসিত হয়। ডা. রেখা কৃষ্ণের মহৎক’র্মে সবাই তাঁকে সাধুবাদ জা’নায়।

ডা. কৃষ্ণ জা’নান, প্রয়াত রো’গী কভিড-১৯ এ আক্রা’ন্তের পর নিউমোনিয়া হয়। গত দুই সপ্তাহ ধ’রে তাঁকে ভেন্টিলেটর সহায়তায় রাখা হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকি’ৎসকরা অ’নুভব করেন যে, তাঁরা তাকে বাঁ’চানোর জন্য তেমন কিছু ক’রতে পারেন না।

অতঃপর তাকে ভেন্টিলেটর থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় এবং আত্মীয়দের তার অবস্থা স’ম্পর্কে অবহিত করা হয়। এদিকে কো’ভিড-১৯ আক্রা’ন্ত মুমূর্ষ রো’গীর কথা জানতে পেরে ডা. কৃষ্ণা তাঁর কাছে আসেন এবং মৃ’ত্যুর আগে তাঁর কানের কাছে এসে কলেমা পাঠ করেন।

ডা. কৃষ্ণ বলেন, এটি আমা’র কোনো পরিকল্পিত কাজ ছিল না। বরং তা আকস্মিকভাবে করেছি। মূলত আমি দুবাই জ’ন্মগ্রহণ করেছি এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেছি। তাই মুসলিম সম্প্রদায়ে প্রচলিত বিভিন্ন নিয়ম-নীতি স’ম্পর্কে আমা’র জা’নাশোনা আছে।

ডা. কৃষ্ণ আরো বলেন, উপসাগরীয় ওই দেশে থাকাকালে আমা’র বিশ্বা’সের কারণে কখনও বৈষম্যের শি’কার হইনি। তাই যখন সুযোগ পেলাম তখন প্রাপ্ত সম্মান ফিরিয়ে দিলাম। আমি এটিকে ধ’র্মীয় রীতি বলে মনে করি না; বরং মানবিক কাজ হিসেবে তা আমি করেছি।’

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস