প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

ফিরছেন ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ সিনেমার সেই দুই শিশুশিল্পী

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

‘আমি তোমাকে আরো কাছে থেকে, তুমি আমাকে আরো কাছে থেকে; যদি জানতে চাও’ গানটি দর্শকমহলে তুমুল জনপ্রিয়। ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ব্যাপক জনপ্রিয় সিনেমা ‘ছুঁয়ে দিলে মন’র গান এটি।

গানটির পাশাপাশি ছবিতে এখানে অ’ভিনয় করেছিলেন দুই শি’শুশিল্পী পিদিম ও অর্পা। আরেফিন শুভ ও জাকিয়া বারী মম’র ছোটবেলার আবির ও নীলা চরিত্রে দেখা গিয়েছিলো তাদের। সিনেমা মুক্তির পর মূল তারকাদের পাশাপাশি এই দুই শি’শুশিল্পীও দর্শকমহলে দারুণ পরিচিত পায়।

এখনো অনেকেই জানতে চান, তারা কোথায় আছেন, কি করছেন! খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেই ছোট্ট পিদিম এখন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএসই বিষয় নিয়ে পড়ছেন এবং অর্পা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্ততি নিচ্ছেন। সম্প্রতি কথা হয় এ দুই খুদে তারকার সঙ্গে।

পিদিমের মিডিয়াতে আসা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী’র হাত ধরে। ২০০০ সালে এ নির্মাতার ‘প্রতিচুনিয়া’ নাট’কে প্রথম অ’ভিনয় করেন তিনি। এরপর কাজ করেছেন ২০০ এরও অধিক নাট’ক ও টেলিছবিতে। কাজ করেছেন বেশ কিছু বিজ্ঞাপনেও। অন্যদিকে, ২০১২ সালে আলফা বলপেনের বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান অর্পা। এরপর কাজ করেছেন বেশ কিছু বিজ্ঞাপন ও নাট’কে।

পিদিম বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, আমা’র বাবা ছিলেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী’ আংকেলের প্রথম চিফ এসিস্ট্যান্ট। সেই সুবাদে বাবার সঙ্গে সেসময় শুটিংয়ে যাওয়া হতো আমা’র। ‘প্রতিচুনিয়া’ নাট’কের শুটিংয়ের সময় একজন বাচ্চার প্রয়োজন ছিলো। পরে ফারুকী’ আংকেল আমাকে অ’ভিনয় করতে বলেন। এভাবে বেশ কিছু নাট’কে কাজ করা হয় আমা’র। এভাবে কিছুটা সময় যাওয়ার পর ফারুকী’ আংকেল আমাকে অ’ভিনয় নিয়ে পরাম’র্শ দেন, গ্রুমিং করেন।

ফারুকী’ আংকেল ও আমা’র বাবা দুজনের কাছ থেকে অ’ভিনয়ের অনেক কিছু শিখেছি আমি। তারপর অসংখ্য নাট’ক ও টেলিফিল্মে কাজ করি আমি। ২০০২/০৩ সালে একটা রেংকসটেলের একটি বিজ্ঞাপন করেছিলাম আমি। সেসময় এটি ভাই’রাল ছিলো। এই কাজটির কারণে আমাকে একটু একটু চিনতে পারে তখন। বাইরে কোথাও গেলে সবাই আমাকে বলতো, ‘আপনি কি অ’ভিনয় করেন?, আপনাকে টিভিতে দেখেছি, এরকম কিছু’।

অনেক নাট’কে অ’ভিনয় করলেও আমা’র তখন ইচ্ছে জাগে সিনেমা করার। শুধু এই প্লাটফর্মটাই বাকি আছে। ঠিক তখনই শিহাব শাহীন আংকেল আমাকে ডাক দেন। আমা’র মধ্যে কি দেখেছেন কিংবা কেন ডাক দিয়েছেন, আমি আজও জানিনা। উনি আমাকে গল্প শুনালেন এবং বিস্তারিত সবকিছু বললেন। আমি রাজি হয়ে গেলাম। আমা’র এখনো মনে আছে ২০১৪ সালের মে মাসের ২৪ তারিখ শুটিং করতে সিলেট গিয়েছিলাম। সবকিছু আমা’র জন্য দারুণ এক অ’ভিজ্ঞতা ছিলো। আমা’র সঙ্গে ছিলো অর্পা। খুবই নাইস ও দারুণ একটি মে’য়ে। চ’মৎকার অ’ভিনয় করে সে। এরকম একটা প্রজেক্টে কাজ করার অনুভূতিটাই সেসময় অন্যরকম ছিলো। ছবিটা মুক্তি পাওয়ার পর এতো বেশি সাড়া পেয়েছি যা আমি কখনো কল্পনাও করিনি। এটা আমা’র কাছে স্বপ্নের মতো ছিলো।

নতুন করে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ছবিটার পর আমি আমা’র বাবার পরিচালনায় সর্বশেষ কাজ করি ২০১৬ সালে ‘সাদা কালো রঙিন’ নামের একটি নাট’কে। এটা মাহফুজ আহমেদ আংকেলের প্রোডাকশনের কাজ ছিলো। আমা’র পড়াশোনার চাপ এবং সবকিছু মিলিয়ে এরমধ্যে অনেক কাজের প্রস্তাব পেলেও আর অ’ভিনয় করা হয়নি। ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। কিন্তু এখন আমি আবারো কাজে ফিরবো। এখন চাপ একটু কম আছে। পড়াশোনা কিংবা অন্য সব কাজে আমা’র আলসেমি থাকলেও একমাত্র অ’ভিনয় নিয়ে কোনো আলসেমি নেই। এই বিষয়টা আমি খুব উপভোগ করি। অ’ভিনয় করতে আমা’র খুব ভালো লাগে।

অন্যদিকে অর্পা বলেন, ২০১২ সালে বিজ্ঞাপন দিয়েই আমা’র কাজ শুরু। এরপর বেশকিছু বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি। তারপর ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অল্প অল্প প্রে’মের গল্প’ সিনেমায় শি’শুশিল্পী হিসেবে অ’ভিনয় করি। এরপর শিহাব শাহীন আংকেলের ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ সিনেমা’র জন্য প্রস্তাব পাই। এই ছবিটি থেকে এতো বেশি সাড়া ও ভালোবাসা পেয়েছি, যা ভোলার নয়। তখন আমি অনেক ছোট ছিলাম।

এখনো যখন কোথাও যাই তখন মানুষ আমাকে দেখে বলে, ‘আপনি কি ছুঁয়ে দিলে মন সিনেমায় অ’ভিনয় করেছিলেন না?’। আমি এত অ’বাক হই, কারণ এরমধ্যে আমা’র অনেক পরিবর্তন এসেছে। তারপরও মানুষ আমাকে চিনে কী’ভাবে! আমি যখন এবার বইমেলাতে গিয়েছিলাম তখনো একই কাহিনি দেখি। তখন আমি আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করি যে, আমাকে চিনলেন কী’ভাবে! তারা বলে, দেখেই চিনে ফেলেছি। আমি সত্যিই খুব অ’বাক হই। তবে এই ভালোবাসাটা সত্যি অনেক বড় পাওয়া।

তিনি আরও বলেন, আমা’র আসলে ক্যামেরার পেছনে কাজ করার খুব ইচ্ছা। এটা প্যাশন থেকে। আমি গত কয়েক বছর ধরেই সহকারী পরিচালক হিসেবে বেশ কিছু প্রোডাকশনের কাজ করছি। এতে করে অনেক কিছু শিখা যায়। এটা করতে গিয়ে আমি শিখছি অ’ভিনয় নিয়ে কী’ভাবে কি করতে হয়! এরমধ্যে শিহাব শাহীন আংকেলের ওয়েব ফিল্ম ‘দ্বিতীয় কৈশোর’এও কাজ করেছিলাম। আমা’র ইচ্ছা পরিচালনা শেখার। এর পাশাপাশি সুযোগ থাকলে হয়তো ক্যামেরার সামনে অ’ভিনয় করবো। এরমধ্যে কিছু প্রস্তাবও পেয়েছি কিন্তু এখন একটু পড়াশোনার চাপে তা ফিরিয়ে দিতে হয়েছে।