
কে জিতবে, আতঙ্ক নাকি আনন্দ। শেষ হাসিটা কিন্তু হেসেছে-আনন্দই। এর রেশও রয়ে গেছে দেশজুড়ে। বলছিলাম বরিশালের এক বিয়ের কথা। অজোপাড়াগাঁয়ের অখ্যাত বর-কনে হঠাৎ করে লোকজনের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন।
কী’ এমন কারিশমা দেখালেন তাদের পরিবার, যা রীতিমতো ভাই’রাল হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে? ঘূর্ণিঝড় ইয়াসকে বৃদ্ধাঙ্গু’লি দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত বিয়ে হলো।
কনে যাচ্ছেন বরের বাড়ি। পুরনো দিনের পালকি না হোক, হাল আমলে সাধ্যমতো তিন-চাকা বা চার চাকার বাহন তো জোটে বর-কনের ভাগ্যে। এখানে অবশ্য পরিবহন জোটেনি, কিন্তু বহন করতে হয়েছে কোলে নিয়ে।
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজে’লার রহমতপুর ইউনিয়নের নতুনচর এলাকা। মো. আবুল কালামের মেয়ের বিয়ের তারিখ আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল ২৬ মে। এর মধ্যেই চলে আসে ঝড়-বৃষ্টি জলোচ্ছ্বাস।
একদিকে ঘর বাধার আয়োজন, অন্যদিকে বাঁধ ভেঙে পানিতে সয়লাব পুরো এলাকা। পার্শ্ববর্তী গৌরনদী থেকে বরপক্ষ কনের বাড়িতে ভালভাবেই গিয়েছিলেন। কিন্তু ফিরতে হলো অনেকটা পানিতে ভেসে।
পানির হানায় অবশ্য ম্লান হয়নি বিয়ের অনুষ্ঠান। বরং তা পায় ভিন্ন মাত্রা। দু’পক্ষের স্বজনরাই এগিয়ে আসেন ত্রাতা হয়ে। বর-কনে আর শি’শুদের কোলে তুলে পৌঁছে দেন উঁচু রাস্তা পর্যন্ত। যে কারণে বিয়ের আনন্দ ম্লান হয়নি। প্রাকৃতিক দু’র্যোগ সাধারণত স্মৃ’তি রেখে যায় বিভিন্নভাবে। কিন্তু তা যে এমন অম্লমধুর হবে, কে জানতো তার পূর্বাভাস?






